মাদারীপুরে দাদা-দাদির কবরের পাশে শায়িত হবেন বৃষ্টি
· Prothom Alo

যুক্তরাষ্ট্রের ফ্লোরিডায় হত্যার শিকার বাংলাদেশি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির (২৬) মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি শেষ হয়েছে। আজ শনিবার বাদ আসর জানাজা শেষে দাদা–দাদির কবরের পাশে তাঁকে দাফন করা হবে।
এর আগে আজ সকাল ৯টা ১০ মিনিটে এমিরেটস এয়ারলাইনসের একটি ফ্লাইটে দুবাই হয়ে নাহিদার মরদেহবাহী কফিন ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছায়। বিমানবন্দর থেকে মরদেহ গ্রহণ করেন তাঁর মা–বাবা, মামাসহ পরিবারের সদস্যরা।
Visit extonnews.click for more information.
নাহিদার গ্রামের বাড়ি মাদারীপুর সদর উপজেলার খোয়াজপুর ইউনিয়নের চর গোবিন্দপুর এলাকায়। তাঁর বাবা জহির উদ্দিন আকন দুই যুগের বেশি সময় ধরে রাজধানীর মিরপুরে পরিবার নিয়ে বসবাস করছেন। তিনি ঢাকার একটি বেসরকারি জীবনবিমা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত। এক ছেলে ও এক মেয়ের মধ্যে নাহিদা ছিলেন ছোট। তিনি ফ্লোরিডার ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।
আজ সকাল থেকেই নাহিদার গ্রামের বাড়িতে আত্মীয়স্বজন ও প্রতিবেশীদের ভিড় দেখা যায়। স্বজনেরা বলছেন, এমন মৃত্যু তাঁরা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছেন না।
ফ্লোরিডায় হত্যার শিকার বৃষ্টির মরদেহ দেশে পৌঁছেছেনাহিদার চাচাতো ভাই ওবায়দুর আকন বলেন, ‘বৃষ্টির মধ্যে কোনো হিংসা বা অহংকার ছিল না। সারাক্ষণ পড়ালেখা নিয়েই থাকত। তাকে এভাবে হত্যা করা হয়েছে, তা আমরা বিশ্বাস করতে পারছি না।’
নাহিদার বাবা জহির উদ্দিন মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘শনিবার বেলা পৌনে ১১টার দিকে বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষ আমার মেয়ের লাশ বুঝিয়ে দিয়েছে। আমরা সরাসরি মাদারীপুরের উদ্দেশে রওনা হয়েছি। গ্রামের বাড়িতে বাদ আসর জানাজা শেষে দাফন করা হবে। মেয়ের লাশ এভাবে বহন করতে হবে, কখনো ভাবিনি। খুব কষ্ট দিয়ে ওরা আমার মেয়েকে খুন করেছে।’
ফ্লোরিডায় হত্যার শিকার নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির কফিন ছুঁয়ে দেখছেন স্বজনেরা। ঢাকার হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে, ৯ মে ২০২৬এর আগে স্থানীয় সময় গত বৃহস্পতিবার রাত ৮টা ৫০ মিনিটে অরল্যান্ডো আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে বৃষ্টির মরদেহ ঢাকার উদ্দেশে পাঠানো হয়। মরদেহ উড়োজাহাজে তোলার সময় মায়ামিতে বাংলাদেশের কনস্যুলেটের একজন প্রতিনিধি উপস্থিত ছিলেন। স্থানীয় সময় গত বুধবার টাম্পায় তাঁর প্রথম জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। একই ঘটনায় নিহত জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ ৪ মে দেশে পৌঁছায়।
যুক্তরাষ্ট্রে নৃশংস হত্যার শিকার বৃষ্টির মরদেহ ঢাকার পথেপারিবারিক সূত্র জানা যায়, ঢাকার নাহার একাডেমি হাইস্কুল থেকে ২০১৪ সালে জিপিএ–৫ পেয়ে এসএসসি পাস করেন নাহিদা সুলতানা। পরে শহীদ বীর উত্তম লে. আনোয়ার গার্লস কলেজ থেকে এইচএসসিতেও জিপিএ–৫ পান। এরপর নোয়াখালী বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কেমিস্ট্রি অ্যান্ড কেমিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। পরে বাংলাদেশ প্রকৌশল বিশ্ববিদ্যালয়ে স্নাতকোত্তরে ভর্তি হন।
স্নাতকোত্তর শেষ হওয়ার আগেই ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডায় পূর্ণ বৃত্তিতে পিএইচডির সুযোগ পেয়ে ২০২৫ সালের ২৫ আগস্ট যুক্তরাষ্ট্রে যান নাহিদা। ১৭ এপ্রিল নিখোঁজ হন তিনি ও জামিল আহমেদ লিমন। লিমন একই বিশ্ববিদ্যালয়ে ভূগোল, পরিবেশবিজ্ঞান ও নীতি বিষয়ে পিএইচডি করছিলেন।
নিখোঁজ হওয়ার পর বৃষ্টি ও লিমনের হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় লিমনের রুমমেট হিশাম আবুঘরবেহকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। ২৬ বছর বয়সী ওই তরুণ বিশ্ববিদ্যালয়টির সাবেক শিক্ষার্থী। এদিকে ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডা কর্তৃপক্ষ নিহত এই দুই শিক্ষার্থীকে মরণোত্তর ডক্টরেট ডিগ্রি দিয়েছে।
‘মেয়েটার মুখ শেষবারের মতো দেখতে চাই, জানি না সেই ইচ্ছা পূরণ হবে কি না’