মৃত্যুদূতের নাম গ্রহাণু – ৬
· Prothom Alo

প্রায় সাড়ে ছয় কোটি বছর আগে বিশাল এক গ্রহাণুর আঘাতেই পৃথিবী থেকে চিরতরে মুছে গিয়েছিল অতিকায় ডাইনোসরদের রাজত্ব। সৌরজগতে এখনো ওঁত পেতে ঘুরে বেড়াচ্ছে এমন হাজারো প্রাণঘাতী গ্রহাণু। যেকোনো মুহূর্তে সামান্য কক্ষচ্যুত হয়ে এর কোনোটি যদি পৃথিবীর বুকে আছড়ে পড়ে, তবে আবারও নিমিষেই ধ্বংস হয়ে যেতে পারে আমাদের এই চিরচেনা পৃথিবী! কিন্তু এদের আঘাতে পৃথিবী ধ্বংস হওয়ার আশঙ্কা কতটা? শুধুই কি গ্রহাণু, নাকি মহাকাশে লুকিয়ে আছে পৃথিবীর আরও কোনো গুপ্তঘাতক?
Visit extonnews.click for more information.
এসব প্রশ্নের উত্তর দিয়েছেন জ্যোতির্বিজ্ঞানী ফিলিপ প্লেইট তাঁর ডেথ ফ্রম দ্য স্কাইজ!: দ্য সায়েন্স বিহাইন্ড দ্য এন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড বইয়ে। সূক্ষ্ম রসিকতা ও নিখাদ বিজ্ঞানের দারুণ মিশেলে লেখা রোমাঞ্চকর এই বইয়ের কিছু অধ্যায় ধারাবাহিকভাবে প্রকাশিত হবে বিজ্ঞানচিন্তায়। প্রথম অধ্যায় অনুবাদ করছেন ইশতিয়াক হোসেন চৌধুরী। আজ পড়ুন প্রথম অধ্যায়ের ষষ্ঠ পর্ব।
আগের পর্বআপনি যদি বিদেশি ভাষার চলচ্চিত্রের ভক্ত হয়ে থাকেন, তাহলে নিশ্চিত কখনো না কখনো ডিজাস্টার অ্যাপোক্যালিপটিক ও পোস্ট-অ্যাপোক্যালিপটিক জনরার মুভি উপভোগ করেছেন। এগুলোর বিশেষত্ব হলো, প্রাকৃতিক বা মানবসৃষ্ট মহাপ্রলয়ের আগমনে আমাদের সভ্যতার শেষ দিনগুলোর কাল্পনিক চিত্রায়ণ। পাশাপাশি বাড়তি আকর্ষণ হিসেবে থাকতে পারে দুর্যোগ-পরবর্তী পৃথিবীর ধ্বংসস্তূপ থেকে ফিনিক্স পাখির মতো মানুষের পুনরুত্থানের অবাক করা গল্প।
এই সিনেমাগুলোতে মহাপ্রলয়ের উৎস হিসেবে কখনো পরাশক্তি দেশগুলোর মধ্যকার সর্বাত্মক পারমাণবিক যুদ্ধ, কখনো অতি উন্নত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার মানুষের শেষ চিহ্নটুকু মুছে দেয়ার মাধ্যমে দুনিয়াতে চিরস্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠার খায়েশ, আবার কখনো প্রতিষেধকহীন প্রাণঘাতী জম্বি ভাইরাসের সংক্রমণ বা ভিনগ্রহবাসীদের আকস্মিক আগ্রাসনের মতো ঘটনাকে একেক সময়ে একেক মোড়কে উপস্থাপন করা হয়। বর্তমান পৃথিবীতে এগুলোর আবির্ভাব কতটা প্রাসঙ্গিক, তা নিয়ে বিতর্ক থাকতে পারে। তবে রুপালি পর্দায় দেখানো অন্তত একটি মহাপ্রলয় সৃষ্টিকারী ঘটনা রয়েছে, যা এখনই যেকোনো মুহূর্তে আক্ষরিক অর্থেই আমাদের সাজানো-গোছানো জীবনটাকে ওলট-পালট করে দিতে পারে।
