এবার মানিলন্ডারিং আইনে করা মামলায় গ্রেপ্তার সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক

· Prothom Alo

চাঁদাবাজির মাধ্যমে প্রায় ২৫ কোটি টাকা আদায়ের পর তা পাচারের অভিযোগে মানিলন্ডারিং আইনে করা মামলায় সাবেক আইনমন্ত্রী আনিসুল হক ও তাঁর ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) মো. রাশেদুল কাওসার ভুঞা জীবনকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়েছে।

Visit livefromquarantine.club for more information.

পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে সোমবার ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মোহাম্মদ এহসানুল ইসলাম গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন মঞ্জুর করেন।

এর আগে মামলাটির তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির পুলিশ পরিদর্শক মো. আশরাফুল ইসলাম গত ২০ ফেব্রুয়ারি আসামিদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানোর আবেদন করেন। আদালত ওই দিন আসামিদের উপস্থিতিতে গ্রেপ্তার দেখানোর জন্য আজকের দিন ঠিক করেন।

আবেদনে উল্লেখ করা হয়েছে, অভিযুক্ত ব্যক্তিরা পরস্পর যোগসাজশে একটি সংঘবদ্ধ অপরাধ চক্র গঠন করে দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পিতভাবে চাঁদাবাজির মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অবৈধ অর্থ আদায় করেছে বলে সিআইডির ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম ইউনিটের প্রাথমিক অনুসন্ধানে জানা গেছে। চক্রটি ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান, গুলশান শাখার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে প্রতি মাসে ১০ লাখ টাকা করে নিয়মিত চাঁদা আদায় করত বলেও এ অনুসন্ধানে উঠে আসে।

অনুসন্ধানে পাওয়া যায়, অভিযুক্ত মো. কামরুজ্জামান ২০১৫ সালে ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তানের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) হিসেবে যোগদান করেন। যোগদানের পর থেকেই তিনি অভিযুক্ত তৌফিকা করিমের ল ফার্ম ‘সিরাজুল হক অ্যাসোসিয়েটসের’ সঙ্গে নামমাত্র আইনি পরামর্শ চুক্তি সম্পাদনের মাধ্যমে তৌফিকা করিমের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে নিয়মিতভাবে অর্থ স্থানান্তর করতেন।

আবেদনে বলা হয়েছে, ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট পলাতক হওয়ার আগপর্যন্ত শুধু ন্যাশনাল ব্যাংক অব পাকিস্তান থেকেই চক্রটি মোট ১০ কোটি ৮০ লাখ টাকা আদায় করে। এ ছাড়া সিআইডির অনুসন্ধানে তৌফিকা করিমের ব্যক্তিগত ব্যাংক হিসাবে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকেও প্রায় ১০ কোটি ৬০ লাখ টাকা চাঁদা আদায়ের তথ্য পাওয়া যায়।

আবেদনে আরও বলা হয়, আনিসুল হক মন্ত্রী হওয়ার পর তাঁর ঘনিষ্ঠ সহযোগী তৌফিকা করিম ও মো. রাশেদুল কাওসার ভুঞা জীবনকে ব্যক্তিগত সহকারী (পিএস) হিসেবে নিয়োগ দেন। একই সঙ্গে তিনি ‘লিগ্যাল অ্যাসিসট্যান্স টু হেল্পলেস প্রিজনার অ্যান্ড পারসন্স’ নামের একটি এনজিও প্রতিষ্ঠা করেন। ওই এনজিওতে তৌফিকা করিমকে চেয়ারম্যান ও রাশেদুল কাওসার ভুঞা জীবনকে সেক্রেটারি জেনারেল নিয়োগ দিয়ে নিজে ট্রেজারার হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন আনিসুল হক। এই এনজিওর নামে সোনালী ব্যাংক পিএলসি, সুপ্রিম কোর্ট শাখায় পরিচালিত হিসাবের মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে নিয়মিতভাবে চাঁদার অর্থ আদায় করা হতো।

আবেদনে আরও বলা হয়েছে, ২০১৫ সালের ১১ মার্চ থেকে ২০২৪ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত ওই এনজিওর মাধ্যমে মোট ২৪ কোটি ৫৩ লাখ ৬৯ হাজার টাকা চাঁদা আদায়ের তথ্য পাওয়া যায়। মামলাটির তদন্তে প্রাথমিকভাবে আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগের বিষয়ে সাক্ষ্যপ্রমাণ পাওয়া গেছে। মামলাটি তদন্তাধীন। মামলাটি সুষ্ঠু তদন্তের স্বার্থে তাঁদের এ মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো একান্ত প্রয়োজন।

২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গ্রেপ্তার হন আনিসুল হক। সেই থেকে তিনি এখনো কারাগারে আছেন।

Read full story at source