যে মার্কেটে খুব কম দামে পাবেন ছোটদের নানা রকম খেলনা

· Prothom Alo

চকবাজারের গড়ে উঠেছে দেশের বৃহত্তম পাইকারি খেলনার বাজার। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে আসা খুচরা বিক্রেতা এবং নতুন উদ্যোক্তারা এখান থেকে পাইকারি দরে খেলনা কিনে নিয়ে যান। সাধারণ ক্রেতাদেরও কম দামে খেলনা কেনার সুযোগ আছে এখানে।

চকবাজারে সাধারণ ক্রেতাদেরও খেলনা কেনার সুযোগ আছে

চকবাজারের ১ নম্বর গলি, ফ্রেন্ডশিপ মার্কেট, মদিনা আশিক টাওয়ার ও বিসমিল্লাহ টাওয়ার মিলে গড়ে উঠেছে দেশের বৃহত্তম পাইকারি খেলনার বাজার। ঢাকা ও ঢাকার বাইরে থেকে আসা খুচরা বিক্রেতা এবং নতুন উদ্যোক্তারা এখান থেকে পাইকারি দরে খেলনা কিনে নিয়ে যান। সাধারণ ক্রেতাদেরও খেলনা কেনার সুযোগ আছে। ৬ জুন চকবাজারে গিয়ে ব্যস্ততা চোখে পড়ল। কিছু দোকান তখনো বন্ধ, ঈদের ছুটির রেশ কাটেনি।

Visit syntagm.co.za for more information.

উত্তরা থেকে আগারগাঁও পর্যন্ত মেট্রো স্টেশনে কী কী পণ্য পাওয়া যাচ্ছে, দেখে নিন

চকবাজার ১ নম্বর গলি

গলির মুখে পা রাখতেই দোকানে দোকানে চোখে পড়ে রংবেরঙের ঝুলন্ত সব খেলনা

চকবাজারের খেলনা বাজারের কথা জিজ্ঞেস করলে যে কেউ হাতের ইশারায় দেখিয়ে দেন চকবাজারের ১ নম্বর গলি। অনেকেই ক্রেতার সঙ্গে পণ্যের দরদাম নিয়ে কথা বলায় ব্যস্ত ছিলেন। কেউ কেউ আবার মুঠোফোনের ভিডিও কলের মাধ্যমে পণ্য বাছাই করছিলেন। গলির মুখে পা রাখতেই দোকানে দোকানে চোখে পড়ে রংবেরঙের ঝুলন্ত সব খেলনা।

নানা রং ও কাঠামোর কাঠের লাটিম, বাঁশের বাঁশি, প্লাস্টিকের বাঁশি, কাঠ ও প্লাস্টিকের গুলতি, কাগজের ফুল, খেলনা পিস্তল, বুদ্‌বুদ তৈরির বাবলগান, চরকি, চারকোনা ও ত্রিকোণাকৃতি রুবিকস কিউব, প্লাস্টিক ও কাপড়ের পুতুল, মাছ-ঝিনুক আর পানিভর্তি বাউন্সিং বল, চুপসানো ফুটবল, চুপসানো ফুটবলে বাতাস ভরার পাম্পিং মেশিন, পাজল কার্ড, গিটার, বিভিন্ন কার্টুন চরিত্র ও খেলোয়াড়দের ছবিসংবলিত গেম কার্ড, লুডু ও দাবার ঘর, খেলনা গাড়ি, সাইকেল, মোটরসাইকেল, ট্রাক, বাস, মাটি কাটার ভেঁকু গাড়ি, রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি, হেলিকপ্টারসহ আছে প্লাস্টিকের ছোট–বড় নানা খেলনা।

দরদাম

উদ্যোক্তারা এখান থেকে পাইকারি দরে খেলনা কিনে থাকেন

পাইকারি হিসেবে সর্বনিম্ন ৫০টি অর্ডারে প্রতিটি কাঠের লাটিমের দাম শুরু ৪ টাকা থেকে, বাঁশের বাঁশি ৬ টাকা থেকে, প্লাস্টিকের বাঁশি ৭ টাকা থেকে ৪০ টাকা। ডজন হিসেবে প্রতি ডজন কাঠের গুলতি ৮৪০ টাকা, প্লাস্টিকের গুলতি ৩৬০ টাকা। খেলনা পিস্তল প্রতিটি ২৭ টাকা থেকে ২৫০ টাকা। বুদ্‌বুদ তৈরির ২৫টি বাবলগানের এক সেট ১৫০ টাকা থেকে ১৭০ টাকা। এক ডজন কাগজের ফুল ৬৫০ টাকা থেকে ৯৫০ টাকা ও ক্লে ২৭ টাকা। চরকি ১২০ টাকা ডজন। গিটার প্রতিটি ৬০ টাকা থেকে ১০০ টাকা। চারকোনা ও ত্রিকোণাকৃতি রুবিকস কিউব প্রতিটি ৪২ টাকা থেকে ৭৫ টাকা। মাছ-ঝিনুক আর পানিভর্তি প্রতিটি বাউন্সিং বল ৬০ টাকা।

