জেন-জি থেকে প্রবীণেরা কী শিক্ষা নেবেন

· Prothom Alo

জেন–জি ভারতকে, বিশেষ করে জেনারেশন এক্সসহ বিভিন্ন প্রজন্মের মানুষকে, থমকে দাঁড়িয়ে তাদের কথা শুনতে বাধ্য করেছে। তাঁদের আন্দোলন শুরু হয়েছিল এমন একটি দাবি দিয়ে, যা পূরণের জন্য একটি পরিণত গণতন্ত্রে জাতীয় আন্দোলনের প্রয়োজন হওয়ার কথা নয়। 

তরুণেরা প্রতিবাদের রাজনৈতিক ভাষাও বদলে দিয়েছেন। অপমানের বিরুদ্ধে মর্যাদা পুনরুদ্ধারের দাবি পরিণত হয়েছে টিকে থাকা, সম্মিলিত শক্তি ও সংহতির পরিচয়ে। তাঁদের ছোট করার জন্য ব্যবহৃত একটি নামকেই তাঁরা দৃঢ়তা ও সংহতির প্রতীকে পরিণত করেছেন। ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতাকে সম্মিলিত পরিচয়ের সঙ্গে যুক্ত করে তাঁরা অপমানকে আশায় রূপ দিয়েছেন। 

Visit catcrossgame.com for more information.

তাঁরা সংহতিকে ব্যবহার করেছেন এমন সময়ে, যখন বিচ্ছিন্ন হতাশাই ছিল সাধারণ অভিজ্ঞতা। হাস্যরস তাঁদের সর্বব্যাপী ভয়কে ভোঁতা করতে সাহায্য করেছে। একই সঙ্গে এটি ক্ষমতাবানদের বিরুদ্ধে তীব্র সমালোচনার সুযোগ দিয়েছে, যখন ক্ষমতাবানেরা নীরবতা আশা করছিলেন। 

ককরোচ আন্দোলন ও দক্ষিণ এশিয়ার নতুন রাজনৈতিক বাস্তবতা

প্রচলিত গণমাধ্যমের একটি অংশ যখন ঘটনাগুলো যথাযথভাবে দেখাতে পারেনি, আন্দোলনকারীরা নিজেরাই নিজেদের কথা তুলে ধরেছেন। মুঠোফোন হয়ে উঠেছে ক্যামেরা। সংবাদ প্রচারের জন্য সংবাদকক্ষের প্রয়োজন হয়নি। তাঁরা পাল্টা নজরদারি করেছে এবং জবাবদিহি দাবি করেছেন। কেউ কেউ তাঁদের পদ্ধতিকে গুরুত্বহীন বা অশালীন বলেছেন। কিন্তু তাঁরা হাস্যরসের রাজনৈতিক শক্তি বুঝতে পারেননি। ব্যঙ্গ আনুষ্ঠানিক বক্তৃতার চেয়ে দ্রুত ক্ষমতাবানদের অহংকার প্রকাশ করতে পারে। এটি ভিন্ন সংগঠন ও মতাদর্শের মানুষকেও একত্র করতে পারে। 

তরুণদের সবচেয়ে বড় শিক্ষা হলো একটি মৌলিক গণতান্ত্রিক নীতি। নির্বাচনী ম্যান্ডেট কোনো সরকারকে নির্বাচনের মধ্যবর্তী সময়ে নাগরিকদের কাছে জবাবদিহি থেকে মুক্ত করে না। গণতন্ত্র শুধু সংসদ ও নির্বাচনে থাকে না। শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, নাগরিক সংগঠন, স্বাধীন গণমাধ্যম, জনসভা ও শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের মধ্যেও গণতন্ত্র বেঁচে থাকে।

একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। তবে আন্দোলনের গভীর তাৎপর্য হলো, সংগঠিত নাগরিকেরা এখনো শক্তিশালী সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারেন—এ বিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়া।

একজন মন্ত্রীর পদত্যাগ এবং বিজেপির নেতৃত্বাধীন কেন্দ্র ও রাজ্য সরকারের কাছ থেকে পাওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো গুরুত্বপূর্ণ সাফল্য। তবে আন্দোলনের গভীর তাৎপর্য হলো, সংগঠিত নাগরিকেরা এখনো শক্তিশালী সরকারকে জবাবদিহির আওতায় আনতে পারেন—এ বিশ্বাস ফিরিয়ে দেওয়া। এ আত্মবিশ্বাস অংশগ্রহণকারী, তথ্য নথিবদ্ধকারী, স্বেচ্ছাসেবক, পানি-খাবার সরবরাহকারী, আইনি সহায়তাকারী, আহত ব্যক্তিদের সেবাকারী এবং দূর থেকে আন্দোলনকে সমর্থনকারী সবার। 

