কিশোর কুমারের ‘চার’ সংখ্যা ও কঙ্কাল–রহস্য
· Prothom Alo

একজন মানুষ একই সঙ্গে কত রকম হতে পারেন? কিশোর কুমারের জীবন যেন সেই প্রশ্নের বিস্ময়কর উত্তর। রেকর্ডিং স্টুডিওতে তিনি প্রেম ও বিরহের অনন্য কণ্ঠ, সিনেমার পর্দায় দুরন্ত কৌতুকাভিনেতা, কখনো গীতিকার ও সুরকার, কখনো পরিচালক, চিত্রনাট্যকার কিংবা প্রযোজক। একই কণ্ঠে শ্রোতাকে হাসাতে, কাঁদাতে ও নাচিয়ে তুলতে পারতেন তিনি। অথচ আলোর বৃত্তের বাইরে সেই মানুষটিই ছিলেন নিভৃতচারী, খেয়ালি ও রহস্যে ঘেরা—যাঁকে বুঝতে গিয়ে তাঁর সমসাময়িকেরাও বারবার ধাঁধায় পড়েছেন।
Visit h-doctor.club for more information.
কিশোরের বৈচিত্র্যপূর্ণ জীবনে বিস্ময়করভাবে ফিরে এসেছে একটি সংখ্যা—চার। তাঁর জন্ম ৪ আগস্ট। তিনি ছিলেন মা-বাবার চতুর্থ সন্তান। বিয়ে করেছেন চারবার, আবার প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী অভিনয় করেছেন চারটি বাংলা চলচ্চিত্রে। এমনও বলা হয়, ৪ আগস্ট ভোর ৪টায় জন্মেছিলেন তিনি। শেষ তথ্যটির নির্ভরযোগ্য প্রমাণ পাওয়া যায় না তারপরও তাঁর অনুরাগীদের কাছে ‘চার’ সংখ্যার এই পুনরাবৃত্তি আজও কৌতূহলের বিষয়।
আজ কিশোর কুমারের জন্মদিন। সংখ্যার সেই মজার সমাপতনের সূত্র ধরে ফিরে দেখা যাক মাত্র ৫৮ বছরের জীবনে উপমহাদেশের সংগীত ও চলচ্চিত্রে স্থায়ী ছাপ রেখে যাওয়া বহুমাত্রিক শিল্পীকে। সঙ্গে থাকছে তাঁর বাড়িতে কঙ্কাল ও মানুষের মাথার খুলি রাখা, মেঝের গোপন ফাঁদ এবং তাঁকে নিয়ে ছড়িয়ে পড়া ‘পাগলাটে’ সব গল্পের আড়ালের সত্যও।
‘চার’ দিয়ে শুরু
১৯২৯ সালের ৪ আগস্ট ভারতের মধ্যপ্রদেশের খান্ডোয়ায় এক মধ্যবিত্ত বাঙালি পরিবারে জন্ম নেন কিশোর কুমার। তাঁর প্রকৃত নাম আভাস কুমার গাঙ্গুলি। বাবা কুঞ্জলাল গাঙ্গুলি ছিলেন আইনজীবী, মা গৌরী দেবী গৃহিণী। চার ভাই–বোনের মধ্যে কিশোর ছিলেন সবার ছোট। বড় ভাই অশোক কুমার তত দিনে বোম্বের চলচ্চিত্রজগতের পরিচিত মুখ আরেক ভাই অনুপ কুমারও পরে অভিনেতা হিসেবে পরিচিতি পান। বোন সতী দেবী ছিলেন ভাইদের মধ্যে বড়।
শৈশব থেকেই অন্যের কণ্ঠ নকল করার অসাধারণ ক্ষমতা ছিল কিশোরের। বিশেষ করে প্রখ্যাত গায়ক কে এল সায়গল ছিলেন তাঁর আদর্শ। সায়গলের গান শুনে অবিকল তাঁর মতো গেয়ে ফেলতেন কিশোর। যে কিশোর অন্যের কণ্ঠ অনুকরণ করে সবাইকে চমকে দিতেন, সময়ের সঙ্গে তিনিই তৈরি করেন এমন স্বতন্ত্র গায়কি, যা পরবর্তী প্রজন্মের অসংখ্য শিল্পী অনুকরণ করেছেন।
