একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা থেকে এনসিসির সাবেক চেয়ারম্যান তোফাজ্জলের অব্যাহতির আবেদন
· Prothom Alo

মুক্তিযুদ্ধের সময় সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধের ঘটনায় করা একটি মামলার আনুষ্ঠানিক অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চেয়ে আবেদন করেছেন ন্যাশনাল ক্রেডিট অ্যান্ড কমার্স ব্যাংকের (এনসিসি) সাবেক চেয়ারম্যান মো. তোফাজ্জল হোসেন। তাঁর বিরুদ্ধে গঠিত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পুনর্বিবেচনার আবেদনের বিষয়ে আদেশ দেওয়া হবে ৩১ আগস্ট।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১-এ আজ বুধবার এই আবেদন করেন তোফাজ্জল হোসেনের পক্ষে তাঁর আইনজীবী রাগীব রউফ চৌধুরী। শুনানিতে তিনি বলেন, তাঁর মক্কেলের বয়স ৭৪ বছর। তিনি কোনো রাজনীতির সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তিনি একজন ব্যবসায়ী, একটি ব্যাংকের চেয়ারম্যান ছিলেন। ২০০৯ সালে তাঁর বিরুদ্ধে একটি মামলা হয়, যা পরে ২০১৭ সালে ট্রাইব্যুনালে নিয়ে আসা হয়। ট্রাইব্যুনালের মামলায় তাঁর বিরুদ্ধে দুটি অভিযোগ আনা হয়।
Visit xsportfeed.life for more information.
তখন চিফ প্রসিকিউটর মো.আমিনুল ইসলাম বলেন, ট্রাইব্যুনালে তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে যে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিল করা হয়, সেখানে তাঁর বিরুদ্ধে তথ্যপ্রমাণ পাওয়া যায়নি। পরে ট্রাইব্যুনাল মামলাটি পুনঃতদন্তে পাঠান। সেই তদন্তেও তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে কিছু পাওয়া যায়নি। তারপরও তোফাজ্জলের বিরুদ্ধে আনুষ্ঠানিক অভিযোগ গঠন করা হয়। এখন মামলাটি সূচনা বক্তব্যের জন্য অপেক্ষায় আছে।
চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তাঁরা কনফিউজড (দ্বিধান্বিত)। তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে গঠিত আনুষ্ঠানিক অভিযোগের পুনর্বিবেচনা করা হবে নাকি সাক্ষ্য গ্রহণ শুরু করা হবে।
তখন ট্রাইব্যুনাল বলেন, তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ না থাকলে এগোবো কী করে।
এরপর চিফ প্রসিকিউটর বলেন, তাঁরা (ওই সময়ের প্রসিকিউশন ও তদন্ত সংস্থা) নিজেরাও বলেছেন, তোফাজ্জলের বিরুদ্ধে পর্যাপ্ত তথ্যপ্রমাণ নেই। তখনই ছেড়ে দেওয়া উচিত ছিল। এটা এখন তাঁদের (বর্তমান ট্রাইব্যুনাল) মাথার ওপর এসে পড়েছে। এ সময় তোফাজ্জল হোসেনের বিরুদ্ধে গঠিত আনুষ্ঠানিক অভিযোগ পুনর্বিবেচনার বিষয়ে আদেশ দেওয়ার জন্য ৩১ আগস্ট দিন ধার্য করেন ট্রাইব্যুনাল।
২০২৫ সালের ১৫ এপ্রিল ট্রাইব্যুনালে আত্মসমর্পণ করে জামিন আবেদন করেন তোফাজ্জল। সেদিন ট্রাইব্যুনাল-১ তাঁকে জামিন দেন।
বিচারপতি মো. গোলাম মর্তূজা মজুমদারের নেতৃত্বে তিন সদস্যের ট্রাইব্যুনাল-১–এর অপর দুই সদস্য হলেন বিচারপতি মো. শফিউল আলম মাহমুদ ও বিচারক মো. মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী।