ফোর্বস ৪০০-এর তালিকায় ১০ তরুণ ধনকুবের, কার কত সম্পদ

· Prothom Alo

কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা বা এআই খাতের উদ্যোক্তারা দ্রুত যুক্তরাষ্ট্রের ধনী ব্যক্তিদের কাতারে উঠে আসছেন। বলা যায়, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা (এআই) বিপ্লব এই তালিকার চিত্র বদলে দিচ্ছে। এআইয়ের জোয়ারে ভর করে এই তরুণ ধনীরা যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে অভিজাত ধনীদের তালিকায় জায়গা করে নিচ্ছেন।

Visit palladian.co.za for more information.

গত বছর ৪০ বছরের কম বয়সী মাত্র ৪ জন বিলিয়নিয়ার ফোর্বস ৪০০-এ স্থান পেয়েছিলেন। অর্থাৎ এই তালিকায় স্থান পেতে যে পরিমাণ সম্পদের মালিক হতে হয়, সেই পরিমাণ সম্পদ ছিল মাত্র চারজনের। এ বছর সেই সংখ্যা বেড়ে হয়েছে ১০। ফোর্বস ৪০০-এ স্থান পেতে এবার সর্বনিম্ন সীমা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪৪০ কোটি ডলার।

এ বছর সাতজন নতুন করে তালিকায় জায়গা করে নিয়েছেন। নতুন সাতজনই এআই খাতের উদ্যোক্তা হিসেবে উঠে এসেছেন।

এ বছর ফোর্বস ৪০০-এর সবচেয়ে কম বয়সী ১০ সদস্যের মোট সম্পদের পরিমাণ ১ হাজার ৬৯০ কোটি ডলার। ২০২৫ সালে যা ছিল ৩ হাজার ৫৭০ কোটি ডলার। এই পতনের প্রধান কারণ, কয়েকজন অতিধনী ব্যক্তি বয়সের কারণে এ বছর সবচেয়ে কম বয়সীদের তালিকা থেকে বাদ পড়েছেন। তাঁদের মধ্যে আছেন মেটার ৪২ বছর বয়সী সহপ্রতিষ্ঠাতা ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা মার্ক জাকারবার্গ, যাঁর সম্পদের পরিমাণ ২১ হাজার ২০০ কোটি ডলার; ৪১ বছর বয়সী ভেঞ্চার ক্যাপিটাল বিনিয়োগকারী জশ কুশনার, যাঁর সম্পদ ১ হাজার ৬৭ কোটি ডলার এবং ৪৩ বছর বয়সী এয়ারবিএনবির সহপ্রতিষ্ঠাতা নাথান ব্লেচারজিক, যাঁর সম্পদ ১ হাজার ১৯ কোটি ডলার।

দেখে নেওয়া যাক, শীর্ষ ১০ তরুণ ধনীর তালিকায় কারা আছেন—

১. গ্রেগ ব্রকম্যান, ৩৭; সম্পদের পরিমাণ: ২ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার; উৎস: ওপেনএআই

স্নাতক শেষ না করেই হার্ভার্ড ও এমআইটি ছেড়েছিলেন গ্রেগ ব্রকম্যান। ২৫ বছর বয়সে অর্থ লেনদেনের প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইপের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে নিয়োগ পান তিনি। ২৮ বছর বয়সে ইলন মাস্ক ও স্যাম অল্টম্যানের সঙ্গে অলাভজনক প্রতিষ্ঠান হিসেবে ওপেনএআই প্রতিষ্ঠা করেন ব্রকম্যান। ওপেনএআইয়ের প্রেসিডেন্ট হিসেবে এআই মডেলগুলোর পশ্চাৎ অবকাঠামো দেখভাল করেন তিনি। জুলাই থেকে পণ্য ব্যবসার দায়িত্বও তাঁর হাতে। শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্তির আগে তিনি ছিলেন প্রতিষ্ঠানটির দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ক্ষমতাধর কর্মকর্তা।

২. এডউইন চেন, ৩৮; সম্পদের পরিমাণ: ১ হাজার ৮০০ কোটি ডলার; সম্পদের উৎস: সার্জ এআই

ফ্লোরিডার ৩ হাজার ৪০০ মানুষের ছোট এক শহরে বেড়ে ওঠেন এডউইন চেন। তাঁর তাইওয়ানিজ অভিবাসী মা–বাবা সেখানে এক চীনা-থাই রেস্তোরাঁ চালাতেন। পরবর্তী সময় এমআইটিতে গণিত, ভাষাবিজ্ঞান ও কম্পিউটারবিজ্ঞানে পড়াশোনা করেন চেন। গুগল, ফেসবুক ও টুইটারে কাজ করেছেন তিনি। ২০২০ সালে সার্জ এআই প্রতিষ্ঠা করেন চেন। প্রতিষ্ঠানটি এআই মডেল প্রশিক্ষণের জন্য তথ্যের লেবেল তৈরি করে। পাশাপাশি এআইয়ের তৈরি উত্তর মূল্যায়ন ও সংশোধন করে তারা। চেনের হাতে কোম্পানিটির প্রায় ৭৫ শতাংশ মালিকানা আছে বলে ধারণা করা হয়।

