পদ্মায় বাসডুবির ঘটনায় জেলা প্রশাসনের তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল
· Prothom Alo

রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ উপজেলার দৌলতদিয়া ফেরিঘাটে পদ্মা নদীতে বাসডুবির ঘটনায় জেলা প্রশাসন থেকে গঠিত তদন্ত কমিটি প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। পাঁচ সদস্যের তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে গতকাল বুধবার জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন। আজ বৃহস্পতিবার জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার তদন্ত প্রতিবেদন পাওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
জেলা প্রশাসন সূত্র জানায়, তদন্ত কমিটি দুর্ঘটনার কারণ এবং দায়ী ব্যক্তি বা সংস্থাকে চিহ্নিত করেছে। ভবিষ্যতে দুর্ঘটনা রোধে বেশ কিছু সুপারিশও করা হয়েছে প্রতিবেদনে।
Visit newsbetsport.bond for more information.
অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট উছেন মে বলেন, ‘দুর্ঘটনার পর থেকে আমরা কাজ করছি। বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে প্রত্যক্ষদর্শীর সাক্ষ্যগ্রহণসহ স্থানীয় লোকজনের সঙ্গে কথা বলেছি। বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গেও কথা বলেছি। সদস্যদের সম্মিলিত উপস্থিতিতে কয়েক পৃষ্ঠার প্রতিবেদন জমা দিয়েছি। অত্যন্ত গোপনীয় হওয়ায় এ মুহূর্তে কিছুই বলতে পারছি না।’
জেলা প্রশাসক সুলতানা আক্তার প্রথম আলোকে বলেন, তদন্ত প্রতিবেদন হাতে পাওয়ার পর প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখ্য সচিব, নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সচিব, বিআইব্লিউটিসি, বিআইডব্লিউটিএ, ফায়ার সার্ভিস, সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরসহ সরকারের সংশ্লিষ্ট সব গুরুত্বপূর্ণ দপ্তরে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে। সার্বিক বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় ও নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকে জানানো হবে।
>> রাজবাড়ীর পদ্মায় বাসডুবি, সেদিন যা ঘটেছিল >> পদ্মায় বাসডুবি: ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার, তদন্ত কমিটি গঠন >> ফেরি আসামাত্র বাসটি চলতে শুরু করে সরাসরি নদীতে পড়ে যায় >> ৬ যাত্রী নিয়ে কুমারখালী থেকে ছাড়ে বাসটি, পথে ওঠেন আরও অন্তত ৩৬ জন
এর আগে পদ্মায় বাসডুবির কারণ উদ্ঘাটনে পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। জেলা প্রশাসকের কার্যালয় থেকে গত ২৬ মার্চ অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেটকে আহ্বায়ক করে গঠন করা পাঁচ সদস্যের কমিটিতে গোয়ালন্দ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও), রাজবাড়ী ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্স স্টেশনের উপসহকারী পরিচালক ও বিআইডব্লিউটিসি দৌলতদিয়া কার্যালয়ের সহকারী মহাব্যবস্থাপক আছেন।
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় থেকেও ২৬ মার্চ ৬ সদস্যের আরেকটি তদন্ত কমিটি গঠন করা হয়। কমিটিতে মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব মো. মুহিদুল ইসলামসহ জেলা প্রশাসন, নৌ পুলিশ, বিআইডব্লিউটিএ, বিআইডব্লিউটিসি ও ফায়ার সার্ভিসের একজন করে প্রতিনিধি আছেন। দুটি কমিটিকে তিন কার্যদিবসের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দিতে বলা হয়।
তবে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদন এখনো জমা পড়েনি। এ বিষয়ে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় গঠিত তদন্ত কমিটির প্রধান অতিরিক্ত সচিব (উন্নয়ন) মো. মুহিবুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, স্বল্প সময়ের মধ্যে প্রতিবেদন জমা দেওয়া কষ্টসাধ্য ছিল। তদন্তের স্বার্থে সময়সীমা বাড়ানো হয়েছে। তাঁরা ঘটনার প্রকৃত কারণ উদ্ঘাটন করতে চান। এ ছাড়া সুপারিশমালা পেশ করা প্রয়োজন। সবকিছু মিলে আগামী রোববার প্রতিবেদন জমা দিতে সব প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন করেছেন।
২৫ মার্চ বিকেলে কুষ্টিয়ার কুমারখালী থেকে ঢাকাগামী সৌহার্দ্য পরিবহনের যাত্রীবাহী একটি বাস বিকেল সোয়া পাঁচটার দিকে দৌলতদিয়ার তিন নম্বর ঘাটে পৌঁছায়। ঘাটে থাকা একটি ফেরি যানবাহন নিয়ে পাটুরিয়ার উদ্দেশে ছেড়ে যায়। কয়েক মিনিট পর ঘাটে ইউটিলিটি ফেরি হাসনাহেনা ভেড়ে। দু-তিনটি যানবাহন আনলোড চলাকালীন অপেক্ষায় থাকা সৌহার্দ্য পরিবহন নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পন্টুন থেকে পদ্মায় পড়ে যায়।
মধ্যরাতে উদ্ধারকারী জাহাজ হামজা প্রায় সাত ঘণ্টার চেষ্টায় বাসটিকে টেনে পন্টুনে তোলে। এ সময় বাস থেকে ১৮ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার করা হয়। পরদিন বৃহস্পতিবার দুপুর পর্যন্ত আরও ৬ যাত্রীর মরদেহ উদ্ধার হয়। দুর্ঘটনার পর চারজনকে গোয়ালন্দ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিলে চিকিৎসক দুজনকে মৃত ঘোষণা করেন। সব মিলিয়ে ২৬ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়। এর মধ্যে রাজবাড়ীর ১২টি পরিবারের ১৮ জন ছিলেন।