গোপনে বিয়ে করেছিলেন কিশোর কুমার, আতঙ্কে ছিলেন দেব আনন্দ৯ বছর বয়সে
বয়স যখন ৯, ছুটি কাটাতে বোম্বে গিয়েছিলেন কিশোর। বড় ভাই অশোক কুমার তখন বোম্বে টকিজের খ্যাতিমান অভিনেতা। ‘অচ্ছুতকন্যা’ ছবির সাফল্য উদ্যাপনে রায়বাহাদুর চুনিলাল একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছিলেন। সেখানে উপস্থিত থাকার কথা ছিল তৎকালীন রাজ্যপালের। তাঁর পৌঁছাতে দেরি হচ্ছিল বলে অশোক ছোট ভাইকে গান ধরতে বলেন।
কিশোর গেয়ে ওঠেন কে এল সায়গলের গান। ছোট্ট বালকের কণ্ঠে এমন নিখুঁত অনুকরণ শুনে উপস্থিত চলচ্চিত্র ব্যক্তিত্বরা বিস্মিত হন। তাঁদের মধ্যে ছিলেন হিমাংশু রায়, দেবিকা রানী, শশধর মুখার্জি ও সংগীত পরিচালক সরস্বতী দেবী। বোম্বের চলচ্চিত্রে প্রথম নারী সংগীত পরিচালক হিসেবে পরিচিত সরস্বতী দেবীর বিশেষভাবে ভালো লেগেছিল কিশোরের কণ্ঠ।
বোম্বে টকিজের ‘জন্মভূমি’ ছবির গান ধারণের সময় তিনি কিশোরকে রেকর্ডিং কক্ষে আনার কথা বলেন। তবে অশোক কুমার চাননি ছোট ভাই তখনই চলচ্চিত্রের সঙ্গে জড়িয়ে পড়ুক। শেষ পর্যন্ত ছবিটির একটি দলীয় গানে কিশোরের কণ্ঠ ব্যবহৃত হয় বলে প্রচলিত আছে। এভাবেই রেকর্ডিংয়ের জগতের সঙ্গে তাঁর প্রাথমিক পরিচয়।
দেব আনন্দের কণ্ঠ
কিশোর কুমারের স্বতন্ত্র প্লেব্যাক–যাত্রা শুরু হয় বোম্বে টকিজের ‘জিদ্দি’ দিয়ে। ১৯৪৮ সালে মুক্তি পাওয়া ছবিটির ‘মরনে কি দুয়ায়ে কিউ মাঙ্গু’ গানে কণ্ঠ দেন তিনি; পর্দায় গানটির সঙ্গে ঠোঁট মেলান দেব আনন্দ। সুরকার ছিলেন খেমচাঁদ প্রকাশ।
ছবিটি প্রত্যাশিত সাফল্য না পেলেও গায়ক কিশোরের সামনে খুলে যায় নতুন পথ। শুরুতে তাঁর গায়কিতে সায়গলের প্রভাব ছিল স্পষ্ট। পরে সেই প্রভাব থেকে বেরিয়ে নিজের স্বর, কণ্ঠের নাটকীয় ব্যবহার, হাসি, কান্না ও ইয়োডেলিং মিলিয়ে সম্পূর্ণ নিজস্ব একটি ধারা তৈরি করেন তিনি।
সংগীতে তাঁর কোনো প্রাতিষ্ঠানিক শিক্ষা ছিল না। তবু কণ্ঠের বিস্তার, আবেগ প্রকাশের ক্ষমতা এবং চরিত্র ও পরিস্থিতি অনুযায়ী গায়কির ধরন বদলে ফেলার দক্ষতা তাঁকে ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম সফল প্লেব্যাক গায়কে পরিণত করে। দেব আনন্দ থেকে রাজেশ খান্না, অমিতাভ বচ্চন—পর্দার বহু তারকার কণ্ঠ হয়ে উঠেছিলেন কিশোর।
যে কণ্ঠে হাসি-কান্না পাশাপাশি
কিশোরের কণ্ঠের সবচেয়ে বড় শক্তি ছিল বৈচিত্র্য। তাঁর রোমান্টিক গানে যেমন প্রেমের আবেশ, বিষাদের গানে তেমনি গভীর হাহাকার। আবার মজার গানে কণ্ঠ দিয়েই তৈরি করতেন আলাদা অভিনয়। মনে হতো, তিনি শুধু গান করছেন না—কণ্ঠ দিয়েই একটি চরিত্রকে জীবন্ত করে তুলছেন।
