বিশ্বজুড়ে সব মার্কিন দূতাবাসকে নিরাপত্তা পর্যালোচনা করতে বলেছে ওয়াশিংটন

· Prothom Alo

ইরান যুদ্ধের প্রেক্ষাপটে বিশ্বজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের সব দূতাবাস ও কূটনৈতিক দপ্তরকে অবিলম্বে নিরাপত্তাব্যবস্থা পর্যালোচনা করতে নির্দেশ দিয়েছে পররাষ্ট্র দপ্তর। মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং এর প্রভাব ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা বিবেচনায় নিয়ে এই নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার পররাষ্ট্র দপ্তর থেকে বিশ্বজুড়ে মার্কিন দূতাবাস ও কূটনৈতিক দপ্তরগুলোতে পাঠানো তারবার্তার বরাতে যুক্তরাষ্ট্রভিত্তিক সংবাদমাধ্যম ওয়াশিংটন পোস্ট এ খবর জানিয়েছে।

মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের ওই বার্তায় ‘বিশ্বব্যাপী সব পোস্ট’কে জরুরি কার্যক্রম কমিটি (ইমার্জেন্সি অ্যাকশন কমিটিজ—ইএসি) আহ্বান করতে বলা হয়েছে। এসব কমিটি নানা খাতের প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে হবে, যারা হুমকি চিহ্নিত এবং সে অনুযায়ী পরিকল্পনা প্রণয়ন এবং নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করবে। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ওই বার্তায় সই করেছেন।

Visit chickenroadslot.pro for more information.

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে হামলা চালায়। জবাবে ইসরায়েলের পাশাপাশি প্রতিবেশী দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক–বেসামরিক স্থাপনা লক্ষ্য করে পাল্টা হামলা চালাচ্ছে ইরান। এই প্রেক্ষাপটে গত সপ্তাহগুলোতে মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোতে থাকা মার্কিন কূটনৈতিক পোস্টগুলোতে একই ধরনের বার্তা পাঠিয়েছিল ওয়াশিংটন। তবে এবারের আদেশে প্রথমবারের মতো ইরান যুদ্ধের কারণে বিশ্বব্যাপী যুক্তরাষ্ট্রের সব কূটনৈতিক মিশনে এই বার্তা পাঠানো হয়েছে।

এ বিষয়ে ওয়াশিংটন পোস্টের পক্ষ থেকে যোগাযোগ করা হলে কোনো বক্তব্য দেয়নি মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। তারা বলেছে, অভ্যন্তরীণ যোগাযোগের নথি প্রকাশ ‘সংগত নয়’ এবং ইএসি বৈঠকগুলো তাদের ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা ও প্রস্তুতিমূলক কার্যক্রমের আদর্শ অনুষঙ্গ।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর পর থেকে উপসাগরীয় অঞ্চলের বিভিন্ন দেশে মার্কিন দূতাবাসে হামলা করেছে ইরান। এতে বেশ কয়েকটি মার্কিন কূটনৈতিক মিশন সাময়িকভাবে বন্ধ হয়ে গেছে এবং বেশ কয়েকটি দেশ থেকে নাগরিকদের চলে যেতে বলা হয়েছে।

চলতি মাসে ড্রোন হামলায় সৌদি আরবের রাজধানী রিয়াদে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাসের একাংশ মেরামতের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দূতাবাস ভবনের ছাদের বড় অংশ ধসে পড়েছে এবং অন্যান্য জায়গাও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।

মার্কিন স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলার হুমকিগুলো মূলত মধ্যপ্রাচ্যকেন্দ্রিক হলেও বিশ্বের অন্যান্য জায়গায়ও কয়েকটি ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে কানাডার টরন্টোয় মার্কিন কনস্যুলেটের বাইরে গোলাগুলি হয়েছে এবং নরওয়ের রাজধানী অসলোয় মার্কিন দূতাবাসের বাইরে বিস্ফোরণ ঘটেছে।

বিশ্বজুড়ে মার্কিন কূটনৈতিক মিশনগুলোতে পররাষ্ট্র দপ্তরের এই নির্দেশনা সম্ভাব্য হামলাবিষয়ক গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে কি না, তা স্পষ্ট নয়। তবে পররাষ্ট্র দপ্তরের বার্তাগুলো পর্যালোচনা করে ওয়াশিংটন পোস্ট দেখেছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান ও এর আঞ্চলিক মিত্র গোষ্ঠীগুলো।

গত মঙ্গলবার পাঠানো পররাষ্ট্র দপ্তরের একটি বার্তা অনুযায়ী, ইরাকের সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলো (বিভিন্ন মিলিশিয়া গ্রুপ) ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে মার্কিন স্থাপনাগুলো লক্ষ্য করে ২৯২টি হামলা চালিয়েছে। ওই অঞ্চলে মার্কিন নাগরিকদের ওপর হুমকি অব্যাহত রয়েছে উল্লেখ করে বার্তায় বলা হয়, কিছু ক্ষেত্রে সশস্ত্র লোকজন বাড়ি বাড়ি গিয়ে মার্কিন নাগরিকদের বিষয়ে তথ্য জানতে চেয়েছে।

আরেকটি ঘটনায় গত সপ্তাহান্তে ইসরায়েলে যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক মিশনের সদস্যদের অবস্থান করা একটি অ্যাপার্টমেন্ট ভবনে ইরানের একটি ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হেনেছে, যদিও লক্ষ্যভ্রষ্ট করা ওই ক্ষেপণাস্ত্রের ওয়ারহেড (বিস্ফোরণমুখ) বিস্ফোরিত হয়নি। এতে কেউ হতাহত হয়নি। তবে এ ঘটনা দেখিয়েছে যে সতর্কসংকেত বাজলেই মার্কিন নাগরিকদের আশ্রয়কেন্দ্রে যাওয়াটা গুরুত্বপূর্ণ।

Read full story at source