নাতিকে টাকা ধার ও বাকি না দিতে এলাকাজুড়ে দাদার মাইকিং

· Prothom Alo

নরসিংদীর মনোহরদী উপজেলায় নিজের নাতিকে টাকা ধার না দিতে অভিনব পদ্ধতিতে এলাকাজুড়ে মাইকিং করেছেন এক দাদা। এ ঘোষণার পরও কেউ লেনদেন করলে তাঁর বিরুদ্ধে থানায় লিখিত অভিযোগ দেবেন বলেও সতর্ক করেন তিনি।

গতকাল শনিবার বিকেলে মনোহরদী উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের পাইকান গ্রামের ব্যাপারীপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। মাইকিংয়ের ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়েছে।

Visit betsport24.es for more information.

অটোরিকশা ভাড়া করে এলাকাজুড়ে মাইকিং করা দাদার নাম মো. করম আলী ব্যাপারী (৭২)। নাতির নাম মো. মাহাবুব মিয়া (২২)। মনোহরদী উপজেলার বড়চাপা ইউনিয়নের পাইকান গ্রামের ব্যাপারীপাড়া এলাকার বাসিন্দা তাঁরা।

ছড়িয়ে পড়া ওই ভিডিওতে দেখা যায়, এক বৃদ্ধ একটি ব্যাটারিচালিত অটোরিকশায় চালকের পাশে বসে আছেন। ভেতরে বসা আরেকজন ব্যক্তি হাতে মাইক্রোফোন নিয়ে কথা বলছেন। অটোরিকশায় বেঁধে রাখা মাইকের সাহায্যে কথা চারপাশে ভেসে যাচ্ছে।

ভিডিওতে বলতে শোনা যায়, ‘সম্মানিত এলাকাবাসী, লক্ষ করে শুনুন, পাইকান ব্যাপারীপাড়ার মো. করম আলী ব্যাপারীর নাতি মো. মাহাবুব মিয়ার সঙ্গে কোনো দোকানদার লেনদেন করবেন না, অথবা কোনো রকম হাওলাদ টাকা (ধার) দেবেন না, অথবা আপনাদের মোবাইল তাঁর হাতে দেবেন না। এই নিষিদ্ধের পরও তাঁর সঙ্গে কোনো লেনদেন করলে আপনার বিরুদ্ধে থানায় অভিযোগ দেওয়া হবে।’

খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, মাহাবুব মিয়া অল্প বয়সেই একাধিক বিয়ে করেছেন। বাজারের দোকানদার ও বিভিন্ন মানুষের সঙ্গে লেনদেন করে তিনি দায় দাদার ওপরে চাপিয়ে দিতেন। দোকানদারদের কাছে দাদার কথা বলে টাকা নিতেন বা নিজে ধার করতেন, আর ওই টাকা শোধ করতে হতো দাদাকে। দীর্ঘদিন ধরে তাঁর এই অত্যাচারে দাদা মো. করম আলী ব্যাপারী অতিষ্ঠ হয়ে গেছেন। তাই ক্ষুব্ধ হয়ে এই অভিনব মাইকিং করে এলাকাবাসীকে সতর্ক করেছেন।

মো. করম আলী ব্যাপারী বলেন, ‘বহুদিন ধরে সে আমার ওপর এ অত্যাচার করছে। মানুষের কাছ থেকে টাকা চেয়ে আনে, আর সে টাকা দিতে হয় আমার। কয় দিন আগে সে জুয়া খেলে ৬০ হাজার টাকা হারছে। এ পর্যন্ত আমি ৫০ হাজার দিছি। ১০ হাজার টাকা এখনও দিতে পারিনি বলে অপমান করছে। বাজারে ছাগল বিক্রি করে সংসার চলে, এসব অত্যাচার সহ্য হয় না। তাই এই মাইকিং করছি।’

বড়চাপা ইউনিয়ন পরিষদের (ইউপি) চেয়ারম্যান সুলতান উদ্দিন জানান, মাহাবুব নানা লোকজনের কাছ থেকে টাকা নিয়ে দাদার ওপরে চাপিয়ে দিতেন। অতিষ্ঠ হয়েই তাঁকে আর ধার না দিতে মাইকিং করে ব্যতিক্রমী সতর্কবার্তা প্রচার করেছেন ওই দাদা।

Read full story at source