দেড় বছরের কাজ ৮ বছরেও শেষ হয়নি, নির্মাণ ব্যয় বেড়ে দ্বিগুণ

· Prothom Alo

নকশাগত জটিলতায় নড়াইলের কালিয়া উপজেলার নবগঙ্গা নদীর ওপর বারইপাড়া সেতু নির্মাণের কাজ শেষ হওয়ার কথা ছিল দেড় বছরে। সেই কাজ আট বছরেও শেষ হয়নি। ফলে প্রতিদিন ঝুঁকি নিয়ে ট্রলারে নদী পারাপার করতে হচ্ছে স্থানীয় লোকজনকে। আর সেতু নির্মাণ ব্যয় বেড়েছে দ্বিগুণের বেশি।

সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তর (সওজ) সূত্রে জানা গেছে, ২০১৮ সালের মার্চে নড়াইল-কালিয়া সড়কের বারইপাড়া এলাকায় নবগঙ্গা নদীর ওপর ৬৫১ দশমিক ৮৩ মিটার দৈর্ঘ্য ও ১০ দশমিক ২৫ মিটার প্রস্থের সেতু নির্মাণকাজ শুরু হয়। ৬৫ কোটি টাকা চুক্তিমূল্যে কাজটি পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স জামিল ইকবাল অ্যান্ড মঈনুদ্দিন বাঁশী। ২০১৯ সালের জুনে কাজ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে অগ্রগতি ছিল মাত্র ২৩ শতাংশ। এরপর একাধিক দফায় মেয়াদ বাড়ানো হয়।

Visit betsport24.es for more information.

মাঝে বাল্কহেডের ধাক্কায় সেতুর একটি পিলার ক্ষতিগ্রস্ত হয়। পরে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নবগঙ্গা নদীকে ‘সি’ গ্রেড থেকে ‘বি’ গ্রেডে উন্নীত করে প্রতিবেদন দেয়। ফলে সেতুর নকশা পরিবর্তনের প্রয়োজন পড়ে। এতে প্রকল্প ব্যয় বেড়ে দাঁড়ায় ১৩৫ কোটি ৯২ লাখ ৩৫ হাজার টাকা। নকশা পরিবর্তনের পর অবশিষ্ট কাজ নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান কংক্রিট অ্যান্ড স্টিল টেকনোলজিস্ট লিমিটেডকে দেওয়া হয়।

সম্প্রতি সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের সংযোগ সড়ক নির্মাণ সম্পন্ন হয়েছে। ১৫টি পিয়ার ও ১১টি স্প্যান বসানোর কাজ শেষ হয়েছে। নতুন নকশা অনুযায়ী তিনটি লোহার স্প্যান বসানোর কথা থাকলেও এর মধ্যে দুটি বসানো হয়েছে, একটি স্প্যানের কাজ নিচে চলছে। সড়ক বিভাগ বলছে, মোট কাজের প্রায় ৮০ শতাংশ শেষ হয়েছে।

স্থানীয় লোকজন জানান, নড়াইল জেলা শহর থেকে কালিয়া উপজেলা শহর এবং আটটি ইউনিয়নকে বিভক্ত করেছে নবগঙ্গা নদী। সেতুটি চালু হলে নড়াইল সদর, কালিয়া উপজেলা ছাড়াও বাগেরহাট, খুলনা ও গোপালগঞ্জের সঙ্গে সড়ক যোগাযোগ সহজ হবে। এতে কালিয়ার প্রায় দুই লাখ মানুষসহ এই রুটে চলাচলকারী সবাই উপকৃত হবেন। তবে দীর্ঘদিনেও কাজ শেষ না হওয়ায় ভোগান্তি কমছে না, খেয়াঘাটেও চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

কাঞ্চনপুর এলাকার মো. বাবু শেখ বলেন, ‘আমার আধা ঘণ্টার মধ্যে কালিয়া যেতে হবে। খেয়াঘাটে দেড় ঘণ্টা বসে থেকেও পার হতে পারব কি না সন্দেহ। আমাদের যে এত পরিমাণ দুর্ভোগ, তা ভাষায় বোঝানো যাবে না। দ্রুত সেতুর কাজ সম্পন্ন করার দাবি জানাই।’ তুহিন আলম নামের এক শিক্ষার্থী বলেন, ‘বছরের পর বছর যায় কিন্তু সেতু নির্মাণ শেষ হয় না। কবে হবে তা–ও জানি না। প্রতিনিয়ত ঝুঁকি নিয়ে মানুষ নদী পার হচ্ছে। আর কতদিন এই ভোগান্তি পোহাতে হবে কে জানে।’

আহসান হাবিব লিটন বলেন, ‘কালিয়া উপজেলা ভূমি কার্যালয়, হাসপাতালে আমাদের নিয়মিত যেতে হয়। কালিয়া থেকে নড়াইল সদর হাসপাতালে রোগী নিতে গেলে ঘাটে এসে দাঁড়িয়ে থাকতে হয়। এখানে মাত্র দুটি ট্রলার। বর্ষায় নদীতে স্রোত বেশি থাকে, বেশি লোক উঠলে তলিয়ে যাওয়ার ভয় থাকে।’

তবে দ্রুত কাজ শেষের আশ্বাস দিয়েছেন নড়াইল সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের নির্বাহী প্রকৌশলী মো. নজরুল ইসলাম। তিনি বলেন, ‘ইতিমধ্যে সেতুর ৮০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে। নতুন ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে চুক্তি অনুযায়ী এ বছরের ৩০ জুনের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। আশা করছি, নির্ধারিত সময়েই কাজটি সম্পন্ন হবে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানকে সে অনুযায়ী নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’

Read full story at source