টি-টুয়েন্টি বিশ্বকাপে যে কৌশল শিখে যাচ্ছেন নিগাররা

· Prothom Alo

সর্বশেষ তিনটি দ্বিপক্ষীয় সিরিজে কোনো ম্যাচে জয় পায়নি বাংলাদেশ নারী ক্রিকেট দল। স্বস্তি বলতে গত জানুয়ারিতে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে অপরাজিত চ্যাম্পিয়ন হওয়া। কিন্তু ইংল্যান্ডে টি–টুয়েন্টি বিশ্বকাপ খেলতে যাওয়ার আগে সেই স্বস্তিটা যেন একটু কমেই গেছে। শ্রীলঙ্কা সিরিজের পর থেকে নিজেদের আয়নায় নিজেরাই তা দেখতে পাচ্ছেন নারী দলের ক্রিকেটাররা।

Visit extonnews.click for more information.

দলের সমস্যাগুলো অবশ্য সবারই জানা। ব্যাটিংয়ে ফ্ল্যাট উইকেটের সুবিধা নিতে না পারা, রান তোলায় ধীরগতি, পেসার সংকট—সমস্যা মূলত এসবই। তবে এর মধ্যেও গ্রুপ পর্বে পাঁচ ম্যাচের অন্তত তিনটিতে জয়ের আশা নিয়ে আজ রাত ও পরশু সকালে দুইভাগে দেশ ছাড়বেন ক্রিকেটাররা।

বিশ্বকাপের আগে স্কটল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে স্কটল্যান্ডে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজ খেলবে নিগার সুলতানার দল। এই সিরিজ ও বিশ্বকাপের আগে দুটি প্রস্তুতি ম্যাচকে ইংল্যান্ডের কন্ডিশনে অভ্যস্ত হওয়ার সুযোগ হিসেবে দেখছেন তাঁরা। ১৪ জুন বার্মিংহামে নেদারল্যান্ডসের বিপক্ষে বিশ্বকাপে নিজেদের প্রথম ম্যাচ খেলবে বাংলাদেশ।

বিশ্বকাপের প্রস্তুতি নিয়ে বেশ সন্তুষ্টই মনে হচ্ছে অধিনায়ক নিগার সুলতানা ও প্রধান কোচ সরোয়ার ইমরানকে। গতকাল প্রথম আলোকে সরোয়ার ইমরান জানিয়েছেন, ব্যাটাররা যেন ভালো স্ট্রাইক রেটে খেলতে পারেন, সে জন্য কয়েক মাস ধরে তাঁদের ডাউন দ্য উইকেটে খেলায় অভ্যস্ত করার চেষ্টা হয়েছে। ঘরের মাঠে শ্রীলঙ্কা সিরিজ এবং অনুশীলনেও বাউন্সি উইকেটে খেলেছেন মেয়েরা। কোচ তাই আশাবাদী ব্যাটিংয়ে অন্তত সংকট থাকবে না, ‘অনুশীলনে যে কাজগুলো করেছি, সেগুলো যদি তারা ম্যাচে করতে পারে, তাহলে আমাদের সব ব্যাটারের স্ট্রাইক রেটই ১০০-এর ওপরে থাকবে।’

কোচ সারওয়ার ইমরান ও অধিনায়ন নিগার সুলতানা

বিশ্বকাপ সামনে রেখে অধিনায়ক নিগার সুলতানার দৃষ্টি আপাতত স্কটল্যান্ডে, ‘স্কটল্যান্ড এবং ইংল্যান্ডের কন্ডিশন, আবহাওয়া ও উইকেট প্রায় একই রকম থাকে। এই সিরিজ আমাদেরকে ইংল্যান্ডে খেলার জন্য অনেক বেশি সাহায্য করবে। যদি আমরা সিরিজটা জিততে পারি, সেটা ইতিবাচক হবে।’

বাংলাদেশের দুশ্চিন্তা অবশ্য অধিনায়ক নিগার সুলতানার ফর্ম নিয়েও আছে। ঘরের মাঠে সর্বশেষ টি–টুয়েন্টি সিরিজে শ্রীলঙ্কার বিপক্ষে তিন ম্যাচে করেছেন মাত্র ২০ রান। তবে নিগার আত্মবিশ্বাসী, বিশ্বকাপে এই সমস্যা কাটিয়ে উঠবেন, ‘সবাই চায় বিশ্বকাপে ভালো খেলতে। আমি যেখানে ব্যাটিং করি, আমার কাছ থেকে দল অনেক প্রত্যাশা রাখে। পরিস্থিতির যেমন চাওয়া থাকবে, আমি চেষ্টা করব সেভাবেই অবদান রাখতে।’

নাজমুলের সেঞ্চুরি, প্রিমিয়ার লিগেও আলো ছড়াচ্ছেন তারকারা

ঘরের মাঠে এবং দেশের বাইরেও বোলিংয়ে বাংলাদেশ ভরসা রাখে মূলত স্পিন শক্তির ওপর। বিশ্বকাপে সেই নির্ভরতাটা আরও বেড়ে যেতে পারে কারণ, ইংল্যান্ডের কন্ডিশনেও বাংলাদেশ মাত্র একজন বিশেষজ্ঞ পেসার নিয়ে খেলার চিন্তা করছে। এর আগে প্রধান নির্বাচক সাজ্জাদ আহমেদ বলেছেন, গতকাল প্রধান কোচ সরোয়ার ইমরানও স্বীকার করে নিলেন, ভালো বিকল্প না থাকাতেই মাত্র দুজন বিশেষজ্ঞ পেসার নিয়ে বিশ্বকাপ খেলতে যাচ্ছেন তাঁরা। তবে হাতে যা আছে, সেটার ওপরই আস্থা রাখছেন কোচ, ‘ব্যাটিং, ফিল্ডিং, স্পিন বোলিং—এই তিনটি বিভাগ আমরা শক্তিশালী করতে চাই। পেস বোলিং নিয়ে আমরা এত মাথা ঘামাচ্ছি না। মারুফা যদি একটা ভালো শুরু দিতে পারে, আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারব।’

নাহিদা আক্তার

স্পিনে বাংলাদেশের প্রত্যাশাটা বেশি থাকবে অভিজ্ঞ নাহিদা আক্তারের ওপর। নিজের দায়িত্ব সম্পর্কে সচেতন নাহিদা আশাবাদী, ‘চ্যালেঞ্জ নেওয়ার ক্ষমতা আমাদের আছে। চ্যালেঞ্জ যদি নিতে না পারি, তাহলে তো উন্নতি করতে পারব না। সব জায়গায় সব রকম পরিস্থিতিতে বোলিং করার শক্তি আমাদের আছে।’

গ্রুপে বাংলাদেশের প্রতিপক্ষ অস্ট্রেলিয়া, ভারত, নেদারল্যান্ডস, পাকিস্তান ও দক্ষিণ আফ্রিকা। ‘অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সঙ্গে ব্যবধানটা একটু বেশি হয়ে গেছে’ বললেও কোচ সরওয়ার ইমরানের আশা, ‘যেহেতু টি-টুয়েন্টি, আমাদের বিশ্বাস, আমরা যেকোনো দলকে হারাতে পারব।’

বিসিবিতে বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় ৪ পরিচালক

Read full story at source