তাদের কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না: ইরানকে ট্রাম্পের হুমকি
· Prothom Alo

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প গত শনিবার তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের শীর্ষ সদস্যদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। বৈঠক সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র সিএনএনকে বলেছে, ইরান যুদ্ধ নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, তা নিয়েই আলোচনা হয়েছে। আর বৈঠকের এক দিন পরই ট্রাম্প হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, তেহরানকে ‘দ্রুত পদক্ষেপ নিতে হবে, নইলে তাদের কোনো কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না’।
Visit sportbet.reviews for more information.
গতকাল রোববার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘ইরানের জন্য সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে। তাদের খুব দ্রুত এগোতে হবে। না হলে তাদের কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না। সময়টা অত্যন্ত জরুরি!—প্রেসিডেন্ট ডিজেটি।’
সূত্রটির মতে, ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যে ট্রাম্পের গলফ ক্লাবে অনুষ্ঠিত ওই বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও, সিআইএ পরিচালক জন র্যাটক্লিফ এবং বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ।
ইরান নিয়ে ট্রাম্পের হুমকি–ধমকি কি কাজ করছেট্রাম্প চীনে গুরুত্বপূর্ণ সফর শেষ করে ওয়াশিংটনে ফেরার কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। ইরানের ঘনিষ্ঠ মিত্রদেশগুলোর একটি চীন।
তেহরান কূটনৈতিক আলোচনা যেভাবে পরিচালনা করছে, তা নিয়ে ট্রাম্প ক্রমেই ক্ষুব্ধ হয়ে উঠছেন। এ ছাড়া হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকা এবং এর ফলে বৈশ্বিক তেলের দামে যে প্রভাব পড়ছে, তা নিয়েও তিনি বিরক্ত বলে জানা গেছে।
এ বিষয়ে হোয়াইট হাউসের বক্তব্য জানার চেষ্টা করেছিল সিএনএন। তবে তাৎক্ষণিকভাবে সাড়া পাওয়া যায়নি।
বেইজিং সফরকালে ট্রাম্প ও তাঁর সফরকারী দল তেহরান নিয়ে পরবর্তী পদক্ষেপ কী হবে, সে বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া থেকে বিরত ছিলেন। প্রশাসনের কয়েকজন কর্মকর্তা সিএনএনকে বলেছেন, ট্রাম্প ও চীনের নেতা সি চিন পিংয়ের বৈঠকের ফলাফল দেখার পরই তারা পরবর্তী পথ নির্ধারণ করতে চেয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক দিনগুলোয় ট্রাম্প ইরানে আবারও বড় ধরনের সামরিক অভিযান শুরুর বিষয়টি আরও গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করছেন বলে সিএনএন আগেই প্রতিবেদন প্রকাশ করেছিল। যদিও তিনি কূটনৈতিকভাবে সংঘাতের সমাধান চান, তবু যুদ্ধ শেষ করতে ইরানকে সমঝোতায় বাধ্য করার উপায় হিসেবে সামরিক চাপ বাড়ানোর বিষয়টি তাঁর বিবেচনায় আছে।
সূত্রটি মনে করে, চলতি সপ্তাহে যুদ্ধ পরিস্থিতি নিয়ে ট্রাম্প আবারও তাঁর জাতীয় নিরাপত্তা দলের সঙ্গে বৈঠকে বসতে পারেন।
ট্রাম্প যদি শেষ পর্যন্ত আরও হামলার সিদ্ধান্ত নেন, সে ক্ষেত্রে সম্ভাব্য সামরিক লক্ষ্যবস্তু কী হতে পারে, তার একটি তালিকা প্রস্তুত করেছে পেন্টাগন। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলেছে, ইরানের জ্বালানি ও অবকাঠামোগত স্থাপনাগুলোকে নিশানা করে হামলার বিষয়টিকে এই পরিকল্পনার মধ্যে রাখা হয়েছে।
শনিবারের ওই বৈঠকের খবর প্রথম প্রকাশ করেছে সংবাদমাধ্যম এক্সিওস।
গতকাল রোববার ট্রাম্প ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গেও টেলিফোনে কথা বলেছেন। নেতানিয়াহুর এক মুখপাত্র এবং এক মার্কিন কর্মকর্তা সিএনএনকে এ তথ্য দিয়েছেন।
ইরানের পক্ষ থেকে এখনো এমন কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি যে দেশটির শীর্ষ কর্মকর্তারা পিছু হটতে প্রস্তুত। ইরানি গণমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নাকভি গতকাল ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানসহ দেশটির শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের আলোচনায় প্রধান মধ্যস্থতাকারীর ভূমিকা পালন করছে পাকিস্তান।
বৈঠকে তেহরানের কর্মকর্তারা বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের উপস্থিতিই অঞ্চলটিতে অস্থিতিশীলতা তৈরি করছে। ইরানের বার্তা সংস্থা তাসনিম নিউজের প্রতিবেদনে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বিভেদমূলক কার্যক্রম ও অবিশ্বাস তৈরির মাধ্যমে সব সময় ইসলামি দেশগুলোর মধ্যে বিভাজন তৈরির চেষ্টা করেছে বলে অভিযোগ করেছেন পেজেশকিয়ান।
তবে একই সঙ্গে ইরানি প্রেসিডেন্ট বলেছেন, ইরান মধ্যপ্রাচ্যের ইসলামি দেশগুলোর সঙ্গে আন্তরিক, স্থিতিশীল ও সুপ্রতিবেশীসুলভ সম্পর্ক গড়ে তুলতে চায়।