ওসির সামনে ইজারাদারের কাছে যুবদল নেতার ‘চাঁদা’ দাবির ভিডিও ভাইরাল

· Prothom Alo

নাটোরের গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সামনে হাট ইজারাদারের কাছ থেকে যুবদলের এক নেতার প্রকাশ্যে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করার একটি ভিডিও ছড়িয়ে পড়েছে। গতকাল বৃহস্পতিবার উপজেলা পরিষদ ভবনে ঘটনাটি ঘটলেও আজ শুক্রবার দুপুরে সেই ঘটনার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।

Visit iwanktv.club for more information.

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, গুরুদাসপুর উপজেলা পরিষদ ভবনের প্রধান ফটকে থানার ওসি শফিকুজ্জামান সরকার দাঁড়িয়ে আছেন। তাঁর পাশে চন্দ্রপুর তুলাধুনা হাটের ইজারাদার ওবায়দুল ইসলামসহ (তপু) ৮ থেকে ১০ জন দাঁড়িয়ে আছেন। এ সময় হালকা গোলাপি রঙের গেঞ্জি পরা এক যুবক হাত উঁচিয়ে ওবায়দুল ইসলামের দিকে তেড়ে আসেন। সবার সামনেই তিনি তাঁর কাছে পাঁচ লাখ টাকা দাবি করেন। টাকা না দিলে তাঁকে মাটিতে শুইয়ে ফেলবেন বলে হুংকার দেন। তিনি গালাগাল করতে থাকলে ওসি সবাইকে শান্ত হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘রোজার দিন, আপনারা এখন চলে যান।’

গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে হাট ইজারা দেওয়ার ওই সভা ফেসবুকে লাইভ (সরাসরি সম্প্রচার) করছিল একটি ফেসবুক পেজ। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মিলনায়তনে বেশ কয়েকটির হাটের ইজারাদারের নাম ঘোষণা শেষ করলে উপস্থিত লোকজন প্রধান ফটক দিয়ে বের হচ্ছিলেন। তাঁদের বের হওয়ার দৃশ্য দেখানোর সময় চাঁদা দাবির ঘটনাটি ভিডিওতে প্রচারিত হয়।

ইজারাদার ওবায়দুল ইসলাম সাংবাদিকদের জানান, হুংকার দেওয়া যুবকের নাম রাকিবুর রহমান (রাজা)। তিনি গুরুদাসপুরের নাজিরপুর ইউনিয়ন যুবদলের যুগ্ম আহ্বায়ক। তিনিও চন্দ্রপুর তুলাধুনা হাটের ইজারা নেওয়ার জন্য দরপত্র দাখিল করেছিলেন। কিন্তু হাটের দর কম দেওয়ায় হাটটির ইজারা পাননি। সর্বোচ্চ দরদাতা হওয়ায় ইজারা পেয়েছেন তিনি। তিনি গুরুদাসপুর উপজেলা মৎস্য কল্যাণ সমিতির সাবেক সহসভাপতি।

তবে যুবদল নেতা রাকিবুর রহমান চাঁদা দাবির অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘পুলিশ, প্রশাসন ও এত লোকের সামনে চাঁদা কেন চাইতে যাব?’ ছড়িয়ে পড়া ভিডিওর বিষয়ে প্রশ্ন করলে তিনি বলেন, ‘ভিডিওতে যে টাকা চাওয়া হয়েছে, তা চাঁদা না। ওবায়দুলের কাছে এক বছর আগের ধার নেওয়া টাকা চাওয়া হয়েছে।’

গুরুদাসপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুজ্জামান সরকার প্রথম আলোকে বলেন, ‘চাঁদা বা টাকা দাবি করার মতো কোনো ঘটনা ঘটেনি। তবে রাজা (রাকিবুর রহমান) ক্ষোভের বশবর্তী হয়ে তপুকে (ওবায়দুল) বলেছে, “এলাকায় আয়, তোকে দেখে নেব।” এরপরও তপু নিরাপত্তাহীনতায় ভুগলে থানায় লিখিত অভিযোগ দিলে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

Read full story at source