মা–বাবাকে হেলিকপ্টারে চড়িয়ে স্বপ্ন পূরণ করলেন প্রবাসী ছেলে
· Prothom Alo

প্রায় এক যুগ প্রবাসে আছেন জাহাঙ্গীর আলম। তাঁর স্বপ্ন ছিল, মা–বাবাকে হেলিকপ্টারে চড়াবেন। আজ বৃহস্পতিবার সকালে ঢাকায় ফিরে তিনি মা–বাবাকে নিয়ে হেলিকপ্টারে চড়ে গ্রামের বাড়িতে আসেন।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
জাহাঙ্গীর আলম টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলার মাচিয়া গ্রামের আবুল হাশেম ও মা রিজিয়া খাতুন দম্পতির ছেলে। তিনি সিঙ্গাপুর থেকে আজ সকালে ঢাকার হজরত শাহজালাল (রহ.) আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উড়োজাহাজে করে আসেন। এর আগেই তাঁর মা–বাবা ঢাকায় এসে উপস্থিত হন। পরে বেলা একটার দিকে তেজগাঁও থেকে হেলিকপ্টার করে মা–বাবা, স্ত্রীসহ তিনি মাচিয়া গ্রামে ফেরেন। হেলিকপ্টার ভাড়া বাবদ তাঁর খরচ হয়েছে ১ লাখ ৩০ হাজার টাকা।
এ বিষয়ে জাহাঙ্গীর আলম বলেন, ‘আমার স্বপ্ন ছিল একদিন আমার বৃদ্ধ মা–বাবাকে হেলিকপ্টারে চড়াব। আজ দীর্ঘদিন পর সেই স্বপ্ন পূরণ হয়েছে।’
স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, প্রায় এক যুগ আগে শ্রমিক ভিসায় সিঙ্গাপুর যান জাহাঙ্গীর আলম। সেখানে গাড়ি চালনার প্রশিক্ষণ নিয়ে তিনি ধাপে ধাপে প্রথম শ্রেণির চালকে উন্নীত হন। শুরুতে তাঁর মাসিক আয় ছিল প্রায় দুই লাখ টাকা। বর্তমানে তাঁর মাসিক বেতন ছয় লাখ টাকা। তিন মাস আগে স্ত্রীকে মিম আখতারকে সিঙ্গাপুরে নিয়ে যান তিনি। আজ সকালে জাহাঙ্গীর আলম সস্ত্রীক দেশে ফেরেন।
হেলিকপ্টারে করে গ্রামের বাড়িতে আসার খবরে সকাল থেকেই আশপাশের এলাকার মানুষ মাচিয়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় মাঠে ভিড় করেন। বেলা একটার দিকে হেলিকপ্টারটি মাঠে অবতরণ করে। হেলিকপ্টার থেকে নামার পর স্বজন ও গ্রামবাসী ফুল দিয়ে জাহাঙ্গীর আলমকে শুভেচ্ছা জানান।
জাহাঙ্গীর আলমের চাচাতো ভাই লিটন আহমেদ বলেন, ‘বাবা–মায়ের প্রতি সন্তানের ভালোবাসা দেখে আমরা সবাই আপ্লুত। এই মাঠে প্রথমবার হেলিকপ্টার নামায় এলাকাবাসী খুবই আনন্দিত।’
সখীপুর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) সজল খান বলেন, হেলিকপ্টার অবতরণের খবর পেয়ে আগেভাগেই ঘটনাস্থলে পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছিল। উৎসুক জনতাকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশকে বেশ বেগ পেতে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত পরিস্থিতি স্বাভাবিকই ছিল।