সাভারে ছয় মাসে মাদ্রাসাছাত্রকে বারবার ধর্ষণ, ২ শিক্ষকসহ গ্রেপ্তার ৫
· Prothom Alo

ঢাকার সাভারে সাত বছর বয়সী এক মাদ্রাসাছাত্রকে ধর্ষণের অভিযোগে দুজন শিক্ষকসহ পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ। দেশের বিভিন্ন জেলায় অভিযান চালিয়ে আসামিদের গ্রেপ্তার করা হয়। শিশুটিকে ছয় মাসে বারবার ধর্ষণ ও নির্যাতন করার অভিযোগে মামলা করেছে পরিবার।
আজ শনিবার দুপুরে সাভার মডেল থানায় আয়োজিত সংবাদ ব্রিফিংয়ে ঢাকা জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (সাভার সার্কেল) রাকিবুল হাসান ইশান এ তথ্য জানান। তিনি জানান, গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে কয়েকজন প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে পুলিশের কাছে অপরাধ স্বীকার করেছেন।
Visit amunra.qpon for more information.
তিন শিশুকে ধর্ষণের অভিযোগে মাদ্রাসাশিক্ষক গ্রেপ্তার, আদালতে স্বীকারোক্তিব্রিফিংয়ে পুলিশ কর্মকর্তা রাকিবুল হাসান বলেন, বিভিন্ন তথ্য-উপাত্ত বিশ্লেষণ করে দেশের বিভিন্ন স্থানে অভিযান চালিয়ে পাঁচ আসামিকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। সাভার মডেল থানা-পুলিশ, আশুলিয়া থানা-পুলিশ ও গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) একাধিক দল বরগুনা, ভোলা, সিরাজগঞ্জ, গাজীপুর ও ঢাকায় অভিযান চালিয়ে তাঁদের গ্রেপ্তার করে। তিনি বলেন, ‘মামলাটি ঢাকা জেলা পুলিশ সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে ডিল করছে। আমরা কনফিডেন্ট, খুব শিগগির বাকি আসামিদের গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হব।’
পাঁচজনকে গ্রেপ্তারের বিষয়ে পুলিশের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, গ্রেপ্তার আসামিদের মধ্যে তিনজন ১২, ১৩ ও ১৫ বছর বয়সী কিশোর। তারা তিনজন ওই মাদ্রাসার ছাত্র। অন্য দুজন হলেন মাদ্রাসার শিক্ষক জাবের হোসেন (২১) ও মো. কামরুল ইসলাম (২৬)। আসামিদের মধ্যে তিন কিশোর ও শিক্ষক জাবের হোসেনের বিরুদ্ধে শিশুটিকে ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে। ভুক্তভোগী শিশুটি যাতে এই ঘটনা বাড়িতে না জানায়, সে জন্য তাকে নির্যাতনের অভিযোগ করা হয়েছে অপর আসামি কামরুল ইসলামের বিরুদ্ধে।
ছয় মাস ধরে বিভিন্ন সময় ধর্ষণ ও নির্যাতনের অভিযোগে গত ২৩ আগস্ট ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে মামলার আবেদন করেন ভুক্তভোগী শিশুটির বাবা। পরে আদালতে আবেদনটি আমলে নিয়ে সাভার মডেল থানাকে অভিযোগটি এজাহার হিসেবে গ্রহণ করার নির্দেশ দেন।
মামলার আরজিতে সাভারের পূর্ব শাহবাগ এলাকার ওই মাদ্রাসার ৫ জন ছাত্র, ৪ জন শিক্ষক ও পরিচালককে আসামি করা হয়। তাদের মধ্যে পাঁচ শিক্ষার্থী ও এক শিক্ষকের বিরুদ্ধে সরাসরি ধর্ষণের অভিযোগ করা হয়েছে এবং বিচার না করে ভুক্তভোগীকে মারধর ও হুমকির অভিযোগ করা হয়েছে বাকি তিনজন শিক্ষক ও পরিচালকের বিরুদ্ধে।