নোয়াখালীর গ্রামীণ বাজারটিতে উড়ছে তিন শতাধিক পতাকা

· Prothom Alo

ছোট্ট এক গ্রামীণ বাজার। সব মিলিয়ে দোকান আছে ৭০টি। এই বাজারজুড়ে এখন উড়ছে তিন শতাধিক পতাকা। আকাশি-সাদা আর হলুদ–নীলের রঙে রঙিন হয়ে উঠেছে পুরো এলাকা।

Visit afsport.lat for more information.

নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলার চর কাঁকড়া ইউনিয়নের টেকের বাজারে দেখা যায় এ দৃশ্য। এ বাজারটির অবস্থান নোয়াখালী জেলা শহর মাইজদী থেকে প্রায় ২৫ কিলোমিটার দূরে। বাজারের ব্রাজিল আর আর্জেন্টিনা সমর্থকেরা নিজ উদ্যোগে এসব পতাকা টাঙিয়েছেন।

গতকাল বুধবার দুপুরে সরেজমিনে দেখা যায়, বাজারের এক প্রান্ত থেকে অন্য প্রান্ত পর্যন্ত রশি টাঙিয়ে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের শত শত পতাকা। দোকানের সামনে, বৈদ্যুতিক খুঁটিতে, গাছের ডালে, এমনকি ভবনের ছাদেও এসব পতাকা রাখা হয়েছে। প্রায় এক কিলোমিটার দূর থেকেই এসব পতাকা চোখে পড়ে। বাজারে আসা ক্রেতা, পথচারী কিংবা দূর থেকে আসা দর্শনার্থীরা পতাকা টাঙানোর এসব দৃশ্য উপভোগ করছেন। অনেকেই পকেট থেকে মুঠোফোন বের করে ছবি তুলছেন অথবা ভিডিও করছেন।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেন, ফুটবল বিশ্বকাপ এলেই টেকের বাজারে ফুটবল উন্মাদনা নতুন রূপ পায়। তবে এবার আয়োজন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি। স্থানীয় তরুণ ও ব্যবসায়ীরা নিজেদের অর্থ ব্যয় করে বাজারজুড়ে তিন শতাধিক পতাকা টাঙিয়েছেন। বিশ্বকাপের আনন্দ সবার সঙ্গে ভাগ করে নেওয়াই তাঁদের উদ্দেশ্য।

বাজারে দাঁড়িয়েই কথা হলো স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল হোসেনের সঙ্গে। তিনি আর্জেন্টিনার সমর্থক। জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘বিশ্বকাপ শুরু হচ্ছে। ফুটবলপ্রেমীদের জন্য এটি সবচেয়ে বড় উৎসব। তাই প্রিয় দলের পতাকা টাঙিয়ে আনন্দ প্রকাশ করছি। খেলা দেখতে রাত জাগলেও ক্লান্তি লাগে না।’

বাজারের ব্যবসায়ী আলমগীর হোসেন বলেন, ‘আমাদের এলাকায় আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল—দুই দলেরই প্রচুর সমর্থক আছে। কয়েক দিন ধরে পতাকা টাঙানো নিয়ে দুই পক্ষের মধ্যে একধরনের নীরব প্রতিযোগিতা চলছে। তবে এটি শুধু আনন্দের জন্য। এখানে কখনো এ নিয়ে কোনো বিরোধ হয়নি।’

অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক সামছুল হক বলেন, মাঠে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিলের প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও এখানে দুই দলের সমর্থকেরা মিলেমিশেই আনন্দ করছেন। পাশাপাশি উড়তে থাকা পতাকাগুলো সম্প্রীতির বার্তা দিচ্ছে। খেলার উত্তেজনা যেন কেবল আনন্দ আর বিনোদনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ থাকে, এটিই প্রত্যাশা।

Read full story at source