মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের দায়ে যুবকের মৃত্যুদণ্ড

· Prothom Alo

মেহেরপুরে ৯ বছরের শিশুকে ধর্ষণের মামলায় শাকিল হোসেন (২৪) নামের এক যুবককে মৃত্যুদণ্ডাদেশ দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাঁকে তিন লাখ টাকা জরিমানা করা হয়েছে।

আজ রোববার দুপুরে মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মো. তাজুল ইসলাম এই রায় ঘোষণা করেন। জরিমানার অর্থ আসামির স্থাবর-অস্থাবর সম্পত্তি নিলামে বিক্রি করে ভুক্তভোগীর পরিবারকে দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

Visit playerbros.org for more information.

দণ্ডপ্রাপ্ত শাকিল হোসেন মেহেরপুরের গাংনী উপজেলার বাসিন্দা। রায় ঘোষণার সময় আসামি আদালতে উপস্থিত ছিলেন। পরে তাঁকে পুলিশ পাহারায় কারাগারে নেওয়া হয়।

আদালত ও মামলার এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ২০২৫ সালের ১৬ জুন গাংনীতে ৯ বছর বয়সী এক মেয়েশিশুকে ধর্ষণ করেন শাকিল। পরে শিশুটি তার বাবাকে গিয়ে ঘটনাটি জানায়। তিনি বিষয়টি গ্রামে জানালে স্থানীয় লোকজন ক্ষিপ্ত হয়ে শাকিলকে আটকে মারধর করেন। খবর পেয়ে গাংনী থানার পুলিশ গিয়ে তাঁকে উদ্ধার করে হেফাজতে নেয় এবং চিকিৎসার জন্য গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে পাঠায়।

ভুক্তভোগী শিশুটি গুরুতর অসুস্থ হয়ে পড়লে প্রথমে তাকে গাংনী উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে এবং পরে উন্নত চিকিৎসার জন্য মেহেরপুর সদর হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। ওই ঘটনার দিনই শিশুটির বাবা বাদী হয়ে গাংনী থানায় নারী ও শিশু নির্যাতন দমন আইনে ধর্ষণ মামলা করেন।

মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা উপপরিদর্শক আতাউর রহমান গত বছরের ২৯ সেপ্টেম্বর এই মামলায় অভিযোগপত্র দেন। ওই বছরের ১৩ অক্টোবর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইবুন্যাল অভিযোগ গঠন করলে বিচারকাজ শুরু হয়। সশরীর ও ভিডিও কলের মাধ্যমে ১২ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ ও জেরা সম্পন্ন করা হয়।

রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবী এবং মেহেরপুর নারী ও শিশু নির্যাতন দমন ট্রাইব্যুনালের সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) মোস্তাফিজুর রহমান রায়ের বিষয়টি নিশ্চিত করেন। তিনি বলেন, সশরীর ও ভার্চ্যুয়াল মাধ্যমের সমন্বয়ে সাক্ষ্যের ভিত্তিতে এই রায় দেশের বিচারিক ইতিহাসে একটি দৃষ্টান্ত। ভুক্তভোগীর পরিবার এতে ন্যায়বিচার পেয়েছে।

তবে আসামিপক্ষের আইনজীবী মারুফ আহমেদ বলেন, তাঁরা এই রায়ের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে আপিল করবেন।

Read full story at source