মালদ্বীপকে আরও গোল দিতে না পারায় বাটলারের অসন্তোষ এবং চরম এক হুঁশিয়ারি

· Prothom Alo

সাফ নারী ফুটবলে হ্যাটট্রিক চ্যাম্পিয়ন হওয়ার লক্ষ্যে মালদ্বীপের বিপক্ষে ৪-২ গোলের জয় দিয়ে শুরু করেছে বাংলাদেশ। তবে ভারতের কাছে ১১ গোল খাওয়া মালদ্বীপের বিপক্ষে এই জয়টি যতটা সহজ হবে ভাবা হয়েছিল, মাঠের চিত্র ছিল ভিন্ন। গোয়ার জওহরলাল নেহরু স্টেডিয়ামে ম্যাচ জিতে সেমিফাইনাল নিশ্চিত করলেও বাংলাদেশের ব্রিটিশ কোচ পিটার বাটলার দলের স্কোরলাইন এবং কয়েকজন খেলোয়াড়ের মাঠের মনোযোগ নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন।

ম্যাচ-পরবর্তী সংবাদ সম্মেলনে কোচ পিটার বাটলার তাঁর মিশ্র প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেন। জয় নিয়ে সন্তুষ্ট হলেও সুযোগ নষ্টের মহড়ায় তিনি স্পষ্টতই হতাশ। বাটলার মনে করেন, ম্যাচটি অনায়াসেই ১০-২, ১২-২ বা ১৪-২ ব্যবধানের হতে পারত। বাংলাদেশ আক্রমণাত্মক ফুটবল খেললেও ফিনিশিংয়ের অভাবে স্কোরলাইন বড় হয়নি।

Visit mwafrika.life for more information.

প্রতিপক্ষের খেলার ধরন নিয়ে উষ্মা প্রকাশ করে বাটলার এ-ও বলেন, ‘আজ রাতে আমাদের কেউ কেউ ভালো করেছে, আবার কেউ কেউ হতাশ করেছে। প্রতিপক্ষ পুরো ম্যাচে মাত্র দুটি আক্রমণ করেছিল এবং আমাদের মনোযোগের অভাবেই তারা দুটি গোল পেয়ে যায়। এটি অনেকটা ইংলিশ এফএ কাপের ম্যাচের মতো ছিল, যেখানে যেকোনো উপায়ে জয় নিশ্চিত করাই মূল লক্ষ্য থাকে।’

মালদ্বীপের বিপক্ষে ঘামঝরানো জয়, সেমিফাইনালে বাংলাদেশ

কোচ পিটার বাটলার আরও যোগ করেন, ‘মালদ্বীপের গোলরক্ষক অসাধারণ পারফরম্যান্স দেখিয়েছেন। পাশাপাশি প্রতিপক্ষের খেলোয়াড়েরা বারবার মাটিতে পড়ে গিয়ে খেলার গতি ও মোমেন্টাম ধীর করার চেষ্টা করছিল, যা দক্ষিণ এশীয় ফুটবলের জন্য ইতিবাচক নয়।’ এ ধরনের রক্ষণাত্মক দলের বিপক্ষে জিততে সৃজনশীল পথ খুঁজে নেওয়া জরুরি ছিল বলে বাটলারের স্পষ্ট কথা।

শুরুতেই গোল করে এগিয়ে দেন আনিকা

ম্যাচের একদম শুরুর মুহূর্তেই (১১ সেকেন্ডে) বাংলাদেশ গোল পেয়ে যায়। কোচ মনে করেন, এই দ্রুত গোলটি দলের জন্য এক দিক থেকে অসুবিধা তৈরি করেছিল। গোলটির পর খেলোয়াড়েরা হয়তো ভেবে বসেছিল তারা ১০ বা ১২টি গোল করতে যাচ্ছে। তবে তিনি খেলোয়াড়দের সতর্ক করেছিলেন যেন তারা মালদ্বীপকে হালকাভাবে না নেয়। শিউলি ও মনিকার ইনজুরির কারণে একাদশে বেশ কিছু পরিবর্তন আনতে হয়েছিল বাটলারকে।

ম্যাচে দুটি গোল হজম করাকে ভারতের বিপক্ষে ম্যাচের আগে ‘ওয়েক-আপ কল’ বলতে রাজি নন কোচ। তবে এটিকে খেলোয়াড়দের জন্য ‘চোখে আঙুল দিয়ে দেখিয়ে দেওয়ার’ মতো একটি বিষয় বলেছেন তিনি। দ্বিতীয় গোলের সময় রক্ষণ ভেঙে পড়াটা তাঁর জন্য চিন্তার বিষয়। ডিফেন্ডাররা স্ট্রাইকারের কাছে পরাস্ত হয়নি, বরং মনোযোগ হারানোর কারণে প্রতি আক্রমণে গোল খেয়েছে। ভিডিও অ্যানালিস্টের সঙ্গে বসে এই ভুলগুলো বিশ্লেষণ করার কথা জানিয়ে বাটলার বলেন, ভারতের বিপক্ষে ম্যাচটি সম্পূর্ণ ভিন্ন হবে।

আনিকার গোলটাই কি বাংলাদেশের দ্রুততম

ঝুঁকিপূর্ণ হলেও নিজের আক্রমণাত্মক ও সৃজনশীল ফুটবল দর্শনেই অবিচল থাকতে চান পিটার বাটলার। সাফ বলে দেন, ‘আমি বাংলাদেশের তরুণ মেয়েদের মাঠে গিয়ে স্বাধীনভাবে নিজেদের মেলে ধরার সুযোগ দেব এবং এটি কখনোই পরিবর্তন করব না। যদি কেউ এই ঝুঁকিপূর্ণ খেলার ধরন পরিবর্তন করতে বলে, তবে আমি দায়িত্ব ছেড়ে চলে যাব।’

আগামী রোববারের ভারত ম্যাচ প্রসঙ্গে বাটলার আশাবাদী। তিনি মনে করেন, ভারত রক্ষণাত্মক না খেলে বাংলাদেশের ওপর আক্রমণ করবে, যা আদতে বাংলাদেশের স্বভাবজাত ফুটবল খেলার শৈলীকে (যেমনটা ঋতুপর্ণা বা শামসুন্নাহার জুনিয়র খেলে থাকেন) আরও সহায়তা করবে। আজ রাতে কাঙ্ক্ষিত গোল না আসায় সমর্থকদের জন্য দুঃখ প্রকাশ করলেও, ভুল থেকে শিক্ষা নিয়ে ভারতের বিপক্ষে চেনা ছন্দে ঘুরে দাঁড়ানোর ব্যাপারে শতভাগ আত্মবিশ্বাসী বাংলাদেশ কোচ।

Read full story at source