রাশিয়া কি আসলেই দুর্বল হয়ে পড়েছে

· Prothom Alo

যুক্তরাষ্ট্র দীর্ঘদিন ধরেই রাশিয়াকে চরম পতনের দিকে ধাবমান একটি শক্তি হিসেবে দেখে আসছে। ১৯৮০-এর দশকে সোভিয়েত ইউনিয়নের অভ্যন্তরীণ দুর্বলতা ও সাম্রাজ্যবাদী বিস্তারের স্পষ্ট সংকট প্রকট হওয়ার পর থেকেই এই ধারণার জন্ম। পরবর্তী সময়ে সোভিয়েত ইউনিয়নের পতনের মধ্য দিয়ে তা আরও পাকাপোক্ত হয়।

Visit chickenroad-game.rodeo for more information.

ওয়াশিংটন ন্যাটোর সম্প্রসারণসহ এমন এক নীতিগত এজেন্ডা নিয়ে সামনে এগোতে শুরু করে, যেখানে রাশিয়ার ক্ষমতা ও স্বার্থকে কেবল একটুকরা গৌণ বিষয় হিসেবেই বিবেচনা করা হয়েছিল। আর ইউক্রেন নিয়ে দীর্ঘদিনের দ্বন্দ্ব সেই অবজ্ঞাকে পরিণত করে চরম তাচ্ছিল্যে।

রাশিয়াকে এই দুর্বল ও বিলীয়মান শক্তি হিসেবে চিত্রায়িত করাটা পুতিনের অজস্র সমালোচকের মানসিক খোরাক জোগাতে পারে, তবে বাস্তবতার সঙ্গে এর দূরত্ব যোজন যোজন। বৈশ্বিক রাজনীতিতে মস্কো ধারাবাহিকভাবে নিজের সামর্থ্যের চেয়ে অনেক বেশি বড় ভূমিকা রেখে চলেছে। সোভিয়েত ইউনিয়নের বিলুপ্তির ৩৫ বছর পর আজও রাশিয়া একটি পারমাণবিক পরাশক্তি।

স্নায়যুদ্ধকালের মতোই ন্যাটো এখনো রাশিয়াকে তাদের মূল হুমকি মেনে নিয়েই সামরিক পরিকল্পনা সাজায়। পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার নজিরবিহীন পাহাড় গড়ে তুললেও যে অর্থনৈতিক ধসের পূর্বাভাস এই পরিকল্পনাকারীরা দিয়েছিল, তা ঘটাতে তারা ব্যর্থ হয়েছে; বরং এতে রাশিয়ার রাজনৈতিক ও সামাজিক স্থিতিশীলতায় বিন্দুমাত্র চির ধরেনি। মস্কোকে একঘরে করার প্রচেষ্টাগুলোও মুখ থুবড়ে পড়েছে।

ইউক্রেনযুদ্ধে হারছে রাশিয়া, কিন্তু পুতিন কেন এত মরিয়াট্রাম্প ও পুতিন কেন ভুলের ফাঁদ থেকে বের হতে পারছেন না

ক্রেমলিন দক্ষতার সঙ্গে বিকাশমান উদীয়মান অর্থনীতির প্রধান জোট ব্রিকস ইউরেশীয় রাজনৈতিক ও নিরাপত্তা গোষ্ঠী সাংহাই কো–অপারেশন অর্গানাইজেশনের মতো অ-পশ্চিমা সংস্থাগুলোকে সুসংগঠিত করেছে। আর এর মধ্য দিয়েই তারা আজকের গড়ে ওঠা পশ্চিমা-উত্তর বৈশ্বিক ব্যবস্থার ওপর নিজেদের প্রভাব জোরদার করেছে।

তবে রাশিয়ার পরিস্থিতির মূল্যায়ন করার ক্ষেত্রে একটি শর্ত কাজ করে: এটি টিকে রয়েছে আজকের বিদ্যমান বৈশ্বিক পরিস্থিতির ওপর ভর করে। বিশ্ব আজ এক চরম খণ্ড–বিখণ্ড ও অনিশ্চিত অবস্থার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যা রাশিয়ার শক্তির অনুকূলে কাজ করছে বলেই মস্কো তার সক্ষমতার চেয়ে বেশি প্রভাব খাটাতে পারছে।