হ্যাঁ, গ্রহাণুর আঘাতের কথাই বলছি। মজার ব্যাপার হলো, এসব মুভির প্রায় শতভাগ ক্ষেত্রেই গ্রহাণুদের শেষ পর্যন্ত ভূপৃষ্ঠে আছড়ে পড়তে দেখা যায় না (ডোন্ট লুক আপ ব্যাতিত)। নাসার মতো কোনো মহাকাশ গবেষণা প্রতিষ্ঠান বা পরাশক্তি কোনো দেশের বা স্বয়ং জাতিসংঘের প্রেসিডেন্ট এগুলোর আগমনী বার্তা ঘোষণা করার পর ভেলকিবাজির মতো আত্মপ্রকাশ করেন একদল সুপারহিরো। না, তাদের কেউই অতিমানবীয় ক্ষমতার অধিকারী নন। তারা আমাদের মতোই রক্ত-মাংসের সাধারণ মানুষ। পেশায় প্রকৌশলী, বিজ্ঞানী, চিকিৎসক, পাইলট বা নভোচারী।
রুপালি পর্দায় দেখানো অন্তত একটি মহাপ্রলয় সৃষ্টিকারী ঘটনা রয়েছে, যা এখনই যেকোনো মুহূর্তে আক্ষরিক অর্থেই আমাদের সাজানো-গোছানো জীবনটাকে ওলট-পালট করে দিতে পারে।
ভাগ্যের কাছে আত্মসমর্পণ করা বিশ্ববাসীর আস্থা ও ভালোবাসাকে সঙ্গী করে দলটি নেমে পড়ে এক দুঃসাহসিক মহাকাশ অভিযানে। অবধারিতভাবেই তখন তাদের সঙ্গে থাকে অমিত শক্তিশালী পারমাণবিক অস্ত্র। নানান চড়াই-উতরাই পেরিয়ে একসময়ে অভিযাত্রী দল পৌঁছে যায় ভয়ংকর গ্রহাণুর রাজত্বে।
পরের গল্পটা সফলতা-ব্যর্থতার সংমিশ্রণ। কখনো দূর থেকে ছুড়ে দেয়া বোমার আঘাতেই টুকরো টুকরো হতে দেখা যায় ঘাতক গ্রহাণুকে। আবার কখনো অভিযাত্রীরা আশপাশে ভেসে বেড়ানো অনিয়মিত কক্ষপথের অজস্র ছোট-বড় বিপজ্জনক পাথরের ফাঁক গলে কোনোমতে অবতরণ করেন এর অমসৃণ পৃষ্ঠে। অতঃপর ঘটানো হয় বিস্ফোরণ। এভাবে গ্রহাণুর হুমকি সমূলে বিনাশ হলেও হরহামেশাই অভিযাত্রী দলের সদস্যদের ডুবে থাকতে দেখা যায় গভীর বিষাদে। কারণ, হয়তো ছোট্ট কোনো ভুলে বা সময়ের প্রয়োজনে ইতিমধ্যে নিজের জীবন উৎসর্গ করেছেন দলের কোনো এক অপরিহার্য সদস্য। প্রিয়জন হারানোর ব্যথা মাঝেমধ্যেই ম্লান করে দেয় মানবসভ্যতাকে নিজ হাতে নিশ্চিত ধ্বংস থেকে রক্ষার মতো অনন্য মুহূর্তকেও।
যা-ই হোক, বোমা মেরে উড়িয়ে দেয়ার কৌশল রুপালি পর্দায় নিঃসন্দেহে দারুণ উপভোগ্য। কিন্তু বাস্তব দুনিয়াতেও কি এটি সমান কার্যকর? উত্তর হলো—না।
সত্যি বলতে বর্তমানে এটি প্রায় অচল এক ধারণা। কারণ, পারমাণবিক অস্ত্রের আঘাত গ্রহাণুর অগ্রযাত্রা রুখে দেয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তা ছাড়া এই মহাজাগতিক বস্তুগুলো সম্পূর্ণ লোহার তৈরি হলে তো কথাই নেই। এমন গ্রহাণুতে সর্বশক্তিতে পারমাণবিক বিস্ফোরণ ঘটালেও সামান্য উষ্ণতা বৃদ্ধি ছাড়া তেমন কোনো প্রভাবই পড়বে না! অন্যদিকে গতানুগতিক পাথুরে গ্রহাণুদের বেলাতেও নেই তেমন কোনো সুখবর। একদম ছোটগুলো বিস্ফোরণে ভস্মীভূত হবে ঠিকই, কিন্তু আকারে বড়সড় হলেই বাঁধবে বিপত্তি। ক্ষয়ক্ষতির মাত্রা নির্ধারণে তখন মুখ্য ভূমিকা রাখবে বস্তুগুলোর দৃঢ়তা তথা ঘনত্বের মান।
