ফুটবল ক্লাবের মালিকদের মধ্যে সবচেয়ে ধনী কে

· Prothom Alo

কেউ বিলাসপণ্যের জগতে রাজা, কেউ শিপিং ব্যবসায়ী, কেউ ফান্ড ম্যানেজার। কিন্তু এক জায়গায় এসে তাঁরা এক—ফুটবল ক্লাবের মালিক। মাঠে খেলেন খেলোয়াড়েরা, গ্যালারিতে চিৎকার করেন সমর্থকেরা। আর দূরে কোথাও, বোর্ডরুমে বসে সংখ্যার খেলা চালান এই মানুষগুলো। ফুটবল তাঁদের কাছে শুধু খেলা নয়, এক বিশাল অর্থনীতির নাম। বিখ্যাত সাময়িকী ফোর্বসের হিসাবে বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে ধনী ১০ জন ফুটবল ক্লাব মালিকের গল্প।

বের্নার আরনো: প্যারিসের নতুন রাজপুত্র

সম্পদ: ১৭,১০০ কোটি ডলারক্লাব: প্যারিস এফসি (ফ্রান্স)

লাক্সারি পণ্যের সাম্রাজ্য এলভিএমএইচ, আর সেই সাম্রাজ্যের শীর্ষে বসে থাকা আরনো এখন প্যারিসের ফুটবল মানচিত্রেও নিজের ছাপ রাখতে চাইছেন। এমনিতে প্যারিসের সবচেয়ে বিখ্যাত ক্লাব পিএসজি। তবে ইউরোপিয়ান চ্যাম্পিয়নদের আধিপত্য আর ঝলকানির পাশেই চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাকা প্যারিস এফসিকে আরনো নতুন করে গড়তে চান। তাঁর প্রত্যাশা, এলভিএমএইচ ব্র্যান্ডের মতোই হয়তো একদিন এই ক্লাবও হয়ে উঠবে ফুটবলের আলোচিত নাম।

ইদান ওফার: সমুদ্রপথ থেকে স্টেডিয়ামে

সম্পদ: ৩,৪৬০ কোটি ডলারক্লাব: এফসি ফামালিকাউ (পর্তুগাল) ও আতলেতিকো মাদ্রিদ (স্পেন)

সমুদ্রের বিশাল জাহাজ আর আন্তর্জাতিক পণ্য পরিবহনের বাণিজ্য (ইস্টার্ন প্যাসিফিক শিপিং) থেকে উপার্জিত বিপুল অর্থ ফুটবলে ঢালছেন ইসরায়েলি শিপিং টাইকুন ইদান ওফার। পর্তুগালের ক্লাব এফসি ফামালিকাউয়ের অধিকাংশ শেয়ার যেমন তাঁর পকেটে, তেমনি স্প্যানিশ পরাশক্তি আতলেতিকো মাদ্রিদেরও বড় অংশীদার এই ধনকুবের।

Visit esporist.com for more information.

ফ্রাঁসোয়া পিনো: ফ্যাশনের ছোঁয়া ফুটবলে

সম্পদ: ২,৯৫০ কোটি ডলারক্লাব: স্তাদ রেনে (ফ্রান্স)

গুচি, ইভ সাঁ লরঁর মতো বিশ্বখ্যাত ব্র্যান্ডের পেছনের ফ্যাশন জায়ান্ট ‘কেরিং’-এর প্রতিষ্ঠাতা ফ্রাঁসোয়া পিনো। ৮৯ বছর বয়সী এই ফরাসি ব্যবসায়ী দীর্ঘদিন ধরে আগলে রেখেছেন তাঁর ঘরের ক্লাব স্তাদ রেনেকে। ফ্রান্সের লিগে দলটি এখন নিয়মিত খেলছে, মাঠেও যেন তাঁর ব্র্যান্ডের মতো একটা পরিচিতি গড়ে উঠছে।

চাঁদে আর্জেন্টাইন ক্লাবের পতাকা নিয়ে গিয়েছিলেন আর্মস্ট্রং, যে ঘটনা অনেকেরই অজানা

ডেভিড টেপার: হেজ ফান্ডের বাজি

সম্পদ: ২,৩৭০ কোটি ডলারক্লাব: শার্লট এফসি (যুক্তরাষ্ট্র)

ওয়াল স্ট্রিটের হেজ ফান্ড ও বিনিয়োগ সংস্থা ‘অ্যাপালুসা ম্যানেজমেন্ট’-এর প্রতিষ্ঠাতা ডেভিড টেপার। মূল নজর মার্কিন এনএফএলে রাখলেও ফুটবলকে বাদ দেননি। মেজর লিগ সকারের (এমএলএস) দল শার্লট এফসিকে নিজের ক্রীড়া সাম্রাজ্যের অংশ বানিয়ে নিয়েছেন ৬৮ বছর বয়সী এই আমেরিকান ধনকুবের।

স্ট্যানলি ক্রোংকি: উত্তর লন্ডনের ভাগ্যের চাকা

সম্পদ: ২,২২০ কোটি ডলারক্লাব: আর্সেনাল (ইংল্যান্ড) ও কলোরাডো র‍্যাপিডস (যুক্তরাষ্ট্র)

আমেরিকান রিয়েল এস্টেট ও স্পোর্টস এন্টারটেইনমেন্ট সাম্রাজ্যের মালিক স্ট্যানলি ক্রোংকি। ক্রোংকি স্পোর্টস অ্যান্ড এন্টারটেইনমেন্টের অধীনেই রয়েছে ইংলিশ জায়ান্ট আর্সেনালের পুরুষ ও নারী দল এবং এমএলএসের কলোরাডো র‍্যাপিডম। আবাসন ও ক্রীড়া ব্যবসার মিশেলে তৈরি তাঁর এই বিশাল অর্থ সাম্রাজ্য। বহু প্রতীক্ষার পর লিগ শিরোপা পেয়ে আবার জেগে উঠেছে আর্সেনাল। আর সাফল্যের পেছনে আছে এক আমেরিকান ব্যবসায়ীর হিসাবি পরিকল্পনা।

