মুক্তির আগেই বিতর্কের ঝড়
· Prothom Alo

ক্রিস্টোফার বোরগলির রোমান্টিক কমেডি সিনেমা ‘দ্য ড্রামা’ মুক্তি পাবে ৩ এপ্রিল। কিন্তু মুক্তির আগেই সিনেমাটি নিয়ে শুরু হয়েছে বিতর্ক। আর সেই বিতর্কের কেন্দ্রে আছেন ছবির দুই তারকা রবার্ট প্যাটিনসন ও জেনডায়া। ছবিকে ঘিরে এমন বিতর্ক নতুন কিছু নয়, কিন্তু এবার বিষয়বস্তুই যেন বিতর্কের আগুনে ঘি ঢেলেছে।
Visit sportnewz.click for more information.
বিতর্কের সূত্রপাত
নরওয়েজিয়ান নির্মাতা ক্রিস্টোফার বোরগলির ছবিটির গল্পে দেখা যায়—‘তুমি জীবনে সবচেয়ে খারাপ কী করেছ?’ এমন প্রশ্নের উত্তরে একে অপরকে জীবনের সবচেয়ে ভয়ংকর গোপন কথাটি জানানোর পর ভেঙে পড়ার উপক্রম হয় এক জুটির বাগদান। জেনডায়া অভিনীত চরিত্রটি স্বীকার করে—একসময় সে স্কুলে হামলার পরিকল্পনা করেছিল, যদিও শেষ পর্যন্ত তা বাস্তবায়ন করেনি।
বাস্তবের বেদনা বনাম পর্দার গল্প
এই কাহিনি ঘিরেই আপত্তি তুলেছেন টম মাউজার; ১৯৯৯ সালে যুক্তরাষ্ট্রের কলোরাডো অঙ্গরাজ্যের কলাম্বাইন হাইস্কুল গণহত্যায় নিহত হয় তাঁর সন্তান। মাউজারের বক্তব্য, এমন সংবেদনশীল বিষয়কে রোমান্টিক কমেডির অংশ হিসেবে ব্যবহার করা ‘ভয়ংকর’। তাঁর মতে, জনপ্রিয় ও প্রিয় একজন অভিনেত্রীকে এ ধরনের চরিত্রে দেখানো হলে তা সহিংসতার সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিদের কর্মকাণ্ডকে অনিচ্ছাকৃতভাবে স্বাভাবিক করে তুলতে পারে।
জেনডায়ার প্রতিক্রিয়া
সম্প্রতি এক টক শোতে জেনডায়া বলেন, ছবিটি একাধিক ঘরানার মিশ্রণ—রোমান্টিক কমেডি, আবার একই সঙ্গে ড্রামা। তাঁর ভাষায়, ‘এই ছবির বড় টুইস্ট নিয়ে মানুষ হল থেকে বের হয়ে ভিন্ন ভিন্ন অনুভূতি নিয়ে আলোচনা করবে।’ অর্থাৎ নির্মাতারা ইচ্ছাকৃতভাবেই দর্শকদের মধ্যে বিতর্ক ও আলোচনার জায়গা তৈরি করতে চেয়েছেন।
সমালোচক বনাম নির্মাতার দৃষ্টিভঙ্গি
ছবিটি এখনো বিশ্বব্যাপী মুক্তি পায়নি। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এ২৪ সীমিত পরিসরে কিছু সমালোচকের জন্য প্রদর্শনের ব্যবস্থা করেছে। প্রাথমিক প্রতিক্রিয়া নাকি ইতিবাচকই ছিল, যদিও পূর্ণ রিভিউ প্রকাশের ওপর নিষেধাজ্ঞা রয়েছে।
এখানে প্রশ্ন উঠছে—সংবেদনশীল বাস্তব ঘটনাকে কি শিল্পের স্বাধীনতার নামে ব্যবহার করা উচিত?
এই বিতর্ক নতুন নয়। ২০০৩ সালে গাস ভ্যান সান্ট নির্মিত এলিফ্যান্টও একই ধরনের ঘটনার অনুপ্রেরণায় তৈরি হয়ে ব্যাপক আলোচনার জন্ম দিয়েছিল। পরে ছবিটি কান চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কৃতও হয়। একইভাবে মাইকেল মুরের তথ্যচিত্র বোলিং ফর কলাম্বাইন অস্কার জিতেছিল, যেখানে এই হত্যাকাণ্ডের সামাজিক পটভূমিও বিশ্লেষণ করা হয়।
শিল্পের স্বাধীনতা নাকি সামাজিক দায়
দ্য ড্রামা ঘিরে এই বিতর্ক আসলে বড় এক প্রশ্ন তুলে ধরে—শিল্প সবকিছু নিয়েই কথা বলতে পারে নাকি কিছু সীমারেখা থাকা উচিত? একদিকে নির্মাতারা বলতে পারেন, তাঁরা মানুষের অন্ধকার দিক তুলে ধরছেন, যা বাস্তবেরই প্রতিফলন। অন্যদিকে ভুক্তভোগীদের পরিবারের জন্য এটি শুধুই ‘গল্প’ নয়—এটি তাঁদের জীবনের গভীর ক্ষত। মুক্তির পর দর্শক ও সমালোচকদের প্রতিক্রিয়ার পরই বোঝা যাবে ছবিটির ভবিষ্যৎ কী হতে যাচ্ছে।
দ্য গার্ডিয়ান অবলম্বনে