এখন আমাদের দায়িত্ব হলো ভয়ভীতি, গ্রেপ্তার, অপবাদ ও ক্লান্তির সময়ে তাঁদের পাশে থাকা। তাঁদের দাবি আইনসভায় তুলে ধরতে হবে এবং সংকটের সময় দেওয়া প্রতিশ্রুতি যেন রক্ষা করা হয়, তা নিশ্চিত করতে হবে। 

এ আন্দোলন প্রজন্মগুলোর মধ্যে নতুন সংলাপের সুযোগও তৈরি করেছে। তরুণেরা নতুন যোগাযোগপদ্ধতি ও সাংস্কৃতিক ভাষা এনেছেন। প্রতিষ্ঠান ও রাজনৈতিক দলের পুরোনো ক্ষমতার স্তরবিন্যাসের প্রতি তাঁদের ধৈর্য কম। প্রবীণ প্রজন্মের কাছে রয়েছে কর্তৃত্ববাদ, জাতপাতের নিপীড়ন, সাম্প্রদায়িক সহিংসতা, লিঙ্গবৈষম্য, অর্থনৈতিক শোষণ ও নাগরিক স্বাধীনতা রক্ষার আগের সংগ্রামের স্মৃতি।

ভারতের ‘ককরোচ আন্দোলন’ কেন সফল হলো?ভারতের ‘তেলাপোকাদের’ বিজয় যা প্রমাণ করল

এই ঐতিহাসিক স্মৃতি যখন এমন একটি প্রজন্মের সঙ্গে যুক্ত হয়, যারা উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সীমাবদ্ধতা মানতে রাজি নয়, তখন গণতন্ত্র আরও শক্তিশালী হতে পারে। আন্তপ্রজন্ম সংহতির অর্থ তরুণদের অপেক্ষা করিয়ে রেখে প্রবীণদের রাজনীতির দিক নির্ধারণ করা নয়; বরং দীর্ঘদিন প্রতিষ্ঠান ও ক্ষমতার কাঠামোয় থাকা মানুষদের তরুণদের শুনতে, সুযোগ দিতে এবং তাদের সংশোধন গ্রহণ করতে হবে। রাষ্ট্রের সঙ্গে সংঘাতে তরুণেরা যেন একা সব মূল্য না দেয়, সেটিও নিশ্চিত করতে হবে। 

এখন প্রশ্ন, আন্দোলনটি কী রূপ নেবে? কেউ জানতে চাইছেন, ‘ককরোচ জনতা পার্টি’ কি আনুষ্ঠানিক রাজনৈতিক দল হবে। কেউ আবার মনে করছেন, রাজনৈতিক দলের সঙ্গে যোগাযোগ করলে জবাবদিহির দাবির ‘পবিত্রতা’ নষ্ট হবে। সিদ্ধান্ত অবশ্যই আন্দোলনকারীদের। তবে এ নিয়ে তাঁদের মধ্যে ধৈর্যশীল গণতান্ত্রিক আলোচনা প্রয়োজন। নৈতিক কর্তৃত্বকে নির্বাচনী প্রার্থিতায় রূপান্তর করার বাধ্যবাধকতা নেই। আবার লক্ষ্য অর্জনে প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষমতা প্রয়োজন মনে করলে তা গ্রহণেও লজ্জা নেই। 

যে পথই তাঁরা নিন, আন্দোলনের শক্তি তৈরি করা গুণগুলো তাঁদের ধরে রাখতে হবে। তাঁরা আমাদের আশা দিয়েছেন। এখন তাঁদের দৃষ্টিভঙ্গির প্রতি সম্মান, তাঁদের চেতনার প্রতি সংহতি এবং তাঁদের আশা যেন ভেঙে না যায়, তা নিশ্চিত করা আমাদের দায়িত্ব। 

১৯৬৮ সালের মে মাসে প্যারিসের শিক্ষার্থীরা বলেছিলেন, ‘বাস্তববাদী হও, অসম্ভব দাবি করো।’ আজও সেই আহ্বান প্রাসঙ্গিক। 

মনোজ কুমার ঝা ভারতের রাজ্যসভার সদস্য এবং রাষ্ট্রীয় জনতা দলের নেতা। 

ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস থেকে নেওয়া। অনুবাদ: সারফুদ্দিন আহমেদ

Read full story at source