পরিবারের পরিচয়ে নয়, দর্শকের ভালোবাসায়

· Prothom Alo

তারকার সন্তান হওয়ার সুবিধা যেমন আছে, তেমনি আছে প্রত্যাশার বাড়তি চাপ। টেলিভিশনের জনপ্রিয় অভিনেত্রী শ্বেতা তিওয়ারির মেয়ে পলক তিওয়ারিও সেই বাস্তবতার মধ্য দিয়েই গেছেন। ‘বিজলি বিজলি’ গান দিয়ে আলোচনায় আসা এই অভিনেত্রী পরে সালমান খানের সঙ্গে ‘কিসি কা ভাই কিসি কি জান’ এবং ‘দ্য ভূতনি’ ছবিতে অভিনয় করেন। সম্প্রতি ওয়েব সিরিজ ‘লুকখে’-তে তাঁর অভিনয় প্রশংসিত হয়েছে। নতুন সিরিজ, ক্যারিয়ার, মা এবং ব্যক্তিগত স্বপ্ন নিয়ে এক সাক্ষাৎকারে খোলামেলা কথা বলেছেন বলিউডের এই নতুন মুখ।

Visit freshyourfeel.org for more information.

পলকের সবচেয়ে বড় স্বপ্নের সঙ্গে জড়িয়ে আছেন তাঁর মা। তিনি বলেন, ‘আমি কখনো টাকার অভাব বোধ করিনি। আমি জন্মানোর আগেই মা প্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী হয়ে গিয়েছিলেন। তাই কোনো কিছুর অভাব নিয়ে বড় হইনি। কিন্তু মা যেহেতু মধ্যবিত্ত পরিবার থেকে উঠে এসেছেন, তাই আজও টাকা খরচের আগে দুবার ভাবেন। আমি এত আয় করতে চাই, যেন ওনাকে কোনো দিন খরচের হিসাব করতে না হয়।’

পলক তিওয়ারি। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

মায়ের একটি অভ্যাসের কথাও তুলে ধরেন পলক। তাঁর ভাষায়, ‘মা নিজের জন্য কখনো দামি কিছু কেনেন না। সব সময় ভাবেন, সেই টাকা আমার আর ভাই রেয়াংশের জন্য খরচ করবেন। আমার ইচ্ছা, আমি এতটাই সফল হই, যেন টাকাপয়সা ওনার কাছে হাতের ময়লার মতো মনে হয়। উনি যা ইচ্ছা, সেটাই কিনতে পারেন।’ এ লক্ষ্যই তাঁকে প্রতিদিন আরও কঠোর পরিশ্রমের অনুপ্রেরণা দেয়।

বয়স বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে তিনি মায়ের মতোই হয়ে উঠছেন বলে মনে করেন পলক। আশপাশের মানুষও তাঁকে প্রায়ই এ কথা বলেন। আর তাঁর কাছে এটি গর্বের বিষয়। মায়ের ব্যক্তিত্ব, ধৈর্য ও কাজের প্রতি নিষ্ঠাই পলককে সবচেয়ে বেশি অনুপ্রাণিত করে। তিনি বলেন, ‘আমি চাই, যতটা সম্ভব মায়ের মতো মানুষ হতে।’

