প্রাথমিক শিক্ষাকে সত্যিকার অর্থেই জাতীয় অগ্রাধিকার দিতে হবে
· Prothom Alo
প্রাথমিক শিক্ষা হলো শিক্ষার ভিত্তি। এই স্তরের শিক্ষার ওপরই মূলত নির্ভর করে পরবর্তী শিক্ষাজীবনের সাফল্য। কিন্তু দুঃখজনকভাবে দেশের প্রাথমিক শিক্ষার্থীদের মৌলিক শিখনদক্ষতায় বড় ধরনের ঘাটতি রয়েছে, যা অত্যন্ত উদ্বেগজনক। পড়া, লেখা ও গণনার ভিত্তি দুর্বল থাকলে পরবর্তী শ্রেণিতে সেই ঘাটতি আরও প্রকট হয়। পরিদর্শনে নগর ও মফস্সল এলাকার মধ্যে শিখনদক্ষতার বৈষম্যও স্পষ্ট হয়ে উঠেছে। এই বৈষম্য সময়ের সঙ্গে আরও বাড়তে পারে, যা ভবিষ্যতে শিক্ষায় অসমতা আরও গভীর করবে।
Visit casino-promo.biz for more information.
তাই এই সমস্যাকে শুধু বিদ্যালয়ের দুর্বলতা হিসেবে দেখলে হবে না; এর পেছনে শিক্ষকসংকট, দক্ষ ও যোগ্য শিক্ষকের অভাব, প্রশিক্ষণের ঘাটতি, দুর্বল মনিটরিং (পরিবীক্ষণ), শিক্ষার্থীদের অনিয়মিত উপস্থিতি এবং পারিবারিক-সামাজিক বাস্তবতাসহ নানা কারণ রয়েছে। করোনাকালে তৈরি হওয়া শিখনঘাটতির প্রভাবও এখনো পুরোপুরি কাটেনি।
এ পরিস্থিতিতে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দিতে হবে শিক্ষকের ওপর। যোগ্য ও মেধাবীদের শিক্ষকতায় আকৃষ্ট করার পাশাপাশি দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ দিতে হবে। নিয়োগের পর এককালীন প্রশিক্ষণ নয়, ধারাবাহিক পেশাগত প্রশিক্ষণ এবং বিষয়ভিত্তিক দক্ষতা উন্নয়নের কার্যকর ব্যবস্থা থাকতে হবে, যাতে শিক্ষকেরা শ্রেণিকক্ষে শিশুদের প্রয়োজন অনুযায়ী পাঠদান করতে পারেন। একই সঙ্গে প্রতিটি শ্রেণিতে শিখনঘাটতি চিহ্নিত করে পুনরুদ্ধার কর্মসূচি চালু, কার্যকর পরিবীক্ষণ, শিক্ষার্থীদের নিয়মিত উপস্থিতি নিশ্চিত এবং শিশুদের জন্য উপবৃত্তির পরিমাণ বাড়ানোর পাশাপাশি অন্যান্য সামাজিক সহায়তা কর্মসূচিও জোরদার করতে হবে। প্রাথমিক শিক্ষাকে সত্যিকার অর্থে জাতীয় অগ্রাধিকার দিয়ে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ, দক্ষ শিক্ষক এবং কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে তবেই মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
রাশেদা কে চৌধূরী, সাবেক তত্ত্বাবধায়ক সরকারের উপদেষ্টা