মিছিলে সংঘর্ষে হারিয়েছিলেন স্বামীকে, ফুটবল খেলতে গিয়ে মারা গেল একমাত্র ছেলে
· Prothom Alo

চার বছর আগে বিএনপির মিছিলে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে স্বামীকে হারিয়েছিলেন নাসরিন আক্তার। এরপর ছেলে আবদুল্লাহ আল মাহীই ছিল তাঁর বেঁচে থাকার একমাত্র অবলম্বন। সে উপায়ও রইল না। গতকাল রোববার বাড়ির পাশে ফুটবল খেলার সময় মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ে ছেলে। স্বামীর পর একমাত্র সন্তানকে হারিয়ে নাসরিন এখন বাক্রুদ্ধ।
Visit fish-roadgame.online for more information.
মারা যাওয়া মাহী পঞ্চগড়ের বোদা সরকারি পাইলট মডেল স্কুল অ্যান্ড কলেজের দশম শ্রেণির ছাত্র ছিল। আজ সোমবার দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে ওই শিক্ষার্থীর বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় শোকাবহ এক পরিবেশ। বাড়িজুড়ে দেখা যায় স্বজনদের ভিড়। কেউ কাঁদছিলেন, কেউ–বা নীরবে চোখের পানি মুছছিলেন। কেউ কেউ এসে দেখছিলেন, উঠানে খাটিয়ায় শুইয়ে রাখা আবদুল্লাহ আল মাহীর লাশ। ঘরের ভেতর শুইয়ে রাখা হয়েছিল নাসরিন আক্তারকে। স্বজনেরা তাঁকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছেন।
আবুল কালাম আজাদ, আবদুল্লাহ আল মাহী চাচাছেলেটার মুখটা দেখে আমরা ওর বাবাকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠেছি। আর আজকে ওকেই হারিয়ে ফেললাম। কী হবে এখন। এত শোক আমরা কীভাবে সহ্য করব? ওকে কোনো দিন বাবার অভাব বুঝতে দিইনি। স্বামীর পর সন্তান হারিয়ে ওর মায়ের পাগল হওয়া ছাড়া আর উপায় কী আছে।পাশের ঘরে বিছানায় বসে বিলাপ করছিলেন আবদুল্লাহ আল মাহীর চাচা আইনজীবী আবুল কালাম আজাদ। কাঁদতে কাঁদতে তিনি বলছিলেন, ‘ছেলেটার মুখটা দেখে আমরা ওর বাবাকে হারানোর শোক কাটিয়ে উঠেছি। আর আজকে ওকেই হারিয়ে ফেললাম। কী হবে এখন। এত শোক আমরা কীভাবে সহ্য করব? ওকে কোনো দিন বাবার অভাব বুঝতে দিইনি। স্বামীর পর সন্তান হারিয়ে ওর মায়ের পাগল হওয়া ছাড়া আর উপায় কী আছে।’
পঞ্চগড়ের বোদা উপজেলায় ফুটবল খেলার সময় অচেতন হয়ে মারা যাওয়া আব্দুল্লাহ আল মাহীর বাড়িতে স্বজনদের ভিড়। সোমবার দুপুরে পৌনে একটার দিকে তোলাস্বজন ও প্রতিবেশীরা জানান, মাহী গতকাল বিকেল ছয়টার দিকে বাড়ির পাশে পাথরাজ আদর্শ উচ্চবিদ্যালয় মাঠে বন্ধুদের সঙ্গে ফুটবল খেলার সময় অচেতন হয়ে পড়ে। সেখান থেকে উদ্ধার করে তাকে উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে গেলে সেখানে কর্তব্যরত চিকিৎসক মৃত ঘোষণা করেন।
বোদা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের আবাসিক চিকিৎসা কর্মকর্তা মো. জাহিদ হাসান বলেন, ‘গতকাল বিকেলে আবদুল্লাহ আল মাহী নামের ওই কিশোরকে মৃত অবস্থায় স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে আনা হয়েছিল। তার স্বজনদের কাছে জেনেছি, ফুটবল খেলার সময় সে অচেতন হয়ে পড়েছিল।’
২০২২ সালের ২৪ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির গণমিছিল কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের সময় মারা যান আবদুল্লাহ আল মাহীর বাবা আবদুর রশিদ আরেফিনএর আগে ২০২২ সালের ২৪ ডিসেম্বর পঞ্চগড় জেলা শহরে বিএনপির গণমিছিল কর্মসূচিতে পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষের ঘটনায় আবদুল্লাহ আল মাহীর বাবা আবদুর রশিদ আরেফিন (৫০) মারা গিয়েছিলেন। তিনি ময়দানদীঘি ইউনিয়ন বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক ছিলেন। এ ঘটনায় ২০২২ সালের ২৬ ডিসেম্বর প্রথম আলোর প্রথম পাতায় ‘পঞ্চগড়ে বিএনপি নেতার মৃত্যু: ধান বেচে ছেলেকে জামা কিনে দিতে চেয়েছিলেন’ শিরোনামে একটি প্রতিবেদন প্রকাশিত হয়েছিল।
নাসরিন আক্তারের জীবন যেন দুঃখের এক উপাখ্যান। স্বামী মারা যাওয়ার ঠিক ৩০ দিন আগে নিজের বাবাকে হারান তিনি। বাবা–স্বামীর মৃত্যুর পর থেকে একমাত্র সন্তান মাহী ছিল নাসরিন আক্তারের অন্ধের যষ্টি। সেই সন্তানের এমন মৃত্যুতে পাগলপ্রায় অবস্থা তাঁর। আজ বেলা আড়াইটায় পাথরাজ-চন্দনপাড়া এলাকায় বাবার কবরের পাশে মাহীকে দাফন করা হয়েছে।
ময়দানদীঘি ইউনিয়ন পরিষদের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের সদস্য হাফিজুল ইসলাম বলেন, ‘বাবার মৃত্যুর পর মাহী তার মায়ের একমাত্র আশা-ভরসা ছিল। খেলতে খেলতে তার এমন মৃত্যু কেউ মেনে নিতে পারছি না। পুরো এলাকাজুড়ে শোকের ছায়া নেমেছে।’