বাংলা, হিন্দি, মারাঠি, অসমিয়া, গুজরাটি, কন্নড়, ভোজপুরি, মালয়ালম, ওড়িয়া ও উর্দুসহ বিভিন্ন ভাষায় গান করেছেন তিনি। তাঁর জনপ্রিয় বাংলা গানের মধ্যে রয়েছে ‘আমার মনের এই ময়ূর মহলে’, ‘আমার পূজার ফুল’, ‘এক পলকের একটু দেখা’, ‘এ আমার গুরুদক্ষিণা’, ‘একদিন পাখি উড়ে যাবে যে আকাশে’, ‘এই যে নদী যায় সাগরে’, ‘হাওয়া মেঘ সরায়ে’, ‘কী আশায় বাঁধি খেলাঘর’, ‘কী উপহার সাজিয়ে দেব’, ‘তোমায় পড়েছে মনে’ ও ‘নীল নীল আকাশে’। বিখ্যাত ‘নয়ন সরসী কেন ভরেছে জলে’ গানের সুরও করেছিলেন কিশোর নিজেই।
শুধু গায়ক নন
গায়ক পরিচয়ের আড়ালে কিশোরের অন্য সত্তাগুলো কখনো কখনো চাপা পড়ে যায়। তিনি ছিলেন গীতিকার, সুরকার, অভিনেতা, চলচ্চিত্র পরিচালক, চিত্রনাট্যকার ও প্রযোজক। ক্যামেরার সামনে যেমন স্বচ্ছন্দ ছিলেন, তেমনি ক্যামেরার পেছনেও নিজের চিন্তা ও সৃজনশীলতার ছাপ রেখেছেন।
তাঁর অভিনীত আলোচিত কৌতুকধর্মী ছবির মধ্যে রয়েছে ‘বাপ রে বাপ’, ‘চলতি কা নাম গাড়ি’, ‘হাফ টিকিট’, ‘পড়োসন’, ‘হাঙ্গামা’, ‘প্যায়ার দিওয়ানা’ ও ‘বাড়তি কা নাম দাড়ি’। এ ছাড়া ‘নৌকরি’, ‘বন্দি’, ‘দূর গগন কি ছাঁও মে’ এবং ‘দূর কা রাহি’র মতো ছবিতে তাঁর অভিনয় শিল্পী হিসেবে তাঁর অন্য মাত্রা প্রকাশ করেছে।
হবু পুত্রবধূর আগে বিয়ে হয়েছিল শুনেই হৃদ্রোগে আক্রান্ত হন কিশোর কুমারবিশেষ করে ‘চলতি কা নাম গাড়ি’তে দুই ভাই অশোক ও অনুপ কুমারের সঙ্গে তাঁর অভিনয় দর্শককে মুগ্ধ করেছিল। ‘পড়োসন’ ছবিতে তাঁর কমেডি, অভিব্যক্তি ও গান আজও ভারতীয় চলচ্চিত্রের স্মরণীয় অংশ। পর্দায় তিনি যেন কোনো বাঁধাধরা নিয়ম মানতেন না—সংলাপ, অঙ্গভঙ্গি ও কণ্ঠের তাৎক্ষণিক ব্যবহারে দৃশ্যকে নিজের মতো করে তুলতেন।
কিশোর কুমারবাড়িতে কঙ্কাল ও মাথার খুলি
কিশোর কুমারের ব্যক্তিজীবনকে ঘিরে তাঁর গান ও চলচ্চিত্রের মতোই অসংখ্য গল্প ছড়িয়ে আছে। সেসবের কোনোটি সত্য, কোনোটি রংচড়ানো কিংবা পুরোপুরি গুজব—তা আলাদা করা কঠিন। সবচেয়ে রোমহর্ষ গল্পগুলোর একটি হলো, বাড়িতে কঙ্কাল ও মানুষের মাথার খুলি রাখতেন তিনি। এমনকি সেসবের পাশে ঘুমাতেন বলেও শোনা যায়।
গল্পটি বানানো নয়। ভিকি লালওয়ানির ইউটিউব চ্যানেলে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে কিশোরের ছেলে অমিত কুমার তাঁদের বাড়িতে মাথার খুলি থাকার কথা স্বীকার করেন। তবে মানুষকে ভয় দেখানোর জন্য সেগুলো রাখা হয়েছিল—এমন ধারণা নাকচ করে দেন তিনি।
অমিত বলেন, ‘ওগুলো আমরাই এনেছিলাম। আমরা পূর্ব আফ্রিকার নাইরোবিতে শো করতে গিয়েছিলাম। বাবার এ ধরনের অ্যান্টিক জিনিস সংগ্রহের শখ ছিল। ফেরার পথে আমরা এগুলো নিয়ে এসেছিলাম। ওগুলো এখন ট্রাস্টের কাছে আছে।’
অর্থাৎ কঙ্কাল ও মাথার খুলি ছিল কিশোরের বিচিত্র সংগ্রহের অংশ। আফ্রিকার সংস্কৃতি ও সংগীতের প্রতি তাঁর আগ্রহ ছিল। অমিতের ভাষ্য অনুযায়ী, সেই আগ্রহ থেকেই জিনিসগুলো সংগ্রহ করেছিলেন তিনি; কাউকে আতঙ্কিত করা তাঁর উদ্দেশ্য ছিল না।
‘আমাকে পাগল বললে বলতে দাও’
কিশোর কুমার সম্পর্কে প্রচলিত ছিল, তিনি খামখেয়ালি, বদমেজাজি কিংবা অহংকারী। কখনো প্রযোজকের সঙ্গে অর্থ নিয়ে বিরোধ, কখনো সাক্ষাৎপ্রার্থীদের সঙ্গে অদ্ভুত আচরণ—এ ধরনের গল্প তাঁর রহস্যময় ভাবমূর্তিকে আরও শক্ত করেছে।
তবে অমিত কুমার এসবের অনেকটাই গুজব বলে দাবি করেন। তাঁর ভাষ্যে, কিশোর নিজেকে নিয়েই মজা করতেন। ছেলে অমিতকে তিনি বলতেন, ‘পৃথিবী আমাকে পাগল বলে। আমিও তো বলি, এই পৃথিবী পাগল। যারা আমাকে পাগল বলে, তাদের বলতে দাও। এটা খারাপ কিছু নয়।’
বাড়িতে রাখা কঙ্কালগুলোর মধ্যেও কিশোর জীবনের এক অনিবার্য সত্য খুঁজে পেতেন। তাঁর ভাবনা ছিল, একদিন সবাইকেই এই কঙ্কালের মতো হয়ে যেতে হবে। ফলে অন্যদের কাছে ভয়ংকর মনে হওয়া জিনিসগুলো তাঁর কাছে ছিল মানুষের পরিণতির স্মারক এবং সংগ্রহের বস্তু।
আর ডি বর্মনের কাছে গান বুঝে নিচ্ছেন কিশোর কুমার। মাঝে আশা ভোসলেমেঝের নিচেও নাকি ছিল ফাঁদ
কিশোরকে নিয়ে গুজব কতটা ছড়িয়ে পড়েছিল, তার প্রমাণ চলচ্চিত্র প্রযোজক এস ডি নারাংয়ের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাতের একটি ঘটনা। অমিত কুমার জানান, কিশোর সম্পর্কে নানা উদ্ভট গল্প শুনে নারাং একবার তাঁর সঙ্গে দেখা করতে যান। ঘরে ঢুকে তিনি বারবার মেঝেতে পা ঠুকছিলেন।
কিশোর অবাক হয়ে জানতে চান, তিনি এমন করছেন কেন। নারাং তখন বলেন, তিনি শুনেছেন কিশোরের ঘরের মেঝে এমনভাবে তৈরি, যা হঠাৎ খুলে যায় এবং দাঁড়িয়ে থাকা মানুষ নিচে পড়ে যায়—গোপন ফাঁদ–দরজার মতো।
এ কথা শুনে কিশোর হাসিতে ফেটে পড়েন। পরে নারাংকে আশ্বস্ত করেন, তাঁর বাড়ির মেঝেতে এমন কোনো ফাঁদ নেই। ঘটনাটি যেমন মজার, তেমনি কিশোরকে ঘিরে সে সময় কী পরিমাণ কাল্পনিক গল্প চালু ছিল, সেটিও বোঝায়।
জীবনে চারবার ভালোবাসা