পারমাণবিক অস্ত্রের আঘাত গ্রহাণুর অগ্রযাত্রা রুখে দেয়ার নিশ্চয়তা দিতে পারে না। তা ছাড়া এই মহাজাগতিক বস্তুগুলো সম্পূর্ণ লোহার তৈরি হলে তো কথাই নেই।
সাধারণত পাথরের ঘনত্ব ২-৩ গ্রাম/ঘন সেন্টিমিটারের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকে। এই মান পানির চেয়ে কয়েক গুণ বেশি। জ্যোতির্বিজ্ঞানীরা এমন কিছু অদ্ভুত পাথুরে গ্রহাণুর সন্ধান পেয়েছেন, যাদের ঘনত্ব এর চেয়ে অনেক কম।
যেমন ২৫৩ মাথিল্ডের কথাই ধরুন। সূর্যকে কেন্দ্র করে পথ চলা এই গ্রহাণুর ঘনত্বের মান মাত্র ১.৩৩ গ্রাম/ঘন সেন্টিমিটারের কাছাকাছি। আমাদের অতি পরিচিত ওয়ান টাইম লাঞ্চ বক্সের গাঠনিক উপাদান, অর্থাৎ স্টাইরোফোমের সঙ্গেই যেন কেবল এটির গড়নের তুলনা চলে! শুরুতে বিজ্ঞানীরা এমন নিম্ন ঘনত্বের কোনো জুতসই ব্যাখ্যা দাঁড় করাতে পারছিলেন না। তবে স্পেস প্রোবের মাধ্যমে খুব কাছ থেকে একে দেখার পর ধীরে ধীরে রহস্যের জট খুলতে শুরু করে।
২৫৩ মাথিল্ড গ্রহাণুআসলে গ্রহাণুটি প্রচুর গর্ত ও খানাখন্দে ভরপুর এক মহাজাগতিক বস্তু। খুব সম্ভবত অন্যান্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়মিত বিরতিতে ঘটা সংঘর্ষের কারণে এটির এমন দশা। যদি সংঘর্ষের তীব্রতা মাত্রা ছাড়ায়, তাহলে যেকোনো গ্রহাণুই মুহূর্তে বিস্ফোরিত হতে পারে। আর ধাক্কার গতিবেগ নির্ধারিত সীমারেখার মধ্যে থাকলে, ভেঙেচুরে শত-সহস্র টুকরোতে পরিণত হওয়ার পরিবর্তে এগুলোর পৃষ্ঠ জুড়ে বিভিন্ন স্থানে সৃষ্টি হতে পারে ফাটল বা গর্ত। এভাবে কালের পরিক্রমায় সম্পূর্ণ নিরেট গ্রহাণুগুলোও পরিণত হতে পারে বহুসংখ্যক ছিদ্রযুক্ত নিম্ন ঘনত্বের এক কাঠামোতে, যাকে এক সুতায় বেঁধে রাখতে বস্তুটির নিজস্ব মহাকর্ষই যথেষ্ট। তখন একে ভাসমান পাথরের স্তূপ বললেও এক বিন্দু বাড়িয়ে বলা হবে না। সত্যি বলতে, আমাদের সৌরজগতে এমন গ্রহাণুর বিচরণই তুলনামূলক বেশি।
আসলে ২৫৩ মাথিল্ড গ্রহাণুটি প্রচুর গর্ত ও খানাখন্দে ভরপুর এক মহাজাগতিক বস্তু। খুব সম্ভবত অন্যান্য প্রতিবেশীদের সঙ্গে নিয়মিত বিরতিতে ঘটা সংঘর্ষের কারণে এটির এমন দশা।
এখন প্রশ্ন হলো, এগুলোকেও কি পারমাণবিক বোমার আঘাতে উড়িয়ে দেয়া সম্ভব?
