দক্ষিণ আফ্রিকায় এইডস তহবিলে অর্থায়ন বন্ধ করছে যুক্তরাষ্ট্র
· Prothom Alo

দক্ষিণ আফ্রিকার শ্বেতাঙ্গ সংখ্যালঘু সম্প্রদায়ের ওপর কথিত নির্যাতন ও নিপীড়ন ঠেকাতে ব্যর্থতার অভিযোগে দেশটিতে এইচআইভি–এইডস প্রতিরোধ কর্মসূচির অর্থায়ন বন্ধের ঘোষণা দিয়েছে মার্কিন সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের ফলে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি এইডস আক্রান্ত মানুষের দেশটিতে স্বাস্থ্য খাতে বড় ধরনের ধাক্কা লাগতে পারে।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা নিশ্চিত করেছেন, দেশটির এইডস ত্রাণ তহবিল পেপফার-এর অনুদান ধাপে ধাপে কমিয়ে আনা শুরু হবে। ডোনাল্ড ট্রাম্প মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দুই দেশের কূটনৈতিক সম্পর্কে মারাত্মক টানাপোড়েন শুরু হয়। এর চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে এই তহবিল বন্ধের ঘোষণা এলো।
ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে ক্ষমতা গ্রহণের পরপরই একটি নির্বাহী আদেশ জারি করেন। সেখানে অভিযোগ করা হয়, দক্ষিণ আফ্রিকার বর্তমান সরকারি নীতিগুলো শ্বেতাঙ্গ খামারিদের ওপর সহিংসতা উসকে দিচ্ছে এবং সমান অধিকার খর্ব করছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, দক্ষিণ আফ্রিকায় শ্বেতাঙ্গদের ওপর গণহত্যা চালানো হচ্ছে। এ কারণে ট্রাম্প প্রশাসন তাদের জন্য বিশেষ শরণার্থী সুবিধাও চালু করে।
হোয়াইট হাউস বলেছে, দক্ষিণ আফ্রিকার এমন ‘অন্যায় ও অনৈতিক’ কর্মকাণ্ডের কারণে দেশটিতে আর কোনো মার্কিন সহায়তা দেওয়া হবে না। এ ছাড়া আন্তর্জাতিক বিচার আদালতে (আইসিজে) ইসরায়েলের বিরুদ্ধে দক্ষিণ আফ্রিকার মামলা এবং ইরানের সঙ্গে দেশটির ঘনিষ্ঠ সম্পর্ককেও এই অর্থায়নের পথ বন্ধ হওয়ার অন্যতম কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের অভিযোগ সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার। তাদের দাবি, বর্ণবাদ ও অর্থনৈতিক বৈষম্য দূর করতেই কৃষ্ণাঙ্গদের অগ্রাধিকার দেওয়ার নীতি চালু করা হয়েছে, কাউকে নির্যাতন করার জন্য নয়।
মার্কিন অর্থায়ন বন্ধের বিষয়ে দক্ষিণ আফ্রিকার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলেছে, যুক্তরাষ্ট্রের এই সিদ্ধান্তের কথা তাদের আনুষ্ঠানিকভাবে জানানো হয়নি। তবে তারা দীর্ঘদিন ধরেই এইডস কর্মসূচিতে পরনির্ভরশীলতা কমিয়ে নিজেদের স্বাবলম্বী করার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ করছে।
দেশটির সরকার স্পষ্ট করেছে, এইডস আক্রান্তদের জীবনরক্ষাকারী ওষুধের বেশিরভাগ খরচ দক্ষিণ আফ্রিকা সরকার নিজেই বহন করে। দক্ষিণ আফ্রিকায় বর্তমানে ৮০ লাখের বেশি মানুষ এইচআইভি আক্রান্ত, যা বিশ্বের যেকোনো দেশের চেয়ে সর্বোচ্চ।
২০২৫ সাল পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র প্রতি বছর প্রায় ৪০ কোটি ডলার এই খাতে অনুদান দিত, যা দক্ষিণ আফ্রিকার মোট এইডস বাজেটের প্রায় পাঁচ ভাগের এক ভাগ। গত বছর ওয়াশিংটনে এক বৈঠকে ট্রাম্প দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসার সামনে শ্বেতাঙ্গ নির্যাতনের এই অভিযোগগুলো সরাসরি তুলে ধরেন। এরপর থেকে দুই দেশের সম্পর্ক জোড়া লাগানোর সব চেষ্টা ব্যর্থ হয়। এমনকি গত নভেম্বরে দক্ষিণ আফ্রিকায় অনুষ্ঠিত জি-২০ সম্মেলনও বর্জন করেছিল যুক্তরাষ্ট্র।