মন্থর উইকেটের পুরোনো দিনে আর ফিরবে না বাংলাদেশ

· Prothom Alo

বাংলাদেশের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ খেলতে ৮ মার্চ যখন পাকিস্তান দল ঢাকায় পা রাখল, তখনো টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপের ফাইনাল হয়নি। নিউজিল্যান্ডের বিপক্ষে বিশ্বকাপের ফাইনালে ভারত করেছে ২৫৫ রান। এবারের টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপে অবশ্য এর আগেও তিনবার আড়াই শ পেরিয়েছে দলীয় সংগ্রহ। তবে বাংলাদেশ–পাকিস্তান সিরিজের আগে অনেকেই রসিকতা করে বলেছেন—টি–টুয়েন্টিতে তো হচ্ছে, ওয়ানডেতে আড়াই শ রান হবে তো! সিরিজটা যে হয়েছে মিরপুর শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে!

সবাইকে অবাক করে দিয়ে পাকিস্তানের বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজে বাংলাদেশ এবার আর চিরাচরিত স্পিনিং উইকেট তৈরি করেনি। ব্যাটসম্যান ও বোলারদের সমান সুযোগ দিয়ে সত্যিকারের স্পোর্টিং উইকেটই দেখা গেছে শেরেবাংলা স্টেডিয়ামে। তবে শুধু পাকিস্তানের বিপক্ষে এই সিরিজেই নয়, ভবিষ্যতেও ঘরের মাঠের সিরিজে স্পোর্টিং উইকেটই বানানো হবে বলে জানিয়েছেন বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা বিভাগের প্রধান নাজমূল আবেদীন।

Visit sport-newz.biz for more information.

ঘরের মাঠের সিরিজে বাংলাদেশ দল বরাবর মন্থর উইকেটেই খেলে, যেটি মূলত স্পিনারদেরই সহায়তা দিয়ে থাকে। কিন্তু ঘরের মাঠে এমন উইকেটে খেলে পরে দেশের বাইরে গিয়ে ভুগতে হয় বাংলাদেশ দলকে, বিশেষ করে আইসিসির ইভেন্টে। কারণ, আইসিসির টুর্নামেন্টগুলোতে এখন উইকেট বানানোই হয় ব্যাটসম্যানদের জন্য।

সে চিন্তা থেকেই পাকিস্তানের বিপক্ষে ঘরের মাঠের সিরিজে এবার স্পোর্টিং উইকেট বানানো। তাতে বাংলাদেশকে সফলই বলতে হবে। কারণ, তিন ম্যাচে পাকিস্তানের ৩০ উইকেটের ১৯টিই নিয়েছেন পেসাররা। আবার শেষ ওয়ানডেতে এই উইকেটেই এক শর বেশি স্ট্রাইক রেটে সেঞ্চুরি পেয়েছেন বাংলাদেশের ওপেনার তানজিদ হাসান, সেঞ্চুরি করেছেন পাকিস্তানের সালমান আগাও।

নাজমূল আবেদীন জানিয়েছেন, ভবিষ্যতের কথা মাথায় রেখেই মিরপুরে স্পোর্টিং উইকেট তৈরি করা, ‘এতে যদি আমরা অভ্যস্ত না হই, চ্যালেঞ্জটা যদি না নিতে চাই, সাহস দেখাতে না পারি—তাহলে আমাদের খেলাটা পরের ধাপে যাবে না। যতই স্কিল থাকুক, খেলোয়াড়েরা যতই প্রতিভাবান হোক, যতই অনুশীলন করুক, হবে না। ওই চিন্তা থেকেই চ্যালেঞ্জটা নেওয়া। ভবিষ্যতে যখন খেলা হবে, আগের সেই উইকেট আমরা আর দেখতে পাব না।’

মিরপুর শেরেবাংলা জাতীয় ক্রিকেট স্টেডিয়ামের উইকেট

পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজের আগে বগুড়া আর রাজশাহীতে বিসিএল ওয়ানডেতেও খেলা হয়েছে স্পোর্টিং উইকেটে। ব্যাটসম্যানদের এ ধরনের উইকেটে খেলতে অভ্যস্ত করাটাই ছিল উদ্দেশ্য। বিসিবির ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান অবশ্য জানিয়েছেন, শুধু ম্যাচের উইকেট নয়, তাঁরা বদলাতে শুরু করেছেন অনুশীলনের উইকেটও। জাতীয় দলের ক্রিকেটাররা বেশি অনুশীলন করেন মিরপুরের একাডেমি ও ইনডোরে। সেখানকার কিছু উইকেটের চরিত্রেও এখন ভিন্নতা এসেছে। জাতীয় দলের পাশাপাশি নারী ও বয়সভিত্তিক ক্রিকেটাররাও যেন স্পোর্টিং উইকেটে খেলতে পারেন, সেদিকেও নজর দেবে বিসিবি।

স্পোর্টিং উইকেটের দিকে ঝোঁকার কারণ ব্যাখ্যা করে ক্রিকেট পরিচালনা প্রধান বলেন, ‘স্পোর্টিং উইকেটেই আমাদের আন্তর্জাতিক ক্রিকেট খেলতে হবে। বিশেষ করে যখন আইসিসির ইভেন্টে যাব, এ ধরনের উইকেটেই খেলতে হবে।’ উপলব্ধিটা এখন জাতীয় দলেরও। তারাও চায় এমন উইকেট, যেখানে বোলিংয়ের স্কিল কাজে লাগানোর পাশাপাশি ব্যাটসম্যানরাও রান পাবেন।

গত বছর ওয়ানডেতে টানা চার সিরিজ হেরে বেশ বিপাকে পড়ে গিয়েছিল বাংলাদেশ। হারলে যা হয়, অনেক কিছু নিয়েই প্রশ্ন উঠতে থাকে। সেসব প্রশ্নের মধ্যে ছিল মেহেদী হাসান মিরাজের অধিনায়কত্বও। আগামী জুনে নেতৃত্বের মেয়াদ শেষ করতে যাওয়া মিরাজকে ২০২৭ বিশ্বকাপ পর্যন্ত অধিনায়ক রাখা হবে কি না, পাকিস্তান সিরিজের আগে ডালপালা মেলছিল সে আলোচনাও।

এ ব্যাপারে বিসিবি এখনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত না নিলেও ক্রিকেট পরিচালনা প্রধানের কথায় স্বস্তি পেতে পারেন ওয়ানডে অধিনায়ক, ‘ওর যে সক্ষমতা দেখছি, আমরা তাতে খুশি। আশা করব ও অধিনায়ক হিসেবে এবং একজন খেলোয়াড় হিসেবেও ভালো পারফর্ম করতে থাকবে।’ তা করতে পারলে মিরাজের ওপরই আস্থা রাখতে চায় বিসিবি।

আইসিসির সঙ্গে কথা বলেই বিসিবি নিয়ে সিদ্ধান্ত, বলেছেন আমিনুল

Read full story at source