বিশ্বে বছরে পানিতে ডুবে মৃত্যু সাড়ে তিন লাখ

· Prothom Alo

বিশ্বে প্রতিবছর সাড়ে তিন লাখের বেশি মানুষ পানিতে ডুবে মারা যায়। এসব মৃত্যুর ৯০ শতাংশই ঘটে বাংলাদেশের মতো নিম্ন ও মধ্য আয়ের দেশগুলোতে। কিন্তু শিশু–কিশোরদের অকালমৃত্যুর এ বিষয়টি বেশির ভাগ দেশে​ উপেক্ষিত।

Visit asg-reflektory.pl for more information.

এদিকে জলবায়ুর পরিবর্তন দিন দিন এ ধরনের মৃত্যুঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। এ বাস্তবতায় বিশ্ব ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ দিবস (২৫ জুলাই) উপলক্ষে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে সাতটি প্রমাণভিত্তিক কৌশল নিয়ে নতুন কারিগরি নির্দেশিকা (এর নাম দেওয়া হয়েছে প্রটেক্ট) তুলে ধরেছে।

ডব্লিউএইচও মনে করে, ডুবে মৃত্যু এখন শুধু একটু জনস্বাস্থ্যের বিষয় নয়। এটি উন্নয়নের একটি প্রতিবন্ধকতাও বটে। আর এটিকে রোধ করা শুধু সরকারের একটি দপ্তর বা মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়। এ জন্য দরকার বিভিন্ন দপ্তর ও মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগ। গতকাল বৃহস্পতিবার ঘানার রাজধানী আক্রায় এক সম্মেলনে প্রকাশিত বৈশ্বিক প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়েছে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে ডুবে মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাজ্যের এক গবেষণায় দেখা যায়, তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে ডুবে মৃত্যুর হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি ছিলেন ঘানার উপস্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এবেনেজা ক্লুতে টেলাবি। কৌশলপত্র প্রকাশের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি বলেন, ৫ থেকে ১৪ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর শীর্ষ ১০ কারণের একটি হলো ডুবে মৃত্যু। নদী, হ্রদ, পুকুর, কূপ, গৃহস্থালির পানির সংরক্ষণ পাত্র ও সুইমিংপুলে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটে।

ডব্লিউএইচওর প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ডুবে যাওয়ার ঝুঁকিও বাড়ছে। বন্যা, ঝড় ও তাপপ্রবাহের মতো চরম আবহাওয়ার ঘটনা বেড়ে যাওয়ায় পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঝুঁকি বাড়ছে।

বিভিন্ন গবেষণায় দেখা গেছে, তাপমাত্রা বাড়ার সঙ্গে ডুবে মৃত্যুর সম্পর্ক রয়েছে। যুক্তরাজ্যের এক গবেষণায় দেখা যায়, তাপমাত্রা প্রতি ১ ডিগ্রি সেলসিয়াস বাড়লে ডুবে মৃত্যুর হার ৭ দশমিক ২ শতাংশ বৃদ্ধি পায়।

ডব্লিউএইচওর ঘানার প্রধান ফিওনা ব্রাকাডুবে মৃত্যু শুধু একটি জনস্বাস্থ্যের বিষয় নয়। এটি বড় ধরনের একটি উন্নয়ন প্রতিবন্ধকতা। এই মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। এ জন্য চাই সরকারের সুদৃষ্টি এবং সঠিক নীতি কৌশল।

গতকালের অনুষ্ঠানে পাঠানো এক বিবৃতিতে ডব্লিউএইচওর মহাপরিচালক তেদরোস আধানোম গেব্রেয়াসুস বলেন, প্রতিটি ডুবে মৃত্যু একটি ট্র্যাজেডি এবং অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা প্রতিরোধযোগ্য। সাতটি কৌশল দেশগুলোকে বাস্তবভিত্তিক ও কার্যকর পদক্ষেপ নিতে সহায়তা করবে। এর মধ্যে রয়েছে নৌযান নিরাপদ করা, স্কুলশিক্ষার্থীদের সাঁতার ও পানিতে নিরাপদ থাকার শিক্ষা দেওয়া এবং বন্যার মতো দুর্যোগের জন্য প্রস্তুতি জোরদার করা। তাঁর মতে, ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধ শুধু মন্ত্রণালয়ের কাজ নয়, এটি সবার দায়িত্ব।

ইংরেজি প্রটেক্ট শব্দের প্রতিটি অক্ষর একটি কৌশলকে নির্দেশ করে। এগুলো হলো পানির সঙ্গে নিরাপদ মিথস্ক্রিয়ার জন্য অবকাঠামো গড়ে তোলা (Physical infrastructure), উদ্ধার ও পুনরুজ্জীবন সক্ষমতা বাড়ানো (Rescue and resuscitation), পানিতে কর্মরত ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা (Occupational safety), নৌযান ও জলপথে নিরাপত্তা মানদণ্ড জোরদার করা (Transport safety), মৌলিক সাঁতার ও পানি নিরাপত্তা শিক্ষা (Education), শিশু পরিচর্যা ও সুরক্ষাব্যবস্থা শক্তিশালী করা (Child-care systems) এবং বন্যাসহ বিভিন্ন দুর্যোগে প্রস্তুতি বৃদ্ধি (Threat preparedness)।