কিশোরের জীবনের সঙ্গে ‘চার’ সংখ্যার আরেকটি বড় যোগ তাঁর চারটি বিয়ে। প্রথম স্ত্রী রুমা গুহঠাকুরতা ছিলেন গায়িকা ও অভিনেত্রী। তাঁদের ছেলে অমিত কুমারও পরে সংগীতজগতে পরিচিতি পান।
কিশোরের দ্বিতীয় স্ত্রী ছিলেন কিংবদন্তি অভিনেত্রী মধুবালা। তাঁদের সম্পর্ক ভারতীয় চলচ্চিত্রের অন্যতম আলোচিত প্রেমকাহিনি। মধুবালার অসুস্থতা, পারিবারিক জটিলতা ও দাম্পত্যের টানাপোড়েনের মধ্যেও জীবনের শেষ সময় পর্যন্ত তাঁর পাশে ছিলেন কিশোর।
তৃতীয়বার তিনি বিয়ে করেন অভিনেত্রী যোগিতা বালিকে। সেই সংসার দীর্ঘস্থায়ী হয়নি। কিশোরের চতুর্থ স্ত্রী ছিলেন অভিনেত্রী লীনা চন্দাভারকর। বয়সের বড় ব্যবধান সত্ত্বেও জীবনের শেষ অধ্যায়ে লীনার সঙ্গে সংসার করেন তিনি। তাঁদের ছেলে সুমিত কুমারও সংগীতের সঙ্গে যুক্ত।
চার স্ত্রীর প্রত্যেকেই ছিলেন সংস্কৃতি ও চলচ্চিত্রজগতের পরিচিত মুখ। ফলে কিশোরের ব্যক্তিজীবনের চারটি অধ্যায়ও কোনো না কোনোভাবে গান ও সিনেমার সঙ্গেই যুক্ত ছিল।
চার বাংলা ছবির কাকতাল
প্রচলিত তথ্য অনুযায়ী, কিশোর কুমার অভিনয় করেছিলেন চারটি বাংলা চলচ্চিত্রে। তাঁর জন্ম ৪ আগস্ট, তিনি ছিলেন মা-বাবার চতুর্থ সন্তান, বিয়ে করেছিলেন চারবার এবং অভিনীত বাংলা ছবির সংখ্যাও চার—সব মিলিয়ে যেন তাঁর জীবনের নানা বাঁকে সংখ্যাটি ফিরে এসেছে।
আরও প্রচলিত আছে, ৪ আগস্ট ভোর ৪টায় তাঁর জন্ম। তবে জন্মের সময় কিংবা ‘চার’কে ঘিরে সব কটি দাবির নির্ভরযোগ্য দলিল সহজলভ্য নয়। তাই এই যোগসূত্রকে প্রমাণিত তথ্যের চেয়ে মজার কাকতালীয় সমাপতন হিসেবেই দেখা সংগত। তবু কিশোরের মতো খেয়ালি ও রহস্যময় একজন শিল্পীর জীবনকথায় এই ‘চার’ যেন বেশ মানানসই।
ফিরে যেতে চেয়েছিলেন খান্ডোয়ায়
চলচ্চিত্রজগতের চাকচিক্য তাঁকে খ্যাতি ও বিপুল জনপ্রিয়তা দিয়েছিল, কিন্তু জীবনের শেষ দিকে কিশোর বারবার জন্মস্থান খান্ডোয়ায় ফিরে যাওয়ার কথা বলতেন। বোম্বের চলচ্চিত্রজগতের কৃত্রিমতা তাঁর ভালো লাগত না। তাঁর মুখে প্রায়ই শোনা যেত, ‘দুধ-জিলাপি খায়েঙ্গে, খান্ডোয়া মে বস যায়েঙ্গে’—সব ছেড়ে খান্ডোয়ায় গিয়ে বসবাস করার ইচ্ছাই যেন প্রকাশ করতেন এই কথায়।
কিন্তু সেই ফেরা আর হয়নি। ১৯৮৭ সালের ১৩ অক্টোবর মুম্বাইয়ে হৃদ্রোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যান কিশোর কুমার। সেদিন ছিল তাঁর বড় ভাই অশোক কুমারের জন্মদিন। মৃত্যুর পর তাঁর মরদেহ নিয়ে যাওয়া হয় প্রিয় জন্মস্থান খান্ডোয়ায়; সেখানেই শেষকৃত্য সম্পন্ন হয়।