ডজনপ্রতি ফুটবলের দাম শুরু ২৯০ টাকা থেকে। ফুটবল বাতাসে ফোলানোর পাম্পিং মেশিনের দাম প্রতিটি ১৯০ টাকা থেকে ২০০ টাকা। বিভিন্ন কার্টুন চরিত্র ও খেলোয়াড়দের ছবিসংবলিত পাজল কার্ড প্রতি ডজন ১০৫ টাকা। বলসহ ক্রিকেট ব্যাট প্রতি ডজন ৬৬০ টাকা। তির-ধনুকের সেট ৫০ টাকা। ঘরের পাশাপাশি আলাদা দুই রুম থেকে কথা বলা যাবে এমন ওয়াকিটকি সেটের দাম ২৭০ টাকা থেকে শুরু। গাড়ির মধ্যে ছোট প্লাস্টিকের সাইকেল ও মোটরসাইকেল ৫৫ টাকা থেকে ৭৫ টাকা। ট্রাক ৭৫ টাকা থেকে ৯০ টাকা, বাস ৬৫ টাকা থেকে ২৬০ টাকা, মাটি কাটার ভেকু গাড়ি ৮৫ থেকে ১০০ টাকা। হেলিকপ্টার ১৭৫ টাকা। রিমোট কন্ট্রোল গাড়ি ৪৫০ থেকে ৩ হাজার টাকা।

এই গরমে ঢাকার যেখানে মিলবে ডাবের আইসক্রিম

ফুটবল বিশ্বকাপের মৌসুমি উন্মাদনা

১ নম্বর গলি থেকে বের হলেই চোখে পড়ে বিশ্বকাপের উন্মাদনা

১ নম্বর গলি থেকে বের হলেই চোখে পড়ে বিশ্বকাপের উন্মাদনা। রাস্তা ঘেঁষে বসা জমজমাট সব অস্থায়ী দোকানপাট। উড়ছে ফুটবল বিশ্বকাপের নানা দেশের পতাকা। তারই নিচে বিক্রি হচ্ছে পতাকা থেকে শুরু করে প্রিয় দলের নামসংবলিত রিস্টব্যান্ড, স্টিকার, ফুটবল তারকাদের ভিউ কার্ড, গেম কার্ড, চরকি, ব্যাজসহ আরও অনেক কিছু। তরুণ ক্রেতার ভিড়টাই এখানে বেশি।

১০০ কাগজের পতাকা ১৫০ টাকা। কাপড়ের পতাকার মধ্যে সাড়ে তিন ফিট দৈর্ঘ্যের পতাকা ৪০ টাকা এবং ৫ ফিট দৈর্ঘ্যের কাপড়ের পতাকা ৮০ টাকা। ২০টি ব্যাজের এক সেটের দাম ১০০ টাকা, ২০টি বান্ডিলের ছোট স্টিকারের দাম ৪০ টাকা। দলের নামসংবলিত প্রতি ১০০টি রিস্টব্যান্ড ৩০০ টাকা। ৪০০টি ভিউকার্ডের মূল্য ৪০ টাকা এবং ১ হাজার ভিউকার্ডের মূল্য ১০০ টাকা। ফুটবল তারকাদের ছবি ও দলের পতাকার রঙে রাঙানো চরকি ডজন ৬০ টাকা।

ফ্রেন্ডশিপ মার্কেটে পুতুলের সমারোহ

চকবাজারে খেলনা কিনতে চাইলে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টার মধ্যে যাওয়া হবে সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ