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সাউথওয়েস্ট রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গ্রহাণু বিশেষজ্ঞ ড্যান ডুরডা এই প্রশ্নের উত্তর খুঁজে বের করার চেষ্টা করেছিলেন। গবেষণার শুরুতেই তিনি বুঝতে পেরেছিলেন, সরাসরি গ্রহাণু থেকে আসা নমুনার ওপরে পরীক্ষা-নিরীক্ষা চালিয়ে বৈজ্ঞানিক তথ্য সংগ্রহের নজির খুব একটা নেই। বিষয়টা মোটেই পছন্দ না হওয়ায় স্রোতের বিপরীতে গিয়ে কাজ করার সিদ্ধান্ত নেন তিনি।
যেমন ভাবা তেমনি কাজ। প্রথমেই বিভিন্ন সময়ে পৃথিবীতে আসা উল্কাপিণ্ড থেকে বাছাই করে সংগ্রহ করা হয় পাথুরে গ্রহাণুর কয়েকটি নমুনা। এদের মধ্যে একটি ছিল নিরেট পাথরের তৈরি, আর আরেকটি ছিদ্রযুক্ত; অনেকটা ২৫৩ মাথিল্ডের মতো। তারপর তিনি পাড়ি জমালেন ক্যালিফোর্নিয়ায় অবস্থিত নাসার এমস রিসার্চ সেন্টারে। উদ্দেশ্য সেখানকার বিখ্যাত ভার্টিক্যাল গান রেঞ্জ ফ্যাসিলিটি (ভিজিআর) ব্যবহার করা। একে তুলনা করা যেতে পারে দুই ধাপ বিশিষ্ট গ্যাসচালিত বন্দুকের সঙ্গে। প্রথম ধাপে বিশালাকার টিউবের মধ্যে থাকা গ্যাসকে (সাধারণত হাইড্রোজেন) পিস্টনের সাহায্যে চাপ প্রয়োগে প্রবল মাত্রায় সংকুচিত করা হয়। আর পরের ধাপে সেটিকেই দ্রুত প্রসারিত করার মাধ্যমে ১ থেকে ২৫ মিলিমিটার পর্যন্ত আকারের ছোট বস্তুকে প্রচণ্ড গতিতে (প্রতি সেকেন্ডে সর্বোচ্চ প্রায় ৪.৫ মাইল) ছুড়ে মারা হয়।
এই কৌশলে ০-৯০ ডিগ্রি পর্যন্ত যেকোনো কোণে বস্তুকে নিক্ষেপ করা যায়। ফলে উল্কা বা গ্রহাণুর মতো মহাজাগতিক বস্তুদের পৃথিবীতে আছড়ে পড়ার সময়ে দিকের তারতম্যের সঙ্গে সঙ্গে এদের আঘাতে সৃষ্ট গর্তে যেসব পরিবর্তন আসতে পারে, তার সিমুলেশন তৈরি করতে পারেন বিজ্ঞানীরা।
প্রথমটিতে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হবে একটি শক্ত ইটে, আর দ্বিতীয়টিতে বালুর বস্তায়। যথেষ্ট জোরে আঘাত করলে ইট যে নিমিষেই ভেঙেচুরে যাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না।
যা-ই হোক, গ্রহাণুর নমুনা দুটোকে একে একে ভিজিআর ফ্যাসিলিটিতে লক্ষ্যবস্তু হিসেবে স্থাপন করেছিলেন ডুরডা। অতঃপর প্রতি সেকেন্ডে প্রায় ৩ মাইল বেগে ছুড়ে দেয়া হয় গুলি। প্রত্যাশামাফিক নিরেট পাথরের নমুনাটি বিস্ফোরিত হয়ে শতাধিক ক্ষুদ্র ক্ষুদ্র টুকরোতে পরিণত হয়। কিন্তু চমকপ্রদ ফলাফল পাওয়া যায় পরের পাথরখণ্ডে। প্রচণ্ড সংঘর্ষের পরেও দিব্যি অটুট থাকে সেটি। আগত বস্তুটিকে যেন আক্ষরিক অর্থেই গিলে ফেলেছিল সেটি!
