ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে যানবাহন চলছে থেমে থেমে, দুর্ভোগ চরমে

· Prothom Alo

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে টাঙ্গাইল থেকে যমুনা সেতু পর্যন্ত অতিরিক্ত চাপে ধীরগতিতে কিংবা থেমে থেকে চলছে যানবাহন। মহাসড়কে মির্জাপুর উপজেলার কদিমধল্যা থেকে করটিয়া পর্যন্ত প্রায় ১৬ কিলোমিটার এলাকায় যানজটের সৃষ্টি হচ্ছে। এর মধ্যে ইচাইল থেকে কদিমধল্যা পর্যন্ত প্রায় তিন কিলোমিটার এলাকায় থেকে থেকে যানজট বিস্তৃত হচ্ছে। এ কারণে ঈদে ঘরমুখী যাত্রীদের দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

আজ বৃহস্পতিবার সকালে মহাসড়কে গিয়ে দেখা যায়, যানবাহনের দীর্ঘ সারি। ধীরে চলছে যানবাহন। কালিহাতী উপজেলার পৌলী সেতু এলাকায় কথা হয় রাজশাহীগামী বাসের চালক শহিদুল ইসলামের সঙ্গে। তিনি জানান, ভোর পাঁচটায় ঢাকা থেকে রওনা হয়ে সাড়ে পাঁচ ঘণ্টায় টাঙ্গাইল পর্যন্ত এসেছেন। সাভার ও চন্দ্রা এলাকায় দীর্য সময় যানজটে পড়তে হয়েছে। তারপর আর কোথাও থেমে থাকতে হয়নি, তবে খুব ধীরগতিতে চলতে হয়েছে।

টাঙ্গাইল শহর বাইপাসের রাবনা মোড়ে বগুড়াগামী বাসের যাত্রী আশরাফ আলী জানান, সাভারের বাইপাইল থেকে সাড়ে তিন ঘণ্টায় টাঙ্গাইল পর্যন্ত এসেছেন। স্বাভাবিক সময়ে এ পর্যন্ত আসতে এক ঘণ্টা সময় লাগে।

ট্রাক, পিকআপে চেপে যাত্রীরা গন্তব্যে যাচ্ছে। ঝুঁকি নিয়ে বসেছেন ট্রাকের সামনে। অনেকে পরিবারের সদস্যদের নিয়ে ট্রাকে যাত্রী হয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার সকাল সাড়ে নয়টার দিকে ঢাকা-টাঙ্গাইল মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার কদিমধল্যা এলাকায়

সকাল ৯টা থেকে ১০টা পর্যন্ত মহাসড়কের মির্জাপুর, কুর্নি, কদিমধল্যা ও পাকুল্যা বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে যানজট দেখা গেছে। স্থানীয় লোকজন জানান, গতকাল বুধবার সন্ধ্যার পর থেকে মহাসড়কের মির্জাপুর উপজেলার ক্যাডেট কলেজ থেকে জামুর্কী পর্যন্ত প্রায় ১৮ কিলোমিটার এলাকায় থেকে থেকে যানবাহন চলাচল বন্ধ হতে থাকে, যা ১০ থেকে ১৫ মিনিট পর্যন্ত স্থায়ী হতো। রাস্তায় অতিরিক্ত যানবাহনের চাপের কারণে যানবাহনের খুবই ধীরগতি ছিল। তবে রাত সাড়ে তিনটার পর থেকে ওই অংশে যানজট মাঝেমধ্যে প্রায় এক ঘণ্টাও স্থায়ী হয়। আজ বেলা বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে যানজট কমতে থাকে। যাত্রীরা বাস ছাড়াও মোটরসাইকেল, ট্রাক, পিকআপ, সিএনজিচালিত অটোরিকশাযোগে গন্তব্যে যাচ্ছেন।

সকাল সাড়ে ৯টার দিকে কদিমধল্যা আন্ডারপাসের ওপরে কথা হয় ট্রাকচালক গোলাম হোসেনের সঙ্গে। তিনি জানান, গতকাল মাগরিবের নামাজের পর নরায়ণগঞ্জের কাঞ্চন থেকে বগুড়ার উদ্দেশে রওনা হন। পথে ঠেলতে ঠেলতে আজ সকাল সাড়ে ৭টার দিকে গাজীপুরের চন্দ্রা পৌঁছান। ওই এলাকার তুলনায় মহাসড়কের মির্জাপুর অংশে যানজট কম উল্লেখ করে বলেন, তিনি কদিমধল্যাতে প্রায় ১০ মিনিট ধরে দাঁড়িয়ে আছেন। রাজশাহীগামী হানিফ এন্টারপ্রাইজের বাসচালক মোহাম্মদ আখিল বলেন, যাত্রী নিয়ে আজ সকাল ৬টায় ঢাকা থেকে রওনা হন। পৌনে চার ঘণ্টায় তিনি মির্জাপুরের কদিমধল্যা অতিক্রম করতে পারেননি। অথচ অন্য সময় এই রাস্তাটুকু পার হতে দেড় ঘণ্টা সময় লাগত।

হাইওয়ে পুলিশের এলেঙ্গা ফাঁড়ির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ইনচার্জ) মো. শরীফ বলেন, অতিরিক্ত চাপের কারণে ধীরগতিতে যানবাহন চলছে। তবে দীর্ঘ সময় কোথাও থেমে থাকতে হচ্ছে না। মহাসড়কে বিভিন্ন পয়েন্টে পর্যাপ্ত পুলিশ মোতায়েন রয়েছে।

যমুনা সেতুর টোল প্লাজা সূত্র জানায়, গত মঙ্গলবার দিবাগত রাত ১২টা থেকে বুধবার দিবাগত রাত ১২টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকাগামী ১৮ হাজার ৭৪৪টি যানবাহন সেতু পার হয়েছে। এ সময় টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৫৪ লাখ ৭১ হাজার ৯৫০ টাকা। অপর দিকে উত্তরবঙ্গগামী ৩২ হাজার ৮৪০টি যানবাহন পার হয়েছে। এতে টোল আদায় হয়েছে ১ কোটি ৯৭ লাখ ১০ হাজার ৬৫০ টাকা।

যমুনা সেতু সাইট অফিসের নির্বাহী প্রকৌশলী সৈয়দ রিয়াজ উদ্দিন জানান, ঈদযাত্রায় যমুনা সেতুর দুই পাশ দিয়ে ৯টি করে মোট ১৮ বুথ দিয়ে টোল আদায় করা হচ্ছে। এর মধ্যে দুই প্রান্তেই দুটি করে বুথে মোটরসাইকেলের টোল আদায় করা হচ্ছে।

পুরোনো যানজটের শঙ্কা এবারও কাটছে না

Read full story at source