আজ থেকে শিল্পকলা একাডেমিতে ‘নতুন নাটকের উৎসব ২০২৬’
· Prothom Alo

‘নতুন নাটক নতুন সময়—মঞ্চে জাগুক মানুষের কথা’ প্রতিপাদ্যে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির আয়োজনে আজ শুক্রবার শুরু হচ্ছে আট দিনব্যাপী ‘নতুন নাটকের উৎসব ২০২৬’। নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের ব্যবস্থাপনায় আয়োজিত এ উৎসব চলবে ১৯ জুন পর্যন্ত। দেশীয় নাট্যসংস্কৃতির বিকাশ, প্রচার, প্রসার ও সংরক্ষণের লক্ষ্য নিয়ে প্রতিদিন নানা আয়োজন অনুষ্ঠিত হবে।
উৎসব উপলক্ষে বৃহস্পতিবার জাতীয় নাট্যশালার সেমিনার কক্ষে সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়। সেখানে বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক রেজাউদ্দিন স্টালিন বলেন, ‘আমরা চেষ্টা করছি সংস্কৃতির সব ক্ষেত্রে নতুন সৃষ্টিশীলতা তৈরি করতে এবং গণমানুষকে সম্পৃক্ত করতে। সত্তর ও আশির দশকে ঢাকাসহ বিভিন্ন জায়গায় অনেক ভালো নাটক মঞ্চায়ন হতো। এখন তা অনেকটাই স্থবির হলেও গত দুই বছরে পরিস্থিতির পরিবর্তন হয়েছে। এই নাট্যোৎসবের মাধ্যমে নাটককে আমরা সাধারণ মানুষের কাছে নিয়ে যেতে চাই। সামাজিক অবক্ষয় দূর করার অন্যতম হাতিয়ার নাটক। নাটক মানুষকে বেঁচে থাকার এবং সামনে এগিয়ে যাওয়ার প্রেরণা দেয়। আমরা চাই দর্শকেরা এসে মঞ্চনাটক দেখুক, সমালোচনা করুক।’
বাংলাদেশ শিল্পকলা একাডেমির সচিব মোহাম্মদ জাকির হোসেন একাডেমির আয়োজনগুলো গণমাধ্যমের সহযোগিতায় সবার কাছে পৌঁছে দিতে সংশ্লিষ্ট সবার সহযোগিতা প্রত্যাশা করেন।
Visit umafrika.club for more information.
সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামী। তিনি জানান, শুক্রবার বিকেল চারটায় জাতীয় নাট্যশালায় উৎসবের উদ্বোধনী অনুষ্ঠান হবে। এতে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম। অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন তথ্য ও সম্প্রচার মন্ত্রণালয় এবং সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান। প্রধান বক্তা হিসেবে থাকবেন ঠাকুরগাঁও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ইসরাফিল শাহীন।
সংবাদ সম্মেলনে উৎসবের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন নাট্যকলা ও চলচ্চিত্র বিভাগের পরিচালক দীপক কুমার গোস্বামীঅনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করবেন সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের সচিব কানিজ মওলা। স্বাগত বক্তব্য দেবেন শিল্পকলা একাডেমির মহাপরিচালক এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করবেন নাট্যকলা বিভাগের পরিচারক দীপক কুমার গোস্বামী।
আট দিনব্যাপী উৎসবে মোট আটটি নাটক মঞ্চায়িত হবে। উদ্বোধনী দিনে মঞ্চস্থ হবে দিনাজপুর নাট্য সমিতির ‘চোরের নাম চরণদাস’। এ ছাড়া পর্যায়ক্রমে মঞ্চায়িত হবে বান্দরবানের ইয়াং বংহুং থিয়েটারের ‘রিনা প্লুং’, দৃশ্যকাব্যের ‘ইডিপাস’, হান্ট থিয়েটারের ‘ক্যাফে দ্য ভলতে’, প্রাচ্যনাটের ‘ব্যতিক্রম ও নিয়ম’, ঢাকা থিয়েটারের ‘রঙমহাল’, সিলেটের নাট্যায়নের ‘মহাকালের অন্তর্যাত্রা’ এবং সমাপনী দিনে যশোরের শব্দ থিয়েটারের নাটক ‘দ্য গ্রেট স্মাগলার’।
জাতীয় নাট্যশালার এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলে প্রতিদিন সন্ধ্যা সাতটায় নাটকগুলো মঞ্চায়িত হবে।
উৎসব উপলক্ষে প্রতিদিন সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৬টা ৪৫ মিনিট পর্যন্ত এক্সপেরিমেন্টাল থিয়েটার হলের লবিতে অনুষ্ঠিত হবে ‘বাংলা নাটকের গান’। ঢাকা ও ঢাকার বাইরের আটটি দল এতে অংশ নেবে। অংশগ্রহণকারী দলগুলো হলো আলেয়া বেগম ও আলমাস সরকারের দল (মানিকগঞ্জ), পদাতিক নাট্য সংসদ টিএসসি, ভৈরবী গীতরঙ্গ দল, থিয়েটার সার্কেল (মুন্সিগঞ্জ), তীরন্দাজ রেপার্টরি, আরণ্যক নাট্যদল, বটতলা ও উদীচী নাট্য বিভাগ।
উৎসবের অংশ হিসেবে ১৫ থেকে ১৯ জুন জাতীয় নাট্যশালার ইন্টারন্যাশনাল ডিজিটাল কালচারাল আর্কাইভ কক্ষে অনুষ্ঠিত হবে উদীয়মান নাট্যনির্দেশকদের জন্য পাঁচ দিনব্যাপী বিশেষ কর্মশালা। প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত চলা এ কর্মশালায় সর্বোচ্চ ২৫ জন প্রশিক্ষণার্থী অংশগ্রহণের সুযোগ পাবেন।