হাতকড়াসহ পুলিশের কাছ থেকে পালালেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগ নেতা, ধরে নেওয়া হলো ৭ স্বজনকে
· Prothom Alo

কিশোরগঞ্জের কুলিয়ারচরে গ্রেপ্তারের পর হাতকড়াসহ পালিয়ে গেছেন কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের এক নেতা। পরে ওই নেতার সাত স্বজনকে আটক করে নিয়ে গেছে পুলিশ।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
আজ সোমবার দুপুরে কুলিয়ারচর উপজেলার ছয়সূতি ইউনিয়নের মাধবদী এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। পালিয়ে যাওয়া রেনু মিয়া ছয়সূতি ইউনিয়নের ৯ নম্বর ওয়ার্ডের কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের সভাপতি।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, গ্রেপ্তার করার পর রেনু মিয়াকে দেখতে ভিড় জমে যায়। সেই সুযোগে পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে তিনি পালিয়ে যান। হাতকড়াসহ তাঁর পালিয়ে যাওয়ার ঘটনায় এলাকায় চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়েছে।
মোবারক হোসেন, পরিদর্শক (তদন্ত), কুলিয়ারচর থানারেনু মিয়ার আটক সাত স্বজনকে এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রেনুকে গ্রেপ্তার করা না গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে।ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে কুলিয়ারচর থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোবারক হোসেন প্রথম আলোকে বলেন, রেনু মিয়াকে গ্রেপ্তার এবং হাতকড়া উদ্ধারে পুলিশের একাধিক দল অভিযান চালাচ্ছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, কুলিয়ারচর উপজেলা বিএনপির কার্যালয় পোড়ানোর অভিযোগে করা একটি মামলার আসামি রেনু মিয়া। এ ছাড়া তাঁর বিরুদ্ধে আরও কয়েকটি মামলা রয়েছে। এর আগে পুলিশ তাঁকে ধরার চেষ্টা করেছিল। কয়েক দিন ধরে রেনু মিয়া এলাকায় অবস্থান করছিলেন। এই তথ্য জানার পর আজ দুপুর ১২টার দিকে পুলিশের পাঁচ-ছয়জন সদস্য তাঁর বাড়িতে অভিযান চালান।
একাধিক প্রত্যক্ষদর্শীর বরাতে জানা যায়, ঘরের ভেতর রেনু মিয়াকে ধরেই হাতকড়া পরানো হয়। পরে তাঁকে বাইরে উঠানে আনা হলে লোকজন জড়ো হতে শুরু করেন। তাঁদের মধ্যে নারীর সংখ্যাই বেশি ছিল। ২০ থেকে ২৫ জন নারীসহ লোকজন রেনু মিয়াকে ঘিরে ফেলেন। পুলিশ ভিড় এড়িয়ে তাঁকে নিয়ে সামনে আগানোর চেষ্টা করে। এ সময় কয়েকজন নারী পুলিশ সদস্যদের পথ আটকানোর চেষ্টা করেন। তাঁরা রেনু মিয়াকে ছেড়ে দেওয়ার অনুরোধ জানান। এ নিয়ে পুলিশের সঙ্গে তাঁদের কথা-কাটাকাটিও হয়। সুযোগ পেয়ে রেনু মিয়া হাতকড়াসহ পালিয়ে যান।
রেনু মিয়াপুলিশ রেনু মিয়ার পিছু নিলেও তিনি মুহূর্তের মধ্যে বাড়ির পেছনে গিয়ে চোখের আড়ালে চলে যান। পরে পুলিশ রেনু মিয়ার কয়েকজন নারী আত্মীয়সহ সাতজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে যায়। এ ছাড়া তাঁর একটি মোটরসাইকেলও থানায় নেওয়া হয়েছে।
রাত ৯টা ৪০ মিনিটের সময় এ প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত আটক সাতজনের সবাই থানাতেই ছিলেন। তাঁদের বিষয়ে থানার পরিদর্শক (তদন্ত) মোবারক হোসেন প্রথম আলোকে মুঠোফোনে বলেন, রেনু মিয়ার আটক সাত স্বজনকে এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। রেনুকে গ্রেপ্তার করা না গেলে তাঁদের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করে গ্রেপ্তার দেখানো হতে পারে।
স্থানীয় একাধিক বাসিন্দা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, রেনু মিয়া ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতা হলেও উপজেলা পর্যায়েও তাঁর পরিচিতি রয়েছে। গণ–অভ্যুত্থানে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগের পতনের পর তিনি আড়ালে চলে যান।