পলক তিওয়ারি। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

ওয়েব সিরিজ ‘লুকখে’-তে পলক এক আবেগপ্রবণ বোনের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। বাস্তব জীবনেও ছোট ভাই রেয়াংশের সঙ্গে তাঁর সম্পর্ক বেশ আন্তরিক। তবে মজার ছলে তিনি জানান, বাড়িতে ভাই-ই নাকি বেশি কর্তৃত্ব দেখায়। ‘সবাই ভাবে, আমি নিশ্চয়ই ওর ওপর দাদাগিরি করি। কিন্তু বাস্তবে সেটা একেবারেই নয়। বাড়িতে মায়ের সবচেয়ে আদরের সন্তান রেয়াংশ। ও যদি আমাকে মারেও, আমি মায়ের কাছে অভিযোগ করলে মা-ই উল্টো বলেন, নিশ্চয়ই আমি আগে কিছু করেছি,’ বলেন পলক।
অভিনয়ের পাশাপাশি নিজের ক্যারিয়ার নিয়েও যথেষ্ট সচেতন পলক। তাঁর মতে, শুধু তারকার সন্তান হওয়ার কারণে কেউ দীর্ঘদিন ইন্ডাস্ট্রিতে টিকে থাকতে পারে না। দর্শক শেষ পর্যন্ত অভিনয়ই দেখেন। তাই প্রতিটি কাজের মাধ্যমে নিজেকে আরও ভালো অভিনেত্রী হিসেবে গড়ে তুলতে চান তিনি। বিভিন্ন ধরনের চরিত্রে অভিনয় করে নিজের সীমাবদ্ধতা ভাঙাই এখন তাঁর লক্ষ্য।

পলক তিওয়ারি। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

বলিউডে যাত্রার শুরুতেই সালমান খানের মতো তারকার সঙ্গে কাজ করার সুযোগ পেয়েছিলেন পলক। অনেকেই এটিকে তাঁর সৌভাগ্য বলে মনে করেন। তবে তাঁর বিশ্বাস, ভাগ্যের পাশাপাশি কঠোর পরিশ্রমই একজন শিল্পীকে এগিয়ে নিয়ে যায়। তিনি বলেন, ‘সালমান স্যারের সঙ্গে কাজ করার সুযোগ অবশ্যই বড় পাওয়া। কিন্তু শুধু ভাগ্য দিয়ে কিছু হয় না। প্রতিটি চরিত্রে নিজেকে আরও ভালো করার চেষ্টা করতে হয়।’
তারকার সন্তান হওয়ায় সুযোগ পাওয়া সহজ, এমন ধারণাও মানতে নারাজ পলক। তাঁর দাবি, অভিনয়ের জন্য তাঁকেও নিয়মিত অডিশন দিতে হয়, প্রতিটি চরিত্র নিজের যোগ্যতায় অর্জন করতে হয়। তাঁর কথায়, একজন শিল্পীর পরিচয় তৈরি হয় দর্শকের ভালোবাসা দিয়ে, পরিবারের পরিচয়ে নয়।

গভীর রাতের ব্যক্তিগত ভাবনা থেকে সব জানা যাবে, এআই নিয়ে জ্যাকুলিনের চমক

মায়ের কাছ থেকেই অভিনয়ের সবচেয়ে বড় অনুপ্রেরণা পান পলক। লুকখে সিরিজে তাঁর সানোবে চরিত্রটি তৈরি করতে মা শ্বেতা তিওয়ারির জনপ্রিয় চরিত্র প্রেরণা থেকে অনুপ্রেরণা নিয়েছিলেন পলক। তিনি বলেন, ‘সানোবে চরিত্রটি যেন মায়ের প্রেরণা চরিত্রের প্রতি আমার ভালোবাসার উপহার।’

নিজের পথ এখনো দীর্ঘ বলেই মনে করেন পলক। সাফল্যের চেয়ে শেখার প্রক্রিয়াটিকেই তিনি বেশি গুরুত্ব দেন। তাঁর বিশ্বাস, প্রতিটি নতুন কাজ তাঁকে আরও পরিণত শিল্পী করে তুলবে। আর সেই পথচলার সবচেয়ে বড় শক্তি তাঁর মা। শ্বেতা তিওয়ারির ত্যাগ, সংগ্রাম ও ভালোবাসার প্রতিদান একদিন নিজের সাফল্য দিয়েই দিতে চান এই তরুণ অভিনেত্রী। তাঁর কাছে সাফল্যের সংজ্ঞা শুধু জনপ্রিয়তা নয়; বরং এমন একটি অবস্থানে পৌঁছানো, যেখানে মায়ের কোনো ইচ্ছাই অপূর্ণ থাকবে না।

পলক তিওয়ারি। ছবি: অভিনেত্রীর ইনস্টাগ্রাম থেকে

Read full story at source