ফাঁকা ঢাকায় সংসদ ভবনের সামনে টমটমে চড়ে ঈদ আনন্দ

· Prothom Alo

ঈদুল আজহার দ্বিতীয় দিনের বিকেল। ছুটির ফাঁকা ঢাকায় জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে পরিবার-পরিজন নিয়ে ঘুরতে এসেছে লোকজন। কেউ হাঁটছেন, কেউ ছবি তুলছেন। সংসদ ভবনের সামনের সড়কে ঘোড়ার গাড়ি টমটমে চড়ে ঘুরে বেড়াচ্ছেন অনেকে। রাজধানীর ব্যস্ত এই সড়ক যেন রূপ নিয়েছে বিনোদনের কেন্দ্র হিসেবে।

Visit afrikasportnews.co.za for more information.

আজ শুক্রবার বিকেলে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে (ভিউ পয়েন্ট) গিয়ে এমন চিত্র দেখা গেছে।

সরেজমিনে দেখা গেছে, ছুটির দিনে পরিবার, স্বজন ও শিশুদের নিয়ে ঘুরতে এসেছেন অনেকে। কেবল রাজধানী ঢাকার লোকজনই নয়, দেশের বিভিন্ন স্থান থেকেও দর্শনার্থীরা ঈদ আনন্দে এখানে ঘুরতে এসেছেন। কেউ সংসদ ভবনকে পেছনে রেখে পরিবার নিয়ে ছবি তুলছেন, কেউ ভিড় করে আছেন অস্থায়ী খেলনা ও খাবারের দোকানে।

তাঁদের একজন মো. মাসুম। পেশায় সিভিল ইঞ্জিনিয়ার। গ্রামের বাড়ি দিনাজপুরে। থাকেন রাজধানীর ধানমন্ডি এলাকায়। নারায়ণগঞ্জ থেকে ঢাকায় আসা তিন ভাই-বোনকে নিয়ে সংসদ ভবনের সামনে ঘুরতে এসেছেন তিনি।

মো. মাসুম প্রথম আলোকে বলেন, ‘কাজের চাপে কোথাও ঘুরতে যেতে পারি না। আবার ঈদেও বাড়িতে যাওয়া হয়নি। তাই ছুটিতে মামাতো বোন, ভাই নারায়ণগঞ্জ থেকে এসেছে। ওদের নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছি। আজকে অনেক জায়গায় ঘুরব।’

সংসদ ভবনের সামনে ঘুরতে আসা মানুষের কাছে বাড়তি আকর্ষণ যুক্ত করেছে ঘোড়ায় চালিত টমটম গাড়ি। ফাঁকা রাস্তায় পরিবারের সদস্যদের নিয়ে টমটম গাড়িতে ঘোরাঘুরি করেন অনেকেই।

তাঁদের একজন জয়পাল বড়ুয়া। বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনে (এফডিসি) চাকরি করেন। পরিবার নিয়ে থাকেন রাজধানীর তেজগাঁও এলাকায়। ঈদের ছুটিতে স্ত্রী ও দুই সন্তানকে নিয়ে ঘুরতে বেরিয়েছেন। জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে আসতেই দুই সন্তান উর্মি বড়ুয়া ও নিক্সন বড়ুয়ার আবদার টমটম চড়বে। সন্তানদের ইচ্ছাপূরণে চড়ে বসলেন একটি ঘোড়ার গাড়িতে। ঘুরে এসে গাড়ি থেকে নামার পর কথা হয় তাঁর সঙ্গে।

জয়পাল বড়ুয়া প্রথম আলোকে বলেন, ‘বাচ্চাদের অনুরোধে টমটমে উঠলাম। আমি আগেও উঠেছি। তবে বাচ্চারা এই প্রথম উঠল। ওরা খুব মজা পেয়েছে। ফাঁকা রাস্তায় ঘুরতে আমারও বেশ ভালোই লেগেছে।’

এক রাউন্ড ঘুরতে নেওয়া হচ্ছে ৩০০-৫০০ টাকা

জাতীয় সংসদ ভবনের সামনে এদিন চারটি টমটম চলতে দেখা যায়। ঈদ উপলক্ষে গাড়িগুলোকে রঙিন কাপড় ও কাগজের ফুল দিয়ে সাজানো হয়েছে। মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে যাত্রীর জন্য অপেক্ষা করছে গাড়িগুলো। যাত্রী পেলেই চাবুক মেরে ঘোড়া নিয়ে টগবগিয়ে ছুটছিলেন চালক। সংসদ ভবনের সামনে থেকে যাত্রী উঠিয়ে খামারবাড়ি গোলচত্বর (খেজুরবাগান ক্রসিং) ঘুরে আবার সেখানে এসে রাইড শেষ করছেন। আর তাতে ভাড়া নেওয়া হচ্ছে ৩০০-৫০০ টাকা।

চালকেরা বলছেন, গাড়িগুলো অন্য সময় রাজধানীর গুলিস্তান থেকে সদরঘাট রুটে যাত্রী আনা-নেওয়া করে। তাঁরা থাকেন কামরাঙ্গীরচর এলাকায়। ঈদ উপলক্ষে বাড়তি ভাড়ার আশায় সংসদ ভবন এলাকায় এসেছেন।

‘মিম টমটম’-এর চালক মো. সাগর প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের ছুটিতে সংসদ ভবন এলাকায় ঘুরতে আসা মানুষ বেশি থাকে। তাই তিনি এখানে এসেছেন। যাত্রীর চাপও বেশি। যাঁরাই চড়ছেন, রিজার্ভ করে নিচ্ছেন। রাস্তা ফাঁকা থাকায় এক রাউন্ড শেষ করতে বেশি সময়ও লাগছে না। সব বয়সী মানুষ উঠলেও বাচ্চারা বেশি মজা পাচ্ছে।

জিয়া উদ্যানেও মানুষের ভিড়

ঈদুল আজহার ছুটিতে রাজধানীর জিয়া উদ্যানেও ঘুরতে আসা মানুষের উপচে পড়া ভিড় দেখা গেছে। উদ্যানের সবুজ ঘাসে মা-বাবার সঙ্গে খেলাধুলায় মেতেছে শিশুরা।

রাজধানীর মোহাম্মদপুর থেকে স্ত্রী আর তিন সন্তানকে নিয়ে জিয়া উদ্যানে ঘুরতে আসেন ব্যবসায়ী আরিফ হোসেন। মেয়ে আরফা আয়নাতের সঙ্গে ফুটবল খেলছিলেন। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, ঈদের দিন কোরবানি থাকায় বাচ্চাদের নিয়ে বের হতে পারেননি। আজকে সময় হাতে পাওয়ায় বের হয়েছেন। বাচ্চারা খেলতে খুব আনন্দ পাচ্ছে।

Read full story at source