অস্থিতিশীলতা, বেশ কয়েকটি অঞ্চলে চলমান রক্তক্ষয়ী সংঘাত ও অস্ত্রের প্রতিযোগিতা, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক সম্পর্কচ্ছেদ ও বিশ্বায়নের পিছু হঠা, বিশ্বজুড়ে জাতীয়তাবাদ ও পপুলিজমের উত্থান, ‘সফট পাওয়ার’-এর অবমূল্যায়ন এবং পশ্চিমা জোটের অন্দরমহলের ফাটল—বিদ্যমান আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার এই প্রতিটি উপাদানই আদতে মস্কোর সুবিধা নিশ্চিত করছে।

কিন্তু রাশিয়ার জন্য সবচেয়ে বড় ঝুঁকির জায়গাটি হলো—আজকের এই বিশৃঙ্খলা ও অনিশ্চয়তা হয়তো চিরস্থায়ী হবে না। পেন্ডুলামের কাঁটা আবার উল্টো দিকে ঘুরতে পারে; বৈশ্বিক বিশৃঙ্খলা থিতিয়ে এসে আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা আবারও নতুন করে জোরদার হতে পারে। এই পরিবর্তন ট্রাম্প হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরই ঘটতে পারে।

তা ছাড়া বৈশ্বিক মাত্রার কোনো বড় ধরনের ধাক্কা রাষ্ট্রগুলোকে তাদের চলমান সংঘাত ভুলে আরও নিবিড় সহযোগিতার দিকে ঠেলে দিতে পারে। তখন রাশিয়ার দীর্ঘদিনের পরীক্ষিত পররাষ্ট্রনীতি এবং একসময়ের নির্ভরযোগ্য কিন্তু অনমনীয় প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো আর কোনো কাজে আসছে না।

ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি, যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প, রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

বিশৃঙ্খলা থেকে লাভবান

আন্তর্জাতিক ব্যবস্থাকে ভেঙে টুকরা টুকরা করে ফেলার প্রবণতাগুলো মস্কোর অনুকূলেই কাজ করছে। এই সময়ে রাশিয়ার সামরিক উপস্থিতি এক টেকসই ক্ষমতা ও প্রভাবের উৎস। রাশিয়া পৃথিবীর একমাত্র শক্তি, যারা কৌশলগত পারমাণবিক অস্ত্রের দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের সমকক্ষ। চীন তাদের অস্ত্রাগার আধুনিকায়ন ও সম্প্রসারণ করলেও, এই দুই পরাশক্তিকে স্পর্শ করতে বেইজিংয়ের আরও দীর্ঘ সময় লাগবে।

রাশিয়ার এই পারমাণবিক পরাশক্তির তকমা বাস্তবেও বিরাট প্রভাব ফেলে: এটি ন্যাটো সদস্যদের ইউক্রেনে সরাসরি সেনা পাঠাতে বাধা দিয়েছে এবং অনেকগুলো শক্তিশালী কূটনৈতিক সুবিধা এনে দিয়েছে।

প্রথাগত সামরিক সক্ষমতার কথা বললে, রাশিয়ার এখনো একটি গভীর সমুদ্রের নৌবাহিনী এবং দূরপাল্লার হামলা চালানোর সামর্থ্য রয়েছে; একমাত্র যুক্তরাষ্ট্রই রাশিয়ার চেয়ে বেশি দূরবর্তী এলাকায় শক্তি প্রয়োগ করতে পারে।

এটা সত্য যে ২০২২ সালের ফেব্রুয়ারিতে ইউক্রেনে যুদ্ধের শুরুর দিকে রাশিয়ার সেনাবাহিনীর মারাত্মক কিছু দুর্বলতা প্রকাশ পেয়েছিল। কিন্তু গত সাড়ে চার বছরে তাদের সশস্ত্র বাহিনী নিজেদের আমূল বদলে ফেলেছে, তীক্ষ্ণ করেছে নিজেদের দক্ষতা ও যুদ্ধক্ষমতা।

