বার্লিনে ইরানের রেজা পাহলভির ওপর ‘টমেটোর রস’ নিক্ষেপ
· Prothom Alo

ইরানের নির্বাসিত যুবরাজ রেজা পাহলভির গায়ে একধরনের লাল রঙের তরল নিক্ষেপ করা হয়েছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটা টমেটোর রস ছিল। জার্মানির বার্লিনে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির নিন্দা জানিয়ে বের হওয়ার সময় তিনি এমন পরিস্থিতির মুখোমুখি হন।
Visit sport-tr.bet for more information.
ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, ৬৫ বছর বয়সী পাহলভির ঘাড়ে ও জ্যাকেটে লাল রঙের তরল ছিটকে পড়ছে।
পুলিশ তাৎক্ষণিকভাবে এ ঘটনায় জড়িত সন্দেহে এক ব্যক্তিকে আটক করেছে। হামলাকারী ব্যক্তি ইরান সরকারের সমর্থক কি না, তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ওই ব্যক্তির কাছে সংবাদ সম্মেলনের কোনো পাস না থাকা সত্ত্বেও কীভাবে তাঁকে পাহলভির এত কাছে যাওয়ার অনুমতি দেওয়া হলো, তা নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ প্রশ্ন তুলেছেন।
জার্মানিতে প্রায় তিন লাখ ইরানি বংশোদ্ভূত মানুষ বসবাস করেন, যা ইউরোপের মধ্যে সর্বোচ্চ।
পুলিশের এক মুখপাত্র বলেন, ভবনের সামনে পাহলভির ওপর লাল রঙের তরল পদার্থ ছুড়ে মারা হয়েছে, যা সম্ভবত টমেটোর রস। তবে তিনি আহত হননি।
পুলিশের ওই মুখপাত্র বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তি এর আগে কখনো কর্তৃপক্ষের ‘নজরদারিতে’ ছিলেন না। অভিযুক্ত ব্যক্তির বিরুদ্ধে ‘শারীরিকভাবে ক্ষতি করা, সম্পদ নষ্ট করা এবং রাজনৈতিক ব্যক্তিত্বকে অপদস্থ করার’ অভিযোগে তদন্ত চলছে।
এ ব্যাপারে যুবরাজের প্রতিনিধিদের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেছিল দ্য টেলিগ্রাফ। তবে তাৎক্ষণিকভাবে তাঁরা সাড়া দেননি।
পাহলভি ইরানের সাবেক শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির ছেলে। মোহাম্মদ রেজা পাহলভি ১৯৪১ সাল থেকে ১৯৭৯ সালে ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগপর্যন্ত দেশ শাসন করেছেন। তাঁর ক্ষমতাচ্যুতির পর ইরানে ইসলামি প্রজাতন্ত্র প্রতিষ্ঠা হয়।
নির্বাসিত জীবন কাটালেও পাহলভি নিজেকে ইরানের ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে তুলে ধরার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন। এর অংশ হিসেবে তিনি সরকারি কর্মকর্তা, সমর্থক ও সংবাদমাধ্যমের সঙ্গে দেখা করছেন।
জার্মান সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার জার্মানির ফেডারেল প্রেস কনফারেন্স ভবনে পাহলভির বক্তব্য শুনতে শত শত সমর্থক জড়ো হয়েছিলেন।
নিজ দেশের ওপর ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের হামলাকে সমর্থন জানানো পাহলভি ৩ এপ্রিল ইরানে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ঘোষিত যুদ্ধবিরতির সমালোচনা করেন।
যুক্তরাষ্ট্রের সাধারণ জনগণের কাছে ইরান যুদ্ধ ক্রমেই অজনপ্রিয় হয়ে উঠেছে। আপাতদৃষ্টিতে মনে হচ্ছে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট এ যুদ্ধ থেকে বেরিয়ে আসার পথ খুঁজছেন। যদিও মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে ইরান ও মার্কিন কর্মকর্তাদের মধ্যে নির্ধারিত দ্বিতীয় দফার আলোচনা গত মঙ্গলবার স্থগিত করা হয়েছে। তবে উভয় পক্ষ আবারও আলোচনার টেবিলে ফিরে আসবে বলে পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা আশাবাদী।
পাহলভি মনে করেন, ইরানে ভঙ্গুর যুদ্ধবিরতির ক্ষেত্রে ইরানি পক্ষের ওপর অনেক বেশি আস্থা রাখা হয়েছে। তিনি বলেন, ‘আমি বলছি না যে কূটনীতিকে সুযোগ দেওয়া উচিত নয়, তবে আমি মনে করি, কূটনীতিকে যথেষ্ট সুযোগ দেওয়া হয়ে গেছে।’
বার্লিন সফরের সময় কোনো সরকারি প্রতিনিধির সঙ্গে সাক্ষাতের আমন্ত্রণ পাননি পাহলভি।
ইউরোপে অবস্থানকালে পাহলভি গণতন্ত্রের জন্য লড়াইরত ইরানি জনগণকে সাহায্য ও সুরক্ষা দেওয়ার জন্য আরও পদক্ষেপ নেওয়ারও আহ্বান জানান।
পাহলভি দাবি করেছেন, গত দুই সপ্তাহে ইরান কর্তৃপক্ষ ১৯ জন রাজনৈতিক বন্দীর মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে।
পাহলভি প্রশ্ন করেন, ‘মুক্ত বিশ্ব কি কিছু করবে, নাকি এই হত্যাকাণ্ড নীরবে তাকিয়ে দেখবে?’
এ ঘটনার পরপরই জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস এক বিবৃতিতে বলেন, মঙ্গলবার রাতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর যে ঘোষণা দিয়েছেন ট্রাম্প, তাকে স্বাগত জানিয়েছে সরকার।
মের্ৎস বলেন, ‘এটি ইসলামাবাদে কূটনৈতিক আলোচনা নতুন করে শুরু করার একটি গুরুত্বপূর্ণ সুযোগ তৈরি করেছে। শান্তি স্থাপন করা এবং যুদ্ধের বিস্তার রোধ করাটাই হবে এ আলোচনার লক্ষ্য। তেহরানের উচিত এ সুযোগ লুফে নেওয়া।’