আদালতের নির্দেশে দলত্যাগী তৃণমূলের সংসদ সদস্যদের নোটিশ দিলেন লোকসভার স্পিকার

· Prothom Alo

ভারতের সলিসিটর জেনারেল তুষার মেহতা আজ মঙ্গলবার সুপ্রিম কোর্টে জানিয়েছেন, সংবিধানের দশম তফসিলের (দলত্যাগবিরোধী আইন) অধীন লোকসভার স্পিকার দল ছেড়ে যাওয়া তৃণমূল কংগ্রেসের ২০ সংসদ সদস্যকে নোটিশ জারি করে তাঁদের বক্তব্য জানতে চেয়েছেন।

এই ২০ সংসদ সদস্য হলেন কাকলি ঘোষ দস্তিদার, সুদীপ বন্দ্যোপাধ্যায়, শতাব্দী রায়, প্রসূন বন্দ্যোপাধ্যায়, রচনা বন্দ্যোপাধ্যায়, জগদীশ চন্দ্র বর্মা বসুনিয়া, পার্থ ভৌমিক, অরূপ চক্রবর্তী, অধিকারী দীপক দেব, সায়নী ঘোষ, বাপী হালদার, মো. আবু তাহের খান, কালীপদ সোরেন খেরওয়াল, অসিত কুমার মাল, জুন মালিয়া, মিতালী বাগ, খলিলুর রহমান, মালা রায়, শর্মিলা সরকার ও ইউসুফ পাঠান।

Visit umafrika.club for more information.

গত মে মাসে তৃণমূল কংগ্রেস পশ্চিমবঙ্গে পরাজিত হলে লোকসভায় তৃণমূল কংগ্রেসের এই ২০ সংসদ সদস্য দল ছেড়ে ন্যাশনালিস্ট সিটিজেনস পার্টি অব ইন্ডিয়া (এনসিপিআই) বলে একটি অপরিচিত দলে যোগ দেন। প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এই দল ছেড়ে যাওয়া তৃণমূল এমপিদের সঙ্গে বৈঠকও করেছেন।

তৃণমূল কংগ্রেসের সর্বভারতীয় সাধারণ সম্পাদক তথা লোকসভার দলনেতা অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আদালতে দায়ের করা একটি রিট আবেদনের জবাবে সলিসিটর জেনারেল এই বক্তব্য পেশ করেন। লোকসভার স্পিকার ওম বিড়লার কাছে তৃণমূল কংগ্রেস ছেড়ে যাওয়া এই ২০ সংসদ সদস্যের অযোগ্যতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছিলেন অভিষেক।

ভারতের প্রধান বিচারপতি সূর্যকান্ত, বিচারপতি জয়মাল্য বাগচী এবং বিচারপতি ভি মোহানার সমন্বয়ে গঠিত একটি বেঞ্চে শুনানির জন্য অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের আবেদনটি আজ তালিকাভুক্ত ছিল। সলিসিটর জেনারেলের বক্তব্যে প্রতিক্রিয়া জানিয়ে বিচারপতি বাগচী মন্তব্য করেন, মূল বিষয়টি কেবল নোটিশ জারির মধ্যে সীমাবদ্ধ নয়; বরং এ ক্ষেত্রে নির্দিষ্ট সময়সীমার মধ্যে সম্পূর্ণ আইনি প্রক্রিয়া শেষ করা অত্যন্ত জরুরি।

অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের পক্ষে আদালতে শুনানি করেন বর্ষীয়ান আইনজীবী এবং দলের সংসদ সদস্য কল্যাণ বন্দ্যোপাধ্যায়। এরপর আদালত আনুষ্ঠানিকভাবে ২০ জন বিদ্রোহী সংসদ সদস্যকে নোটিশ জারির নির্দেশ দেন।

এই আইনি প্রক্রিয়ার শেষে তৃণমূল কংগ্রেস থেকে পদত্যাগী এই সংসদ সদস্যদের লোকসভার সদস্যপদ বজায় থাকবে কি না, সেটাই মূল বিবেচ্য বিষয়। এই রিট পিটিশনে মূল আপত্তি জানানো হয়েছে, বিদ্রোহী সংসদ সদস্যদের বিরুদ্ধে আইনি প্রক্রিয়ায় বিলম্বের কারণে।

দলত্যাগী এই ২০ সংসদ সদস্য মূল দল থেকে আলাদা হয়ে এনসিপিআইয়ের সঙ্গে যুক্ত হয়ে লোকসভায় একটি পৃথক গোষ্ঠী হিসেবে স্বীকৃতির দাবি জানিয়েছেন। তৃণমূল কংগ্রেসের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এই সংসদ সদস্যরা সবাই মূল দলের প্রতীকে নির্বাচিত হয়েছেন। তাই পরবর্তী সময়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক জোটের সঙ্গে যুক্ত হওয়ার তাঁদের এই সিদ্ধান্ত সরাসরি দলত্যাগবিরোধী আইনের আওতায় আসে।

এর আগে অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায় স্পিকার ওম বিড়লার কাছে এই সংসদ সদস্যদের পদ খারিজের জন্য পৃথক আবেদন জমা দিয়েছিলেন। সেটির দ্রুত নিষ্পত্তির দাবিও জানিয়েছিলেন।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে গত বর্ষাকালীন অধিবেশনে স্পিকার ওম বিড়লা লোকসভায় এই ২০ বিদ্রোহী তৃণমূল সংসদ সদস্যের বসার জন্য আলাদা আসন বরাদ্দ করেছিলেন। দুই সপ্তাহ পরে মামলাটির আবার শুনানি হবে।

Read full story at source