২০৩৫ সালের মধ্যে ডুবে মৃত্যু ৩৫ শতাংশ কমানোর কথা বলল ডব্লিউএইচও

অনুষ্ঠানে ডব্লিউএইচওর টেকনিক্যাল অফিসার (ভায়োলেন্স অ্যান্ড ইনজুরি প্রিভেনশন) ড. ক্যারোলিন লুকাজিক বলেন, ডুবে মৃত্যু রোধে বিশ্বের দেশগুলো সবাই সমানভাবে সজাগ নয়। অনেক দেশেই এ–সংক্রান্ত নীতি কৌশল নেই। আবার যাদের আছে সেগুলো অনেক ক্ষেত্রে যথার্থ নয়। আর সে জন্যই নীতিনির্ধারকদের হাতে কার্যকর নির্দেশিকা তুলে দিচ্ছে ডব্লিউএইচও। 

ডব্লিউএইচওর ঘানার প্রধান ফিওনা ব্রাকা বলেন, ডুবে মৃত্যু শুধু একটি জনস্বাস্থ্যের বিষয় নয়। এটি বড় ধরনের একটি উন্নয়ন প্রতিবন্ধকতা। এই মৃত্যু রোধ করা সম্ভব। এ জন্য চাই সরকারের সুদৃষ্টি এবং সঠিক নীতি কৌশল।

বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা, ইউনিসেফসহ জাতিসংঘের একাধিক সংস্থা এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশের একাধিক গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের শীর্ষ গবেষকেরা মিলে এই সাত নীতি কৌশল তৈরি করেছেন। প্রতিষ্ঠানগুলোর একটি হলো সেন্টার ফর ইনজুরি প্রিভেনশন অ্যান্ড রিসার্চ বাংলাদেশ (সিআইপিআরবি)।

প্রতিষ্ঠানটির গবেষণা কর্মকর্তা আল আমিন ভূঁইয়া অনুষ্ঠানে ছিলেন। তিনি বলেন, বাংলাদেশের অভিজ্ঞতায় দেখা যায়, হাওর কিংবা দক্ষিণাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকায় ডুবে মৃত্যু বাড়ছে। হঠাৎ অতিবৃষ্টি, বন্যার মতো ঘটনা ডুবে মৃত্যুকে ত্বরান্বিত করছে। বেশির ভাগ ঘটনা ঘটছে গ্রাম এলাকায়। তাই অনেক মৃত্যু জানার বাইরে থেকে যায়। জলবায়ু পরিবর্তন এভাবে বাংলাদেশের মতো দেশগুলোতে ডুবে মৃত্যুর একটা বড় কারণ হিসেবে দেখা দিয়েছে। 

বাংলাদেশে ডুবে মৃত্যু রোধে কাজ করছে সিনারগোস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার এম রিজওয়ান খান অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর প্রথম পাঁচটি কারণের একটি হলো ডুবে মৃত্যু। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ঘানার এই সম্মেলনের মূল আয়োজক ডব্লিউএইচও। তাদের সহায়তা করছে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস। ২০১৪ সাল থেকে ব্লুমবার্গ ফিলানথ্রপিস ডব্লিউএইচওর সঙ্গে যৌথভাবে ডুবে মৃত্যু প্রতিরোধে কাজ করছে এবং সাত দফার প্রটেক্ট কারিগরি প্যাকেজ তৈরিতেও সহায়তা দিয়েছে। 

গতকালের অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ, ঘানা, তানজানিয়া, উগান্ডার প্রতিনিধিরা ডুবে মৃত্যু রোধে তাঁদের দেশের বিভিন্ন কর্মকাণ্ড তুলে ধরেন।

বাংলাদেশে ডুবে মৃত্যু রোধে কাজ করছে সিনারগোস নামের একটি প্রতিষ্ঠান। এর প্রোগ্রাম ম্যানেজার এম রিজওয়ান খান অনুষ্ঠানে বলেন, বাংলাদেশে এক থেকে পাঁচ বছর বয়সী শিশুদের মৃত্যুর প্রথম পাঁচটি কারণের একটি হলো ডুবে মৃত্যু। প্রাকৃতিক দুর্যোগ এই মৃত্যুর ঝুঁকি অনেক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। জলবায়ু সংবেদনশীল দেশ হিসেবে বাংলাদেশকে অবশ্যই এর ঝুঁকি বিবেচনায় নিয়ে ডুবে মৃত্যু রোধে কার্যকর উদ্যোগ নিতে হবে।

Read full story at source