বিটিএসের ভিডিও সরানো নিয়ে বিতর্ক

· Prothom Alo

গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের ওয়েবসাইট থেকে বিটিএসের দুটি জনপ্রিয় পারফরম্যান্সের ভিডিও সরিয়ে ফেলা হয়েছে। এর পর থেকেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে শুরু হয়েছে আলোচনা-সমালোচনা।

ভক্তদের প্রশ্ন, আগামী বছরের গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে অংশ না নেওয়ার ঘোষণা দেওয়ার পরই কেন ভিডিও দুটি সরানো হলো। তবে এ বিষয়ে এখনো কোনো ব্যাখ্যা দেয়নি গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসের আয়োজক রেকর্ডিং একাডেমি।

Visit mchezo.co.za for more information.

গ্র্যামির ওয়েবসাইটে বিটিএসের ২০২১ সালের ‘ডায়নামাইট’ ও ২০২২ সালের ‘বাটার’ গানের সরাসরি পরিবেশনার ভিডিও এখন আর দেখা যাচ্ছে না। তবে ভিডিও দুটি বিটিএসের নিজস্ব ইউটিউব চ্যানেলসহ অন্য প্ল্যাটফর্মে এখনো রয়েছে।

গত ২৯ জুলাই সাত সদস্যের বিটিএস যৌথ বিবৃতিতে জানায়, ২০২৭ সালের ৭ ফেব্রুয়ারি অনুষ্ঠেয় ৬৯তম গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে তারা কোনো গান জমা দেবে না।
বিবৃতিতে বিটিএস বলেছে, ‘আমরা আসন্ন গ্র্যামি অ্যাওয়ার্ডসে কোনো গান জমা না দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। আমরা চাই, ভাষা বা অঞ্চল নয়, সংগীতকে তার নিজস্ব গুণেই মূল্যায়ন করা হোক।’

বিটিএসের এই সিদ্ধান্তকে রেকর্ডিং একাডেমির নতুন চালু করা ‘সেরা এশীয় পপসংগীত পরিবেশনা’ বিভাগের প্রতিবাদ হিসেবে দেখছেন অনেকে। নতুন এই বিভাগে মনোনয়ন পেতে গানে অন্তত একটি এশীয় ভাষা থাকতে হবে। কিন্তু বিটিএসের নতুন অ্যালবাম ‘আরিরাং’-এর বেশির ভাগ গানই ইংরেজিতে।

সমালোচকদের মতে, এ নিয়মের কারণে এশীয় শিল্পীরা ‘সং অব দ্য ইয়ার’-এর মতো মূল বিভাগে প্রতিযোগিতার সুযোগ হারাতে পারেন।

বিটিএসের সদস্যেরা

বিতর্কে বিটিএসের পাশে দাঁড়িয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার বিভিন্ন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব। তাঁদের একজন হুন্দাই কার্ডের প্রধান নির্বাহী টেড চুং। তিনি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লেখেন, ‘এশীয় শিল্পীদের কি আলাদা করে রাখা হচ্ছে? তাহলে ব্যাড বানি বা রিকি মার্টিনের মতো শিল্পীদেরও কি শুধু লাতিন সংগীত বিভাগেই রাখা উচিত? ভাষার ভিত্তিতে সংগীতকে ভাগ করার এমন উদাহরণ আমি জানি না।’

রেকর্ডিং একাডেমির প্রধান নির্বাহী হার্ভি ম্যাসন জুনিয়র অবশ্য বিটিএসের সিদ্ধান্তকে সম্মান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, ‘তাদের সিদ্ধান্তে আমি দুঃখিত। তবে একজন সংগীতশিল্পী হিসেবে আমি সেটিকে সম্মান করি।’ তাঁর দাবি, নতুন বিভাগটি এশীয় শিল্পীদের আরও বেশি স্বীকৃতি দেওয়ার উদ্দেশ্যেই চালু করা হয়েছে।

তবে সংগীত–সংশ্লিষ্ট অনেকের মতে, অঞ্চলভিত্তিক আলাদা বিভাগ করলে অপাশ্চাত্য শিল্পীরা মূলধারার স্বীকৃতি পাওয়ার বদলে একটি নির্দিষ্ট গণ্ডির মধ্যেই আটকে যেতে পারেন।

কোরিয়া টাইমস অবলম্বনে

Read full story at source