রেমিট্যান্স পাঠাতে প্রবাসীদের পছন্দের শীর্ষ তালিকায় ব্র্যাক ব্যাংক

· Prothom Alo

এপ্রিল মাসে ব্র্যাক ব্যাংক প্রবাসী আয়ে দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে

পাঁচ বছর ধরে প্রবাসী আয়ে (রেমিট্যান্স) শক্তিশালী প্রবৃদ্ধি অর্জনের পর ব্র্যাক ব্যাংক এখন ২০২৮ সালের মধ্যে বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রেমিট্যান্স ব্যাংক হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছে।

২০২৪-২৫ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা মোট ৩০ দশমিক ৩৩ বিলিয়ন মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন। চলতি ২০২৫-২৬ অর্থবছর শেষে এটি ৩৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে।

Visit djcc.club for more information.

রেমিট্যান্স গ্রাহকদের কাছে সেবার দ্রুততা, নিরাপত্তা ও সহজলভ্যতার গুরুত্ব ক্রমেই বাড়ছে। এ পরিবর্তিত চাহিদার প্রেক্ষাপটে ব্র্যাক ব্যাংক বৈশ্বিক পার্টনারশিপ, দেশব্যাপী সেবা নেটওয়ার্ক, ডিজিটাল উদ্ভাবন এবং প্রবাসী বাংলাদেশি (এনআরবি) ও তাদের পরিবারের জন্য বিশেষায়িত ব্যাংকিং সেবা দেওয়ার মাধ্যমে রেমিট্যান্স ব্যাংকিংয়ে আরও সক্ষমতা অর্জন করেছে।

ব্র্যাক ব্যাংকের ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড সিইও তারেক রেফাত উল্লাহ খান বলেন, ‘২০২৬ সালের এপ্রিল মাসে ব্র্যাক ব্যাংক রেমিট্যান্স আয়ে দেশের ব্যাংকগুলোর মধ্যে দ্বিতীয় স্থানে উঠে এসেছে। এটি প্রমাণ করে, প্রবাসী বাংলাদেশিরা তাঁদের কঠোর পরিশ্রমে অর্জিত আয় দেশে পাঠানোর ক্ষেত্রে আমাদের ওপর আস্থা রেখেছেন। আমরা সব সময়ই নিরাপদ, স্বচ্ছ ও সহজলভ্য রেমিট্যান্স চ্যানেল নিশ্চিত করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। ব্র্যাক ব্যাংক প্রবাসী পরিবারের আর্থিক নিরাপত্তা জোরদার করার পাশাপাশি দেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বৃদ্ধিতেও অবদান রেখে চলেছে।’

গত কয়েক বছরের ব্যবধানে ব্র্যাক ব্যাংক মধ্যপ্রাচ্য, দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়া, এশিয়া-প্যাসিফিক অঞ্চল, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, ইউরোপ, উত্তর আমেরিকা ও আফ্রিকার গুরুত্বপূর্ণ অভিবাসী করিডরগুলোয় নিজস্ব এক্সচেঞ্জ হাউস নেটওয়ার্ক সম্প্রসারিত করেছে। ‘হোস্ট টু হোস্ট’ প্রযুক্তির সঙ্গে যুক্ত হয়ে ব্র্যাক ব্যাংক বর্তমানে বিশ্বের ৮০টির বেশি পার্টনার এক্সচেঞ্জ হাউসের সঙ্গে কাজ করছে। ফলে গ্রাহকসেবা নিশ্চিতে দ্রুত ও নির্ভরযোগ্য উপায়ে রেমিট্যান্স স্থানান্তর নিশ্চিত করা সম্ভব হচ্ছে।

দেশেও ব্র্যাক ব্যাংক সহজলভ্য গ্রাহকসেবা নিশ্চিত করেছে। বর্তমানে ব্যাংকটির ৩১০টি শাখা ও উপশাখার পাশাপাশি রয়েছে ১ হাজার ১১৭টি এজেন্ট ব্যাংকিং আউটলেট। ফলে শহর ও গ্রামাঞ্চলে বসবাসকারী সুবিধাভোগী পরিবার সহজেই রেমিট্যান্সের অর্থ তুলতে পারছেন।

গ্রাহকদের পরিবর্তিত চাহিদা পূরণ করতে ব্র্যাক ব্যাংক প্রবাসী বাংলাদেশি ও তাঁদের পরিবারের জন্য একাধিক সেবা চালু করেছে। এগুলোর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হলো প্রবাসী ভার্চ্যুয়াল সেভিংস অ্যাকাউন্ট, প্রবাসী পরিবার অ্যাকাউন্ট, তারা প্রবাসী পরিবার অ্যাকাউন্ট এবং অফশোর ব্যাংকিং ইউনিট (ওবিইউ) সেবা।

ই-কেওয়াইসি সুবিধার মাধ্যমে প্রবাসীরা বিদেশে বসেই ব্র্যাক ব্যাংকে হিসাব খুলতে পারছেন। পাশাপাশি ‘আস্থা’ অ্যাপ ব্যবহার করে বিশ্বের যেকোনো জায়গা থেকে টাকা পাঠানো, বিল পরিশোধ, আমানত ব্যবস্থাপনা, সুরক্ষিত ঋণসুবিধা গ্রহণ ও ডিপিএস খোলার মতো কাজ করতে পারছেন।

ব্র্যাক ব্যাংকের অ্যাডিশনাল ম্যানেজিং ডিরেক্টর অ্যান্ড হেড অব হোলসেল ব্যাংকিং মো. শাহীন ইকবাল বলেন, ‘বৈশ্বিক নেটওয়ার্ক, সেবা প্রদানের কাঠামো, ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম এবং গ্রাহক সম্পৃক্ততায় ধারাবাহিক বিনিয়োগের প্রতিফলন দেশের রেমিট্যান্স বাজারে আমাদের এই অগ্রগতি। ই-কেওয়াইসি অনবোর্ডিং, প্রবাসী ও তাঁদের পরিবারের জন্য বিস্তৃত পণ্য ও সেবা এবং “আস্থা” প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে আমরা এমন একটি সমন্বিত ইকোসিস্টেম গড়ে তুলেছি, যা প্রবাসী বাংলাদেশি এবং দেশে থাকা তাঁদের পরিবারের প্রয়োজন পূরণ করে।’

মো. শাহীন ইকবাল আরও বলেন, ‘২০২৮ সালের মধ্যে আমরা রেমিট্যান্স বাজারে শীর্ষস্থান অর্জনের লক্ষ্য নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছি। একই সঙ্গে গ্রাহকদের সঙ্গে দৃঢ় সম্পর্ক ও ধারাবাহিক বিনিয়োগের ভিত্তিতে সেই লক্ষ্য অর্জনেও আমরা আত্মবিশ্বাসী।’

অবকাঠামো ও পণ্যের বাইরেও ব্র্যাক ব্যাংক রেমিট্যান্সের সুবিধাভোগী জনগোষ্ঠীর সঙ্গে সরাসরি যুক্ত রয়েছে। দেশের বিভিন্ন স্থানে নিয়মিত কার্যক্রমের অংশ হিসেবে আয়োজিত ‘উঠান বৈঠক’-এর মাধ্যমে বৈধ রেমিট্যান্স চ্যানেল ব্যবহারকে উৎসাহিত করা এবং দীর্ঘমেয়াদি আর্থিক অন্তর্ভুক্তি সম্প্রসারণে কাজ করে যাচ্ছে ব্যাংকটি।

Read full story at source