পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে চূড়ান্ত ভোট গণনায় এগিয়ে রক্ষণশীল কেইকো ফুজিমোরি

· Prothom Alo

পেরুর প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে দ্বিতীয় ধাপের ভোটের চূড়ান্ত গণনায় সামান্য ব্যবধানে এগিয়ে আছেন রক্ষণশীল প্রার্থী কেইকো ফুজিমোরি। শতভাগ ভোট গণনা শেষে দেখা যায়, ফুজিমোরি ৫০ দশমিক ১৩ শতাংশ ভোট পেয়েছেন। তাঁর প্রতিদ্বন্দ্বী বামপন্থী রবার্তো সানচেজ পেয়েছেন ৪৯ দশমিক ৮৬ শতাংশ ভোট।

গত এপ্রিলে প্রথম ধাপের ভোটে কোনো প্রার্থী ৫০ শতাংশ ভোট না পাওয়া দ্বিতীয় ধাপে (রান–অফ) গড়ায় নির্বাচন। গত ৭ জুনের দ্বিতীয় ধাপের ভোটের বিতর্কিত ব্যালটগুলো কর্তৃপক্ষ কয়েক সপ্তাহ ধরে পর্যালোচনা করে। আগামী ৩ জুলাই আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল ঘোষণার কথা নির্বাচন কমিশন ন্যাশনাল ইলেকটোরাল জুরির (জেএনই)।

Visit afrikasportnews.co.za for more information.

এদিকে শতভাগ ভোট গণনার খবর আসতেই স্থানীয় সময় গতকাল সোমবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে কেইকো বলেন, তিনি ন্যাশনাল ইলেকটোরাল জুরির আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণার অপেক্ষায় আছেন। তিনি লিখেছেন, ‘আমরা পেরুবাসীর জন্য সুশৃঙ্খল ও আশার পথে যাত্রা শুরু করার আরও কাছাকাছি পৌঁছে যাচ্ছি।’

প্রয়াত প্রেসিডেন্ট আলবার্তো ফুজিমোরির ৫১ বছর বয়সী মেয়ে কেইকো। আলবার্তো মানবাধিকার লঙ্ঘনের দায়ে ১৬ বছর কারাভোগ করেছিলেন।

গত সপ্তাহে কেইকো বলেছেন, ‘দুই শিবিরে ভাগ হয়ে যাওয়া’ দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ করাই তাঁর লক্ষ্য। তিনি অপরাধ কমানো এবং বিদ্যমান চরম বৈষম্য দূর করারও অঙ্গীকার করেছেন।

এদিকে নির্বাচনী ফলাফলের বিরোধিতা করে সুর চড়াচ্ছেন সানচেজ। এই বামপন্থী সিনেটর বলেন, কেইকোর সরকারকে স্বীকৃতি দেবেন না তিনি। যদিও কেইকোর পক্ষে নির্বাচনে কারচুপি করা হয়েছে—এমন কোনো তথ্যপ্রমাণ তিনি দিতে পারেননি। আনুষ্ঠানিক ফল ঘোষণা ঠেকাতে আগামী কয়েক দিনের মধ্যে আদালতে আবেদন করবেন বলেও জানান সানচেজ।

সানচেজ রাজধানী লিমায় ‘ভোট রক্ষার’ মিছিলে নেতৃত্ব দিয়েছেন এবং আগামী দিনগুলোতে তাঁর সমর্থকদের আরও বিক্ষোভ করার আহ্বান জানিয়েছেন। এটি দেশটির রাজনৈতিক সংকটকে আরও দীর্ঘায়িত করতে পারে।

কেইকো আগামী ২৮ জুলাই দায়িত্ব গ্রহণ করতে পারেন। তাহলে তিনি হবেন ২০১৬ সালের পর দেশটির দশম প্রেসিডেন্ট।

প্রেসিডেন্ট হওয়ার তিনবারের ব্যর্থ প্রচেষ্টার পর অবশেষে কেইকোর হাতে বিজয় ধরা দিয়েছে। এর মাধ্যমে একদিকে যেমন লাতিন আমেরিকার ডান পন্থার দিকে ঝুঁকে পড়ার প্রবণতা আরও সুসংহত হলো, তেমনি গত তিন দশকের মধ্যে পেরুর অন্যতম প্রভাবশালী রাজনৈতিক পরিবারে প্রত্যাবর্তনও নিশ্চিত হলো। এই পরিবারের বিরুদ্ধে বিভক্তির রাজনীতি করার অভিযোগ রয়েছে।

Read full story at source