কক্সবাজার শহরে গ্যাসপাম্পে বিস্ফোরণ, পুড়ছে ঘরবাড়ি, আতঙ্ক

· Prothom Alo

কক্সবাজার শহরের কলাতলী এলাকায় একটি এলপিজি (তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস) পাম্পে বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। আগুন ছড়িয়ে পড়েছে আশপাশের ঘরবাড়িতে। বুধবার রাত নয়টার দিকে কলাতলীর হোটেল–মোটেল জোনের পূর্ব দিকে আদর্শগ্রামে ওই পাম্পে বিস্ফোরণ হয়। আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছে ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট ও সেনাবাহিনী।

ওই পাম্পটির নাম এন আলম এলপিজি গ্যাসপাম্প। সেটি সম্প্রতি নির্মাণ করা হয়েছে। বিস্ফোরণের পর আগুনে ১০ থেকে ১২ জন দগ্ধ হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। তাঁদের একজনের অবস্থা গুরুতর বলে জানা গেছে।

Visit raccoongame.org for more information.

কক্সবাজারের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (ডিএসবি) অলক বিশ্বাস রাত সাড়ে ১২টায় প্রথম আলোকে বলেন, সেনাবাহিনী, পুলিশসহ ফায়ার সার্ভিসের সাতটি ইউনিট আগুন নেভানোর কাজ করছে। আগুন এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণে আনা যায়নি। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে আরও কিছুটা সময় লাগতে পারে।

কক্সবাজার শহরের কলাতলী আদর্শগ্রামে গ্যাসপাম্পে বিস্ফোরণের পর আগুন ধরে যায়। সেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে আশপাশের ঘরবাড়িতে। আতঙ্কে লোকজন ঘরবাড়ি ছেড়ে নিরাপদে দূরত্বে সরে যান। বুধবার রাতের চিত্র

এলপিজি গ্যাসপাম্পটি কক্সবাজার শহরের কলাতলী বাইপাস সড়কের আদর্শগ্রামের টিঅ্যান্ডটি টাওয়ারের দক্ষিণ পাশে চন্দ্রিমা হাউজিং সোসাইটিতে প্রবেশের মুখে অবস্থিত। এই সড়ক দিয়ে ঢাকা-চট্টগ্রামসহ দূরপাল্লার পরিবহনগুলো শহরে প্রবেশ করে। গ্যাস পাম্পের আশপাশে রয়েছে অন্তত পাঁচ শতাধিক বসতবাড়ি। কিছুটা দূরে (পশ্চিমে) কলাতলী হোটেল–মোটেল জোন, সেখানে রয়েছে দুই শতাধিক বহুতল ভবনের হোটেল-রেস্তোরাঁ। আর পূর্ব পাশে রয়েছে পুলিশ লাইনস, জেলা কারাগারসহ একাধিক আবাসিক ভবন। গ্যাসপাম্প থেকে ছড়ানো আগুন রাত ১১টার মধ্যে কলাতলী-আদর্শগ্রামসহ দুই কিলোমিটার এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে। আতঙ্কে আশপাশের বাসিন্দারা এদিন–ওদিক ছুটতে থাকেন। নারীরা আশ্রয় নেন পাহাড়ের বিভিন্ন জায়গায়।

পুলিশ ও ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, সন্ধ্যার পর পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত (লিকেজ) হয়ে আগুন ধরে যায়। পাম্পের কর্মচারীরা বালু ও পানি ছিটিয়ে তা বন্ধ করেন। কিছুক্ষণ পর বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুনরায় আগুন ধরে যায়। পরবর্তী সময়ে সেই আগুন চারদিকে ছড়াতে থাকে।

রাত সাড়ে ১১টার দিকে ঘটনাস্থল থেকে কক্সবাজার হোটেল রিসোর্ট মালিক সমিতির সাধারণ সম্পাদক মুকিম খান প্রথম আলোকে বলেন, এন আলম এলপিজি গ্যাসপাম্পটি কয়েক দিন আগে চালু করা হয়। বুধবার সন্ধ্যা সাড়ে সাতটার দিকে পাম্পের ট্যাংক থেকে গ্যাস নির্গত হয়ে আগুন ধরে গেলে কর্মচারীরা তা নিভিয়ে ফেলেন। এরপর ট্যাংকে জমে থাকা গ্যাস ছেড়ে দেন। রাত সাড়ে নয়টার দিকে ওই গ্যাস ট্যাংকে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটে এবং পুনরায় আগুন ধরে যায়। নাশকতার উদ্দেশ্যে কেউ পরিকল্পিতভাবে ট্যাংকে আগুন লাগিয়ে দিতে পারে।

মুকিম খান বলেন, আগুন দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ায় লোকজনের মধ্যে আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। রাত আটটা থেকে বিদ্যুৎ–সংযোগ বন্ধ থাকায় কলাতলী হোটেল–মোটেল জোন এলাকার অন্তত দুই শতাধিক হোটেল-রেস্তোরাঁ অন্ধকারে রয়েছে।

আদর্শগ্রামের নারী উদ্যোক্তা নাজমা আকতার ফেসবুকে লিখেছেন, এলাকায় পাম্প বিস্ফোরণ ঘটেছে। আদর্শগ্রামের সবাই এখন ডিসি পাহাড়ে (টিঅ্যান্ডটি) অবস্থান করছেন।

আদর্শগ্রামের বাসিন্দা ব্যবসায়ী কলিম উল্যাহ বলেন, চার দিন আগে নতুন গ্যাস পাম্পটি উদ্বোধন করা হয়। সেখানে কয়েকটি ট্যাংকে অন্তত ৪০-৫০ হাজার লিটার গ্যাস মজুত করা হয়েছিল। রাতের বিস্ফোরণে সব গ্যাস নির্গত হয়ে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে অনেক ঘরবাড়ি পুড়ে গেছে। ঘরবাড়িতে থাকা গ্যাস সিলিন্ডার থেমে থেমে বিকট শব্দে বিস্ফোরণ ঘটছিল।

Read full story at source