রোমানিয়ান কিংবদন্তি লুচেস্কু আর নেই
· Prothom Alo

রোমানিয়ান ফুটবলের প্রবাদপ্রতিম ব্যক্তিত্ব মিরচা লুচেস্কু আর নেই। বুখারেস্টের একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে শেষনিশ্বাস ত্যাগ করেন তিনি। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৮০ বছর। গত সপ্তাহেই রোমানিয়া জাতীয় দলের কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ান লুচেস্কু।
লুচেস্কুর মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করে গতকাল মঙ্গলবার হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের বিবৃতিতে বলা হয়, ‘মিরচা লুচেস্কু রোমানিয়ার সফলতম কোচ ও খেলোয়াড়দের একজন। তাঁর অধীনই ১৯৮৪ সালে প্রথমবারের মতো ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নশিপে খেলার যোগ্যতা অর্জন করেছিল রোমানিয়া। প্রজন্ম থেকে প্রজন্মান্তরে তিনি রোমানিয়ানদের হৃদয়ে জাতীয় প্রতীকের মর্যাদা পেয়েছেন।’
Visit syntagm.co.za for more information.
জানা গেছে, ১০ দিন আগে স্লোভাকিয়ার বিপক্ষে প্রীতি ম্যাচের প্রস্তুতি নেওয়ার সময় অসুস্থ হয়ে পড়েন লুচেস্কু। এরপর তাঁকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। রোমানিয়ান ফুটবল ফেডারেশন জানিয়েছিল, গত শুক্রবার তাঁর ‘হৃৎস্পন্দন স্বাভাবিক হওয়া’য় হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু সেদিনই তিনি হার্ট অ্যাটাকের শিকার হন।
We are deeply saddened to learn that the great Mircea Lucescu has passed away aged 80.
— UEFA (@UEFA) April 7, 2026
UEFA president Aleksander Čeferin has paid tribute to "one of the game’s true originals – a man of rare football intellect, remarkable dignity and passion."
https://t.co/OoaSRWfphX pic.twitter.com/FwTjgVb2PT
১৯৪৫ সালের ২৯ জুলাই বুখারেস্টে জন্ম নেওয়া লুচেস্কু রোমানিয়ান ফুটবলের মধ্যমণি। খেলোয়াড় হিসেবে বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ার শেষে কোচিংয়েও আকাশচুম্বী সাফল্য পান। ২০২৪ সালের আগস্টে দ্বিতীয় মেয়াদে জাতীয় দলের দায়িত্ব নেন লুচেস্কু। গত ২৬ মার্চ বিশ্বকাপ প্লে-অফ সেমিফাইনালে তুরস্কের বিপক্ষে ১-০ গোলে হারই ছিল ডাগআউটে তাঁর শেষ ম্যাচ। এর আগে কোচ হিসেবে তাঁর প্রথম মেয়াদে ১৯৮৪ ইউরোর মূল পর্বে খেলার যোগ্যতা অর্জন করে রোমানিয়া। কিন্তু দুই বছর পর রোমানিয়া ১৯৮৬ বিশ্বকাপে খেলার যোগ্যতা অর্জনে ব্যর্থ হলে তিনি দায়িত্ব ছাড়েন।
বায়ার্ন জানে, খেলা এখনো শেষ হয়নি, রিয়ালও বলছে, খেলা হবেলুচেস্কুর মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন রোমানিয়ার প্রেসিডেন্ট নিকোসর দান। শোকসন্তপ্ত পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘মিরচা লুচেস্কুর প্রয়াণে পুরো রোমানিয়া শোকস্তব্ধ। তিনি রোমানিয়ান ফুটবলের উত্থানে অবিস্মরণীয় অবদান রেখেছেন এবং বিশ্বমঞ্চে আমাদের প্রকৃত দূত হিসেবে কাজ করেছেন।’
Kazandırdığı UEFA Süper Kupa ile ülkemize bir Avrupa kupası daha getiren ve 15. şampiyonluğumuzda da takımımızda teknik direktör olarak görev yapan Mircea Lucescu’nun vefat ettiğini derin bir üzüntüyle öğrenmiş bulunuyoruz.
— Galatasaray SK (@GalatasaraySK) April 7, 2026
Mircea Lucescu’nun ailesine, sevenlerine ve futbol… pic.twitter.com/bpebpPfj8y
ক্লাব ফুটবলে লুচেস্কুর সাফল্য ঈর্ষণীয়। ইতালি, তুরস্ক ও ইউক্রেনের বিভিন্ন ক্লাবের কোচ হিসেবে ৩০টিরও বেশি শিরোপা জিতেছেন। তাঁর মৃত্যুতে শোক জানিয়েছে তুরস্কের ক্লাব গালাতাসারাই। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক বার্তায় তারা লিখেছে, ‘আমাদের উয়েফা সুপার কাপ ও ১৫তম লিগ শিরোপা জয়ের নায়ক মিরচা লুচেস্কুর প্রয়াণে আমরা গভীরভাবে শোকাহত। শান্তিতে ঘুমান লুচে, আমরা আপনাকে কখনো ভুলব না।’
খেলোয়াড়ি জীবনে রাইট উইঙ্গার হিসেবে খেলা লুচেস্কু ১৯৭০ বিশ্বকাপে রোমানিয়া দলের অধিনায়ক ছিলেন। জাতীয় দলের হয়ে ৬৫ ম্যাচে ১০টি গোল করেন এই কিংবদন্তি।
গোলকিপারদের রাত: একজন চল্লিশেও চোখ ধাঁধানো, আরেকজন ‘বিশ্বের সেরা’