মস্কোর হাতে এখন বিশ্বের অন্যতম শক্তিশালী সামরিক বাহিনী রয়েছে এবং তার চেয়ে বড় কথা, তাদের কাছে রয়েছে আধুনিক স্থলযুদ্ধের এক অনন্য অভিজ্ঞতা—যা যুক্তরাষ্ট্রসহ প্রায় যেকোনো সামরিক বাহিনীর চেয়ে তাদের এগিয়ে রেখেছে। ইউক্রেনও নতুন যুদ্ধপ্রযুক্তির সঙ্গে নিজেদের খাপ খাইয়ে নিয়েছে ঠিকই, তবে তারা সম্পূর্ণভাবে পশ্চিমা সহায়তার ওপর নির্ভরশীল।

পুতিন এবার ন্যাটোর সঙ্গে ভয়ংকর জুয়া খেলতে শুরু করেছেনপুতিন এমন কিছু চান, যা তিনি কখনোই পাবেন না

রাশিয়ার বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ তাদের হাতকে বহুগুণ শক্তিশালী করে তোলে। রাশিয়া বিশ্ববাজারে তেল, প্রাকৃতিক গ্যাস, কয়লা, গম, সার, ইউরেনিয়াম, অতিপ্রয়োজনীয় খনিজ, হীরা এবং অন্যান্য পণ্যের প্রধান সরবরাহকারী। আবার ইরান যুদ্ধের সময় মধ্যপ্রাচ্যের সরবরাহ পথগুলোর মারাত্মক ঝুঁকি রাশিয়ার অবস্থানকে আরও শক্তিশালী করেছে।

একই সঙ্গে এক তীব্র প্রতিযোগিতামূলক ও অস্থিতিশীল বৈশ্বিক পরিবেশ রাশিয়ার কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক ব্যবস্থার গুরুত্বও বাড়িয়ে দিয়েছে। পশ্চিমে এই ব্যবস্থাগুলোকে প্রায়ই পুরোনো, অনমনীয় এবং দেশের উন্নয়নের জন্য ক্ষতিকর বলে ব্যঙ্গ করা হয়। অথচ ইউক্রেনে সামরিক ক্ষয়ক্ষতির পরও রাশিয়া সামাজিক, অর্থনৈতিক ও রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ধরে রাখতে পেরেছে।

তীব্র মেরুকরণের এই যুগে রাশিয়ার একককেন্দ্রিক ও ব্যক্তিকেন্দ্রিক সিদ্ধান্ত গ্রহণ প্রক্রিয়া উদীয়মান উদার গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার তুলনায় স্পষ্ট কিছু সুবিধা এনে দেয়। পুতিন এমন এক দীর্ঘমেয়াদি কৌশলগত পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে পারছেন, যা ঘন ঘন রাজনৈতিক নির্বাচনকেন্দ্রিক পশ্চিমে চিন্তা করাও অসম্ভব।

অন্যদিকে যুক্তরাষ্ট্র রাজনৈতিকভাবে বিভক্ত এক বিশৃঙ্খল দেশে পরিণত হয়েছে। এর শীর্ষে রয়েছেন এক খামখেয়ালি প্রেসিডেন্ট। ট্রাম্প কেবল পুতিনকে শ্রদ্ধাই করেন না, বরং রাশিয়ার ওপর তাঁর এই একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণকে হিংসাও করেন। অন্যদিকে ব্রিটেন ও ফ্রান্সে প্রধানমন্ত্রী ও প্রেসিডেন্টরা আসছেন আর যাচ্ছেন, কিন্তু কেউই জনগণের আস্থা ধরে রাখতে পারছেন না।

আন্তর্জাতিক ব্যবস্থা যত দিন সহযোগিতার চেয়ে বৈরিতা, সমৃদ্ধির চেয়ে নিরাপত্তা, বিশ্বায়নের চেয়ে আঞ্চলিকতা এবং পারস্পরিক নির্ভরতার চেয়ে জাতীয় সার্বভৌমত্বকে বেশি প্রাধান্য দেবে, তত দিন রাশিয়া বৈশ্বিক রাজনীতির শীর্ষ সারিতেই অবস্থান করবে। এমনকি বাণিজ্যিক, আর্থিক ও প্রযুক্তিগতভাবে বহুগুণ এগিয়ে থাকা দেশগুলোর চেয়েও রাশিয়া কৌশলগত সুবিধা ভোগ করবে।

রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজার যদি চীন বা ভারতের মতো বিশাল হতো, তবে তারা বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারত। কিন্তু তাদের দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাসংক্রান্ত পতন বা ডেমোগ্রাফিক ধস সেই পথ বন্ধ করে দেয়।

আসন্ন শান্ত পরিবেশ

ইতিহাস সব সময় চক্রাকারে ঘোরে এবং আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার বর্তমান এই কাঠামো হয়তো সাময়িক প্রমাণিত হতে পারে। নতুন রূপ নিয়ে বিশ্বায়ন আবারও ফিরে আসতে পারে এবং বর্তমান অস্থিতিশীলতা এক দীর্ঘ স্থিতিশীল শান্তির রূপ নিতে পারে।

মধ্যপ্রাচ্যের অন্তহীন যুদ্ধ হয়তো কোনো একদিন থামবে; ওয়াশিংটন ও বেইজিং একটি টেকসই বাণিজ্য ও ভূরাজনৈতিক সমঝোতায় পৌঁছাতে পারে; জাতিসংঘের নতুন মহাসচিব হয়তো বৈশ্বিক বিষয়ে বহুপাক্ষিকতার নীতিগুলোকে সফলভাবে পুনরুজ্জীবিত করতে সক্ষম হবেন। এই বিপরীত যাত্রা যুক্তরাষ্ট্রের আসন্ন মধ্যবর্তী নির্বাচনের মাধ্যমেও শুরু হতে পারে, যদি ক্যাপিটল হিলে ট্রাম্পের সমর্থকদের বড় ধরনের পরাজয় ঘটে।

এমন এক বিশ্বে রাশিয়ার সবচেয়ে মূল্যবান পররাষ্ট্রনৈতিক সম্পদগুলোর অনেকগুলোই হঠাৎ করে মূল্য হারাতে শুরু করবে। রাশিয়ার অবমূল্যায়িত ‘সফট পাওয়ার’ তা আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠবে।

‘ইউনাইটেড রাশিয়া’ পার্টির ২৩তম কংগ্রেসে বক্তব্য দিচ্ছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন

রাশিয়ার অভ্যন্তরীণ বাজার যদি চীন বা ভারতের মতো বিশাল হতো, তবে তারা বৈশ্বিক অর্থনীতির ঝুঁকি থেকে নিজেদের মুক্ত রাখতে পারত। কিন্তু তাদের দীর্ঘমেয়াদি জনসংখ্যাসংক্রান্ত পতন বা ডেমোগ্রাফিক ধস সেই পথ বন্ধ করে দেয়।

দেশের ভৌগোলিক অবস্থান রাশিয়াকে কিছুটা সুবিধা দেয়। বিশ্বের দীর্ঘতম আর্কটিক উপকূলরেখা থাকায়, রাশিয়া সুমেরু অঞ্চলের বিপুল প্রাকৃতিক সম্পদ এবং জলবায়ু উষ্ণ হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে খুলে যাওয়া নতুন সমুদ্রপথগুলোর বড় অংশের মালিক হতে পারে। কিন্তু পূর্ব এশিয়া ও পশ্চিম ইউরোপের মধ্যকার একটি ট্রানজিট করিডর বা যোগাযোগমাধ্যম হিসেবে নিজের অবস্থানকে কাজে লাগাতে রাশিয়ার প্রয়োজন হবে কেবল চীন নয়; বরং ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও দীর্ঘমেয়াদি ও স্থিতিশীল অংশীদারত্ব।