তোরেস, আদেয়েমি, গর্ডন—অভিষেকেই আলো ছড়ালেন যাঁরা

আর. বুদি হার্তোনো ও মাইকেল হার্তোনো: দুই ভাই, এক স্বপ্ন

সম্পদ: ৩,৮৫০ কোটি ডলার (যৌথ)ক্লাব: কোমো ১৯০৭ (ইতালি)

ইতালির চতুর্থ বিভাগ থেকে ডানা মেলে কোমো ১৯০৭ যখন সিরি আ-র শিরোপার দাবিদার হয়ে ওঠে, চ্যাম্পিয়নস লিগে জায়গা করে নেয়, তখন নেপথ্যের দুই কারিগরকে না চিনলেই নয়। তামাক ব্যবসা (ডিজারুম) ও ব্যাংক সেন্ট্রাল এশিয়ার বড় শেয়ারের বদৌলতে ধনকুবের হওয়া দুই ইন্দোনেশিয়ান ভাই—আর. বুদি হার্তোনো (১,৯৬০ কোটি) ও মাইকেল হার্তোনো (১,৮৯০ কোটি)। তামাক আর ব্যাংকিংয়ের টাকায় ইতালিয়ান ফুটবলে নিজেদের রূপকথা লিখে চলেছেন তাঁরা।

ফিলিপ আনশুৎস: বিনোদনের দুনিয়া থেকে গ্যালারিতে

সম্পদ: ১,৯৪০ কোটি ডলারক্লাব: এলএ গ্যালাক্সি (যুক্তরাষ্ট্র)

আমেরিকার ফুটবলে এই নামটা আলাদা করে উচ্চারিত হয়। ৮৬ বছর বয়সী ফিলিপ আনশুৎস জ্বালানি, তেল-গ্যাসের ব্যবসার সঙ্গে জড়িত। বিনোদন ও কনসার্ট ভেন্যু পরিচালনাকারী প্রতিষ্ঠান ‘এইজি’-র প্রধানও। তাঁর নামের প্রতি সম্মান জানিয়েই এমএলএস চ্যাম্পিয়ন ট্রফির নামকরণ করা হয়েছে ফিলিপ এফ. আনশুৎস ট্রফি। তাঁর মালিকানাধীন এলএ গ্যালাক্সি আজ আন্তর্জাতিক ফুটবলেই এক পরিচিত নাম।

আবারও বিশ্বের সবচেয়ে দামি ক্লাব রিয়াল মাদ্রিদ, শীর্ষ দশে আছে যারা

অ্যান্ডার্স হোলচ পোভলসেন: ডেনিশ রূপকথার পেছনের শক্তি

সম্পদ: ১,৬৯০ কোটি ডলারক্লাব: এফসি মিতিউলান (ডেনমার্ক)

ফ্যাশন রিটেইল জায়ান্ট ‘বেস্টসেলার’-এর মালিক অ্যান্ডার্স হোলচ পোভলসেন। ২০২৩ সালে ডেনিশ ক্লাব এফসি মিতিউলানের সংখ্যাগরিষ্ঠ শেয়ার কেনার পরপরই যেন বদলে যায় দলের চেহারা। রিটেইল ব্যবসার মুনাফা মাঠে নামিয়ে ২০২৪ সালে দলকে লিগ চ্যাম্পিয়ন বানান এই ধনকুবের।

পিটার মালুক: সম্পদ ব্যবস্থাপনার কারিগর

সম্পদ: ১,৬১০ কোটি ডলারক্লাব: স্পোর্টিং কানসাস সিটি (যুক্তরাষ্ট্র)

ওয়েলথ প্ল্যানিং ব্যবসা তাঁকে বিলিয়নিয়ার বানিয়েছে। সেই অভিজ্ঞতা নিয়ে ফুটবলে এসেছেন। সম্প্রতি মেজর লিগ সকারের ক্লাব স্পোর্টিং কানসাস সিটির সিংহভাগ মালিকানা কিনে নিয়েছেন। বড় তারকা নেই, বড় বাজেটও নয়। কিন্তু হিসাবি বিনিয়োগে দলটিকে নিয়মিত প্রতিযোগিতায় রাখছেন মালুক।

ম্যারাডোনার ‘হ্যান্ড অব গড’ গোলের বল বিক্রি ৪১ কোটি টাকায়

শাহিদ খান: অটো পার্টসের টাকা ইংলিশ ফুটবলে

সম্পদ: ১,৫০০ কোটি ডলারক্লাব: ফুলহাম (ইংল্যান্ড)

গাড়ি প্রস্তুতকারী প্রতিষ্ঠানগুলোর পার্টস সরবরাহকারী অটো-জায়ান্ট ‘ফ্লেক্স-এন-গেট’-এর প্রতিষ্ঠাতা ৭৫ বছর বয়সী পাকিস্তানি-আমেরিকান ধনকুবের শাহিদ খান। আমেরিকার এনএফএল দল জ্যাকসনভিল জাগুয়ার্সের পাশাপাশি ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগের ঐতিহ্যবাহী ক্লাব ফুলহামের একক মালিকানা তাঁর হাতে। বড় ক্লাব না হলেও, প্রিমিয়ার লিগে তারা এখন পরিচিত মুখ।

সালাহর বিকল্প থেকে সুলিভানের ভবিষ্যৎ, ফুটবল বদলে দিচ্ছে এআই

Read full story at source