সিরিয়া, ওমান ও কুয়েতে মার্কিন স্থাপনায় হামলা; রাডার ও হেলিকপ্টার ধ্বংসের দাবি ইরানের

· Prothom Alo

বেসামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী (আইআরজিসি) মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে নতুন করে পাল্টাহামলা চালিয়েছে বলে দাবি করেছে। বাহিনীটির দাবি, তারা সিরিয়ায় যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ অভিযান পরিচালনাকারী একটি কমান্ড সেন্টার, ওমানে মার্কিন রাডার স্থাপনা এবং কুয়েতে অস্ত্রের গুদাম ও ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণব্যবস্থাকে নিশানা করে এ হামলা চালিয়েছে। অন্যদিকে কাতার, জর্ডান ও ইরাকে হামলার খবর জানিয়েছে আল–জাজিরা।

আজ শুক্রবার আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ এক বিবৃতিতে জানায়, তাদের এরোস্পেস ফোর্সের (মহাকাশ বাহিনী) পরিচালিত এই অভিযানে একটি রাডার ব্যবস্থা ও বিশেষ অভিযানে ব্যবহৃত কয়েকটি মার্কিন হেলিকপ্টার ধ্বংস করা হয়েছে। অনেক মার্কিন সেনা নিহত হয়েছেন।

Visit casino-promo.biz for more information.

বিবৃতিতে বলা হয়, গত বুধবার (১৫ জুলাই) ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় ইরানশাহরের কাছে বামপুরে সেনাবাহিনীর ৩৮৮তম ব্রিগেডের ঘাঁটিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিমান হামলায় নিহত সাত ইরানি সেনার মৃত্যুর প্রতিশোধ হিসেবে এসব হামলা চালানো হয়েছে।

আইআরজিসি আরও বলেছে, ‘আমাদের সাহসী যোদ্ধারা এখনো হরমুজ প্রণালির পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছেন। যুক্তরাষ্ট্র যতক্ষণ তার উসকানিমূলক তৎপরতা চালিয়ে যাবে, ততক্ষণ মধ্যপ্রাচ্য অঞ্চল থেকে এক ফোঁটা তেল বা গ্যাস রপ্তানি করতে দেওয়া হবে না।’

বিবৃতিতে যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে অভিযোগ করা হয়, গত কয়েক দিনে তারা ইরানে একাধিক প্রাণঘাতী হামলা চালিয়েছে এবং যুদ্ধ শেষ করার চুক্তি লঙ্ঘন করে আবারও ইরানের বন্দরগুলো অবরুদ্ধ করেছে।

জবাবে ইরানের সশস্ত্র বাহিনী এই অঞ্চলজুড়ে যুক্তরাষ্ট্রের গুরুত্বপূর্ণ নিশানায় ব্যাপক পাল্টাহামলা চালিয়েছে বলে দাবি করে আইআরজিসি। একই সঙ্গে ‘পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত’ এবং অন্তত এই ‘অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের হস্তক্ষেপ শেষ না হওয়া পর্যন্ত’ হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকবে বলেও ঘোষণা দিয়েছে তারা।

গতকাল বৃহস্পতিবার গভীর রাত থেকে শুক্রবার পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় হরমোজগান প্রদেশে কয়েকটি সেতুসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামোতে হামলা চালিয়েছে। হামলার সময় সেতুগুলো দিয়ে যানবাহন চলাচল করছিল। এতে সেতু থেকে যানবাহন নিচে পড়ে যায়।

কুয়েতে মার্কিন অস্ত্রভান্ডার, হিমার্স ও রাডারে হামলার দাবি

আজ পৃথক এক বিবৃতিতে আইআরজিসির জনসংযোগ বিভাগ জানায়, ইরানের বাহিনী পাল্টাহামলার নতুন ধাপ শুরু করেছে। অভিযানের প্রথম ধাপে কুয়েতে মার্কিন ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা নজরদারি রাডার, একাধিক অস্ত্রভান্ডার, দুটি হিমার্স (হাই মোবিলিটি আর্টিলারি রকেট সিস্টেম) উৎক্ষেপণব্যবস্থা এবং বেশ কয়েকটি ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য করে হামলা চালানো হয়েছে। এতে কুয়েতে মার্কিন বাহিনীর একটি ঘাঁটিতে বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করা হয়েছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র আবারও ভুলভাবে ধরে নিয়েছিল, ইরান দুর্বল হয়ে পড়েছে। সেই ধারণা থেকে তারা আলোচনার মধ্যেই আবার যুদ্ধ শুরু করেছে। অতীতের মতো এবারও তারা নিজেদের অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছে। এখন তারা হতাশ, নিজেদের কর্মকাণ্ডের জন্য অনুতপ্ত এবং ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের সশস্ত্র বাহিনীর বিরুদ্ধে সফল হওয়ার আশা হারিয়ে আবারও যুদ্ধাপরাধের পথ বেছে নিয়েছে, যাতে সংঘাতের গতিপথ বদলে দেওয়া যায়।