পরীক্ষার ফলাফল সহজে বোঝার জন্য দুটি উদাহরণের কথা ভাবতে পারেন। প্রথমটিতে হাতুড়ি দিয়ে আঘাত করা হবে একটি শক্ত ইটে, আর দ্বিতীয়টিতে বালুর বস্তায়। যথেষ্ট জোরে আঘাত করলে ইট যে নিমিষেই ভেঙেচুরে যাবে, তা আর বলার অপেক্ষা রাখে না। কিন্তু সমান বা কয়েক গুণ বেশি তীব্রতায় একই কাজ বালুর বস্তার বেলাতে করলেও তেমন কিছুই ঘটবে না। এক্সপেরিমেন্টে ছিদ্রযুক্ত পাথরখণ্ডের নমুনায় ঠিক এটাই ঘটে। অর্থাৎ এমন ব্যতিক্রমী গাঠনিক উপাদানের কোনো গ্রহাণুকে পারমাণবিক বোমা মেরে ধ্বংস করার চেষ্টা করলে সফলতার চেয়ে ব্যর্থতার পাল্লাই বেশি ভারী থাকবে।
ভালো কথা, দৈবক্রমে আমরা যদি সফল হয়েও যাই, তাহলেও কিন্তু বিপদ বাড়বে বৈ কমবে না। কারণ বোমার আঘাতে বিস্ফোরিত হলেও গ্রহাণুর গতিপথে কিন্তু পরিবর্তন আসছে না। ফলে একক বড় আকারের পাথরখণ্ডের পরিবর্তে আমাদের তখন মুখোমুখি হতে হবে এটির ধ্বংসাবশেষ তথা হাজার হাজার ছোট মিটিওরাইটের।
গ্রহাণু বা এর ধ্বংসাবশেষগুলোর মাঝে যে পরিমাণ ক্লোরিন বা ব্রোমিন সঞ্চিত থাকে, তা বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরকে সহজেই নিশ্চিহ্ন করে দিতে সক্ষম।
আপাতদৃষ্টিতে একে মন্দের ভালো মনে হতে পারে। কিন্তু বাস্তবতা হলো, আকাশ থেকে নেমে আসা মাত্র শ খানেক মিটার ব্যাসের একটি পাথরখণ্ডই গোটা শহরকে ভস্মীভূত করে দিতে যথেষ্ট। কাছাকাছি সময়ে এদের মাত্র ডজনখানেক সদস্য যদি পৃথিবীর বিভিন্ন এলাকায় আঘাত হানে, তাহলে নিমিষেই ধ্বংসযজ্ঞ ছড়িয়ে পড়বে সর্বত্র। তাছাড়া গ্রহাণু বা এর ধ্বংসাবশেষগুলোর মাঝে যে পরিমাণ ক্লোরিন বা ব্রোমিন সঞ্চিত থাকে, তা বায়ুমণ্ডলের ওজোন স্তরকে সহজেই নিশ্চিহ্ন করে দিতে সক্ষম।
মূলত এসব কারণেই বহু বিজ্ঞানী গ্রহাণুর হাত থেকে রেহাই পেতে সরাসরি পারমাণবিক অস্ত্র ব্যবহারের ঘোর বিরোধী। কেবল অনন্যোপায় হলেই এদের ব্যবহারের বিষয়টি বিবেচনায় নেয়া যেতে পারে।
চলবে…ফিলিপ প্লেইট, ডেথ ফ্রম দ্য স্কাইজ!: দ্য সায়েন্স বিহাইন্ড দ্য এন্ড অফ দ্য ওয়ার্ল্ড অবলম্বনেমৃত্যুদূতের নাম গ্রহাণু - ১ মৃত্যুদূতের নাম গ্রহাণু – ২মৃত্যুদূতের নাম গ্রহাণু – ৩মৃত্যুদূতের নাম গ্রহাণু – ৪ মৃত্যুদূতের নাম গ্রহাণু – ৫