৩ গোলে জয়ের অনুমান করেছিলাম, মিলে গেছে

· Prothom Alo

হাইতির বিপক্ষে ব্রাজিলের জয়টি প্রত্যাশিতই ছিল। ফিফা র‍্যাঙ্কিংয়ের দিকে তাকালে দেখা যায়, হাইতির চেয়ে ব্রাজিল ৭৯ ধাপ এগিয়ে। মাঠের শক্তির বিচারেও দুই দলের মধ্যে আকাশ-পাতাল ব্যবধান।

তাই সেলেসাওদের জয় নিয়ে ম্যাচের আগে আমার মনে কোনো সংশয় ছিল না। আমি তো বরং টিভি স্টুডিওতে বসেই ম্যাচের আগে অনুমান করেছিলাম, ব্রাজিল ৩-০ গোলে জিতবে। শেষ পর্যন্ত হয়েছেও তা-ই। মাঠের ফলাফলে আমার সেই পূর্বাভাস মিলে যাওয়ায় বেশ ভালো লাগছে।

Visit afsport.lat for more information.

প্রথম ম্যাচে ব্রাজিলের ছন্নছাড়া খেলা দেখে যে হতাশা প্রকাশ করেছিলাম, এই ম্যাচে অন্তত সেই আক্ষেপের সুযোগ নেই। একজন ফুটবলার ও ফুটবলপ্রেমী হিসেবে আজ আমার প্রিয় দলের সমালোচনা করার জায়গা খুব বেশি একটা দেখছি না। দল ঘুরে দাঁড়িয়েছে এবং তাদের পারফরম্যান্সে আমি সন্তুষ্টই বলতে পারেন।

কার্লো আনচেলত্তি একাদশে সময়ের দাবি মেনে দুটি পরিবর্তন আনেন, যা ম্যাচের ফলাফলে বড় ভূমিকা রেখেছে। একাদশে সুযোগ পেয়েই মাতেউস কুনিয়া জোড়া গোল উপহার দিয়েছেন। একজন প্রথাগত ‘নাম্বার নাইন’-এর কাছে দলের চাওয়া তো ঠিক এটাই। প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগ চিরে তাঁর বুদ্ধিমত্তায় ঠাসা ফিনিশিংগুলো চোখে পড়ার মতো ছিল।

হাইতির জালে জোড়া গোল করা মাতেউস কুনিয়া

টুর্নামেন্ট শুরুর আগে থেকেই বলা হচ্ছিল, ব্রাজিল দলে একজন ভালো নাম্বার নাইনের অভাব আছে। তবে কুনিয়ার মতো একজন ৯ নম্বর জার্সিধারীর গোল পাওয়া মানে পুরো স্কোয়াডের জন্যই এটা বিরাট স্বস্তির বিষয়।

অন্যদিকে ভিনিসিয়ুস জুনিয়র আরও একবার নিজের জাত চিনিয়েছেন। নিজে একটি দর্শনীয় গোল করার পাশাপাশি সতীর্থকে দিয়ে ১টি গোল করিয়েছেনও। চলতি টুর্নামেন্টে টানা দুই ম্যাচে ভিনির ২ গোল আর ১টি অ্যাসিস্টের পরিসংখ্যানই প্রমাণ করে, এখন পর্যন্ত তিনিই এই ব্রাজিল দলের সেরা ও সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য খেলোয়াড়।

৬২ শটেও গোল নেই, তুরস্কের বিশ্বকাপ শেষ

তবে ম্যাচ জিতলেও ব্রাজিলের কিছু দুর্বলতা রয়েই গেছে। বিশেষ করে মাঝমাঠে কাসেমিরো ও লুকাস পাকেতার সমন্বয়টা আমার খুব একটা ভালো লাগেনি। তাঁদের মধ্যে বোঝাপড়ার ঘাটতি ছিল।

এই কম্বিনেশনটা কীভাবে আরও কার্যকর করা যায় বা এর বিকল্প কী হতে পারে, তা নিয়ে কোচ আনচেলত্তি নিশ্চয়ই ভাববেন। উইঙ্গার রাফিনিয়ার ফর্মহীনতাও বড় চিন্তার কারণ। বার্সেলোনায় আমরা যে ক্ষুরধার রাফিনিয়াকে দেখি, জাতীয় দলে তাঁকে সেই চেনা ছন্দে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না।

প্রথম গোলের পর ব্রাজিল খেলোাড়দের উদযাপন

ম্যাচে ব্রাজিলের গোল আরও বেশি হতে পারত, যদি না অফসাইডের কারণে ২টি গোল বাতিল হতো। প্রথমার্ধেই স্কোরলাইন ৩-০ হয়ে যাওয়ার পর ভেবেছিলাম, দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণের ধার বাড়িয়ে গোলের সংখ্যা আরও বাড়াবে ব্রাজিল, কিন্তু সেটি আর হয়নি।

এই জয়ের পর ব্রাজিল বর্তমানে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষে অবস্থান করছে। তবে গ্রুপের অন্য ম্যাচে মরক্কোও জয় পাওয়ায় তারা ব্রাজিলের ঘাড়ে নিশ্বাস ফেলছে, ফলে গ্রুপটি এখনো বেশ জমজমাট।

গ্রুপ পর্বে ব্রাজিলের শেষ ম্যাচ স্কটল্যান্ডের বিপক্ষে। এই ম্যাচের আগে সেলেসাও ভক্তদের জন্য একটি দারুণ খবর পাওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। নেইমারের এক বাংলাদেশি বন্ধুর সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে আমার কথা বলার সুযোগ হয়েছিল।

তাঁর কাছ থেকে জানতে পারলাম, শেষ ম্যাচটিতে হয়তো নেইমার মাঠে নামতে পারেন। তিনি যদি সত্যি ইনজুরি কাটিয়ে দলে ফেরেন, তাহলে সেলেসাওদের মাঠের আত্মবিশ্বাস ও আক্রমণের শক্তি বেড়ে যাবে বলে আমার বিশ্বাস।

হাসিমুখেই গ্যালারি ছেড়েছেন ব্রাজিল সমর্থকেরা

সব মিলিয়ে ব্রাজিলের একজন সমর্থক হিসেবে হাইতির বিপক্ষে ভিনিসিয়ুসদের এই জয়ে আমি খুশি। তবে টুর্নামেন্টে চ্যাম্পিয়ন হতে গেলে দলটিকে আরও নিখুঁত ও পেশাদার হতে হবে।

নকআউটে বড় দলগুলোর বিপক্ষে নামার আগে উন্নতির অনেক জায়গা এখনো বাকি। আশা করি, ব্রাজিল সামনে নিজেদের আরও গুছিয়ে নেবে এবং আমার মতো সমর্থককে আরও উজ্জীবিত করবে।

অধিনায়ক, বাংলাদেশ জাতীয় ফুটবল দল।

ব্রাজিলের জন্য সুখবর, পরের ম্যাচেই খেলবেন নেইমার

Read full story at source