আইআরজিসির দাবি, যুক্তরাষ্ট্র টেলিযোগাযোগ, রেলপথের অবকাঠামোসহ বিভিন্ন বেসামরিক স্থাপনা এবং চলন্ত যানবাহনে হামলা চালিয়েছে। এতে কয়েকজন বেসামরিক ব্যক্তি হতাহত হয়েছেন।

বিবৃতিতে আরও বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্রের এসব পদক্ষেপের ফলে তেল ও গ্যাস উৎপাদন উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে তেল ও গ্যাস রপ্তানি পুরোপুরি বন্ধ রয়েছে। একই সঙ্গে ইরানের পাল্টা–অভিযান অব্যাহত থাকবে বলেও সতর্ক করা হয়।

ওমানে মার্কিন নৌ ও আকাশ নজরদারি রাডার ধ্বংসের দাবি

পরে প্রকাশিত আরেকটি বিবৃতিতে আইআরজিসি জানায়, তাদের বাহিনী ওমানের সালমাহ মালভূমিতে থাকা একটি মার্কিন নৌ নজরদারি রাডার এবং ঘানাম এলাকায় মোতায়েন একটি মার্কিন আকাশ নজরদারি রাডারে হামলা চালিয়ে সেগুলো ধ্বংস করেছে।

বিবৃতিতে বলা হয়, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের বিরুদ্ধে আগ্রাসন শুরু করে। তবে ৪০ দিন পর গত ৮ এপ্রিল ইরানের প্রতিরোধ, সফল পাল্টাহামলা এবং হরমুজ প্রণালির ওপর শক্ত নিয়ন্ত্রণের মুখে তারা যুদ্ধবিরতি মেনে নিতে বাধ্য হয়।

এতে আরও বলা হয়, ১৭ জুন পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় তেহরান ও ওয়াশিংটন একটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সই করেছে। এতে সব ফ্রন্টে স্থায়ীভাবে সংঘাত বন্ধ করা এবং পরবর্তী ৬০ দিনের মধ্যে চূড়ান্ত চুক্তির লক্ষ্যে আরও আলোচনা চালিয়ে যাওয়ার প্রতিশ্রুতি ছিল।

তবে যুক্তরাষ্ট্র ওই সমঝোতার একাধিক শর্ত লঙ্ঘন করেছে বলে দাবি করা হয়। এর ফলে ইরান কঠোর জবাব দিয়েছে বলে আইআরজিসি বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।

তেহরানের ইমাম হোসেন স্কয়ারে ইরানের জাতীয় পতাকার পাশে প্রতীকী ক্ষেপণাস্ত্রের প্রতিরূপ। ১২ জুলাই ২০২৬

কাতার, জর্ডান ও ইরাকে হামলার খবর

আল–জাজিরার হালনাগাদ খবরে বলা হয়েছে, কাতারের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির সশস্ত্র বাহিনী আকাশপথে একাধিক হামলা প্রতিহত করছে। এর আগে ইরানের হামলার পর পড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষের আঘাতে এক শিশু আহত হয়েছে।

জর্ডানের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা তিনটি ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। সেনাবাহিনীর ভাষ্যমতে, এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি। পরে রয়্যাল ইঞ্জিনিয়ারিং কোরের সদস্যরা পড়ে থাকা ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে নেন।

উত্তর ইরাকের কুর্দিস্তান অঞ্চলের সুলাইমানিয়াহ শহরে চারটি বড় ধরনের বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে বলে জানিয়েছে কুর্দি সংবাদমাধ্যম রুদাও।

একই সময় ইরাকের উত্তরাঞ্চলের এরবিল শহরের আকাশ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন জোটের বাহিনী আটটি বিস্ফোরকবোঝাই ড্রোন ভূপাতিত করেছে বলে জানিয়েছে কুর্দি সন্ত্রাসবিরোধী বাহিনী। ইরাকের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইএনএর খবরে বলা হয়েছে, এ ঘটনায় কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি।

Read full story at source