এক নম্বর গলির শেষে যে রাস্তা, তার ঠিক বিপরীত পাশেই ফ্রেন্ডশিপ মার্কেট। নিচতলা, দোতলা ও তিনতলাজুড়েই বিভিন্ন খেলনার দোকান। নিচতলায় অন্যান্য খেলনার দোকানের মধ্যে চোখে পড়ে ‘সফট টাচ’ নামের কাপড়ের পুতুলের দোকান। ছোট থেকে বড় বিভিন্ন রং ও মানের পুতুল মিলবে ৪০ টাকা থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকায়। বিক্রেতা অভিজিৎ মণ্ডল জানান, দেশি নাকি বিদেশি, পুতুলের রং, আকার আর কাঁচামালের গুণগত মানের ওপর নির্ভর করে পুতুলের দরদামে পার্থক্য দেখা যায়। আছে টেডি ভালুক, হাতি, ঘোড়া, গন্ডার, জিরাফ, হরিণ, বাঘ, সিংহ, পান্ডা, পেঙ্গুইন, কাঠবিড়ালি, কুকুর, বিড়াল, খরগোশ, মিকি মাউস, কচ্ছপ, হাঙর, ক্যাঙারু, ডাইনোসর, ডোরেমন, ক্যান্ডি ডল, স্পাইডার–ম্যান, সুপারম্যান, ব্যাটম্যান, মৎস্যকন্যাসহ আরও অনেক রকম রঙিন পুতুলের সংগ্রহ। এমন পুতুলের দোকানের দেখা পাবেন পার্শ্ববর্তী মদিনা আশিক টাওয়ার, মিটফোর্ড রোডের বিসমিল্লাহ টাওয়ারেও।

ঢাকার এই ছাদবাগানে বছরে গড়ে ৫ মণ আম হয়, এবার ফলন কেমন?চকবাজারের মূল মার্কেটগুলো শুক্রবারে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে

ফ্রেন্ডশিপ মার্কেটের দোতলায় ফুটবলের বৈচিত্র্যময় সংগ্রহ চোখে পড়ে ‘শাহিদুলের খেলনা ঘর’ নামের দোকানে। এখানে চলমান ফুটবল বিশ্বকাপের মাঠে ছুটে চলা ফুটবল কিনতে পারবেন প্রতিটি ৫৫০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৫০০ টাকায়। এ ছাড়া দুই, তিন, চার ও পাঁচ নম্বর আকারের বিভিন্ন ফুটবল কিনতে পারবেন যথাক্রমে ১৮০ টাকা, ১৯০ টাকা, ২০০ টাকা ও ২২০ টাকায়। কাঠির সাহায্যে ফুটবল খেলা যায়, এমন খেলনা বক্স মিলবে ২২০ টাকা থেকে ২৫০ টাকায়। গেম কার্ড প্রতি ডজন ১২০ টাকা থেকে ১৮০ টাকা।

এ ছাড়া প্রতি ডজন লুডু কেনা যাবে ১৭০ থেকে ২২০ টাকায়, দাবা ১ হাজার ৮০ টাকা থেকে ১ হাজার ২০০ টাকায়। চুম্বক–সংবলিত দাবা কেনা যাবে প্রতিটি ৪৫০ থেকে ৪৮০ টাকায়। পাশের খেলনার দোকানে দেখা যায় প্লাস্টিকের বিভিন্ন ব্লক সেট, দাম ৬৫ টাকা থেকে ৬০০ টাকা পর্যন্ত। বিপরীতে চুম্বকের ব্লক সেটের দাম ৫৫০ টাকা থেকে শুরু করে ৯৫০ টাকা।

জেনে রাখা ভালো

  • চকবাজার মূলত পাইকারি বাজার। তবে বিশ্বকাপের মৌসুমে অনেক দোকানদার এক ডজন বা ন্যূনতম প্যাকেজে (যেমন ৩ বা ৬ পিছ) পণ্য বিক্রি করেন। খুচরা কিনতে চাইলে একটু বেশি দাম পড়তে পারে।

  • দুপুরের পর এখানে ভিড় বেড়ে যায়। তাই স্বস্তিতে ঘুরে ঘুরে দেখে কিনতে চাইলে সকাল ১০টা থেকে বেলা ১টার মধ্যে যাওয়া সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ হবে।

  • চকবাজারে সরাসরি বাসযোগে যাওয়ার সুযোগ নেই। বাসে বকশীবাজার বা বাবুবাজার ব্রিজে এসে সেখান থেকে রিকশা নিয়ে যেতে পারেন।

  • চকবাজারের মূল মার্কেটগুলো শুক্রবারে সম্পূর্ণ বন্ধ থাকে। তাই চকবাজার যেতে চাইলে বেছে নিন শনি থেকে বৃহস্পতিবার, সকাল ১০টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সময়।

নিজেকে যেভাবে ফিট রাখেন নাজিফা তুষি, দেখুন ১০টি ছবিতে

Read full story at source