মূল্যস্ফীতি কমাতে বাজার তদারকি বাড়াতে হবে
· Prothom Alo

বেসরকারি খাতে বিনিয়োগ বাড়াতে বিনিয়োগকারীদের আস্থা আরও বাড়াতে হবে। আর সার্বিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নে বাড়াতে হবে কর-জিডিপি অনুপাত। কর আদায়ব্যবস্থা আরও আধুনিক করা প্রয়োজন। এ ছাড়া মূল্যস্ফীতি কমাতে রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির সমন্বয়ের পাশাপাশি বাজার তদারকি বাড়াতে হবে।
Visit solvita.blog for more information.
আজ সোমবার রাজধানীর মতিঝিলে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) মিলনায়তনে ‘বেসরকারি খাতের দৃষ্টিতে বাংলাদেশের অর্থনীতির বর্তমান অবস্থা ও ভবিষ্যৎ সম্ভাবনা’ শীর্ষক সেমিনারে এ কথা বলেন বক্তারা। মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন ঢাকা চেম্বারের সভাপতি তাসকীন আহমেদ।
প্রধান অতিথি হিসেবে অনলাইনে যুক্ত ছিলেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকি।
জুনায়েদ আবদুর রহিম সাকি বলেন, সরকার বিনিয়োগের পরিবেশ উন্নয়নকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। বিনিয়োগ বাড়াতে পুঁজিবাজারও পুনর্গঠন করা হবে। সরকারের লক্ষ্য হলো অর্থনৈতিক গণতান্ত্রিকীকরণ। উন্নতি কেবল অবকাঠামো নয়; সবার জীবনে প্রভাব ফেলতে হবে।
সেমিনারে বাংলাদেশ উন্নয়ন গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (বিআইডিএস) মহাপরিচালক এ কে এনামুল হক বলেন, অর্থনীতিতে মানুষের আস্থা একটি বড় বিষয়। জ্বালানি তেল নিয়ে দেশে ‘প্যানিক বায়িং’ দেখা যাচ্ছে। এর অন্যতম কারণ সরকারের প্রতি মানুষের আস্থার ঘাটতি। সরকারের কাছ থেকে দাম না বাড়ানোর কথা বলা হলেও মানুষ আশ্বস্ত হয়নি। তাই সরকারের উচিত দাম না বাড়িয়ে মানুষকে বোকা প্রমাণিত করা।
এ কে এনামুল হক আরও বলেন, দেশে ব্যবসা সহজীকরণে দীর্ঘদিন ধরে ‘ওয়ান–স্টপ সার্ভিস’ চালুর কথা বলা হলেও বাস্তবে এখনো পুরোপুরি কার্যকর হয়নি। নতুন ব্যবসা শুরু করতে এখনো বহু অনুমোদন নিতে হয়। এর ফলে সময় নষ্ট হয় এবং দুর্নীতির সুযোগ তৈরি হয়।
প্যানেল আলোচনায় র্যাপিডের নির্বাহী পরিচালক মো. আবু ইউসুফ বলেন, মূল্যস্ফীতির বিষয়টি এখন বড় চ্যালেঞ্জ। মূল্যস্ফীতি গত ১০ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। এই মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাজস্বনীতি, মুদ্রানীতি ও বাজার তদারকি ও ব্যবস্থাপনা—এই তিনটি বিষয়ে গুরুত্ব দিতে হবে। বিশেষ করে সরবরাহব্যবস্থা যেন বিঘ্নিত না হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে।
আরও উপস্থিত ছিলেন পরিকল্পনা কমিশনের সাধারণ অর্থনীতি বিভাগের (জিইডি) সদস্য মনজুর হোসেন, অর্থ মন্ত্রণালয়ের অর্থনৈতিক সম্পর্ক বিভাগের (ইআরডি) অতিরিক্ত সচিব এ এইচ এম জাহাঙ্গীর ও বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রধান অর্থনীতিবিদ মোহাম্মদ আখতার হোসেন। প্যানেল আলোচক হিসেবে অনলাইন মাধ্যমে যুক্ত ছিলেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউট অব বাংলাদেশের (পিআরআই) চেয়ারম্যান জাইদি সাত্তার।