সর্বশেষ, একটি শক্তিশালী বেসামরিক উচ্চ প্রযুক্তির বাস্তুতন্ত্র না থাকলে, রাশিয়া প্রযুক্তিগত দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্র এবং চীনের থেকে অনেক পিছিয়ে পড়তে পারে। দুই দশকের বেশি সময় ধরে রাশিয়ার নেতৃত্ব বেসরকারি খাতের ওপর তাদের নিয়ন্ত্রণ শক্ত করে চলেছে। তাদের এই চরম কেন্দ্রীয় সিদ্ধান্ত গ্রহণের ব্যবস্থা দেশের সেই উদ্যোক্তা মনোভাব ও উদ্ভাবনী শক্তিকে ধুঁকে ধুঁকে মেরে ফেলেছে। প্রযুক্তিগত শীর্ষস্থান ধরে রাখতে এবং ভবিষ্যতের বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করতে সবচেয়ে এটা বেশি প্রয়োজন ছিল। রাশিয়ার নতুন উদ্ভাবনী কাঠামো এখনো বিশ শতকের সোভিয়েত রাষ্ট্রকেন্দ্রিক মডেলের ওপরই আটকে আছে।

দুর্গের সীমানা ছাড়িয়ে

দীর্ঘ মেয়াদে রাশিয়ার ভাগ্য নির্ভর করবে বিশ্বব্যবস্থার আরেকটি পরিবর্তনের সঙ্গে তারা কতটা নিজেদের খাপ খাইয়ে নিতে এবং প্রস্তুতি নিতে পারছে তার ওপর। তাদের বর্তমান ‘অবরুদ্ধ দুর্গ’ মডেল আন্তর্জাতিক পরিবেশকে একটি সুযোগের বদলে কেবল একটি হুমকি হিসেবেই দেখে।

যুক্তরাষ্ট্র ও ইউরোপের সঙ্গে নিরবচ্ছিন্ন শত্রুতা ও সংঘাত রাশিয়ার দীর্ঘমেয়াদি উন্নয়নের কোনো কাজেই আসবে না। পশ্চিমে হয়তো শক্তির ক্ষয় হতে পারে, কিন্তু তবু রাশিয়ার বাহ্যিক পরিবেশের জন্য তারা অপরিহার্যই থেকে যাবে। তাই শান্তিপূর্ণ সহাবস্থান এবং এমনকি সীমিত আঞ্চলিক সহযোগিতাই হচ্ছে একমাত্র উত্তম পন্থা।

ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পুনর্গঠন করা সবচেয়ে বেশি জরুরি। এই ইইউ সদস্যরাষ্ট্রগুলোই একসময় মস্কোর প্রধান অর্থনৈতিক অংশীদার এবং তাদের নতুন প্রযুক্তি ও আধুনিক ব্যবসায়িক পদ্ধতির মূল উৎস ছিল। ইউক্রেন সংঘাত শেষ হলে দুই পক্ষ অন্তত ধীরে ধীরে ভাঙা সম্পর্ক জোড়া লাগানোর কাজ শুরু করতে পারে।

অবশ্যই ‘জোর যার মুল্লুক তার’ নীতির ওপর চলা একটি বিশ্ব স্বল্প মেয়াদে মস্কোকে বাস্তব কিছু সুযোগ এনে দিতে পারে। কিন্তু দীর্ঘ মেয়াদে এটি এক ভয়াবহ বিপজ্জনক খেলা। আন্তর্জাতিক ক্ষমতার ভারসাম্য দ্রুত পরিবর্তিত হচ্ছে এবং নতুন নতুন পরাশক্তির উত্থান ঘটছে।

সমালোচকদের হতাশ করে রাশিয়া আজ শক্ত হাতে টিকে আছে এবং বর্তমান পরিস্থিতিতে নিজেকে প্রমাণ করছে। কিন্তু এই সাফল্য ধরে রাখতে হলে, তাদের স্বল্পমেয়াদি সুবিধা এবং সংকীর্ণ স্বার্থের বাইরে তাকাতে হবে। আন্তর্জাতিক ব্যবস্থার যেকোনো তোলপাড় এবং দ্রুত প্রযুক্তিগত পরিবর্তন সহ্য করার সক্ষমতা অর্জন করতে হবে।

  • আন্দ্রে করতুনভ মস্কোভিত্তিক বিশ্লেষক ও গবেষক। ফরেন অ্যাফেয়ার্স থেকে সংক্ষেপে অনূদিত।

Read full story at source