৩. টম ব্রাউন, ৩৯; সম্পদের পরিমাণ: ১ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার; সম্পদের উৎস: অ্যানথ্রোপিক

কম্পিউটারবিজ্ঞান ও কগনিটিভ সায়েন্স নিয়ে এমআইটিতে পড়াশোনা করেন টম ব্রাউন। ওপেনএআইয়ের প্রথম ২০ কর্মীর একজন ছিলেন তিনি। ২০২০ সালে প্রকাশিত জিপিটি-৩ নিয়ে গবেষণাপত্রের প্রধান লেখক ছিলেন টম ব্রাউন। ওই ভাষা মডেল থেকেই প্রথম বোঝা যায়, এ ধরনের এআই কতটা সাবলীলভাবে লিখতে পারে। এরপরই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তায় বিনিয়োগের জোয়ার শুরু হয়, যে জোয়ার এখনো চলছে। অ্যানথ্রোপিক থেকেই তাঁরা আরেক এআই মডেল ক্লড তৈরি করেন।

৪. ড্যানিয়েলা অ্যামোডেই, ৩৯; সম্পদের পরিমাণ: ১ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার; সম্পদের উৎস: অ্যানথ্রোপিক

ইউনিভার্সিটি অব ক্যালিফোর্নিয়া, সান্তা ক্রুজ থেকে পড়াশোনা শেষ করে অর্থ লেনদেনের প্রতিষ্ঠান স্ট্রাইপে কাজ শুরু করেন ড্যানিয়েলা অ্যামোডেই। পরে ওপেনএআইয়ে যোগ দেন; দায়িত্বে ছিলেন নিরাপত্তা ও নীতি বিভাগের। ২০২১ সালে ভাই দারিও অ্যামোডেই ও পাঁচ সহকর্মীর সঙ্গে ওপেনএআই ছাড়েন তিনি। তাঁরা অ্যানথ্রোপিক প্রতিষ্ঠা করেন। ড্যানিয়েলা অ্যানথ্রোপিকের প্রেসিডেন্ট ও পরিচালনা পর্ষদের চেয়ারপারসন। গবেষণা, প্রকৌশল, পণ্য উন্নয়ন ও বাণিজ্যিক কার্যক্রমের দায়িত্ব তিনি দেখভাল করেন।

৫. জ্যাক ক্লার্ক, ৩৭; সম্পদের পরিমাণ: ১ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার; উৎস: অ্যানথ্রোপিক

ওপেনএআইয়ে যোগ দেওয়ার আগে ব্লুমবার্গের সাংবাদিক হিসেবে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা নিয়ে কাজ করেছেন জ্যাক ক্লার্ক। পরবর্তী সময়ে ওপেনএআইয়ের নীতিবিষয়ক পরিচালক হন তিনি। ২০২১ সালে অ্যানথ্রোপিকের প্রতিষ্ঠাতাদের সঙ্গে ওপেনএআই ছাড়ার পর থেকে এআই খাতে সরকারি নিয়ন্ত্রণের অন্যতম উল্লেখযোগ্য প্রবক্তা হয়ে ওঠেন তিনি। বর্তমানে অ্যানথ্রোপিকের গবেষণাকেন্দ্র পরিচালনা করছেন তিনি। এই গবেষণাকেন্দ্র এআই প্রযুক্তির সামাজিক প্রভাব নিয়ে কাজ করে।

৬. স্যাম ম্যাকক্যান্ডলিশ, ৩৬; সম্পদের পরিমাণ: ১ হাজার ৫৫০ কোটি ডলার; উৎস: অ্যানথ্রোপিক

স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয় থেকে তাত্ত্বিক পদার্থবিজ্ঞানে পিএইচডি করেন স্যাম ম্যাকক্যান্ডলিশ। পরবর্তী সময়ে ওপেনএআইয়ে যোগ দিয়ে এআইয়ের ‘স্কেলিং ল’ নিয়ে কাজ করেন। এই গবেষণায় দেখা যায়, এআই ব্যবস্থার কম্পিউটিং শক্তি বৃদ্ধি এবং বেশি তথ্য দেওয়া হলে তার সক্ষমতা বৃদ্ধি পায়। অ্যানথ্রোপিকের প্রধান প্রযুক্তি কর্মকর্তা হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। গত অক্টোবর থেকে তিনি প্রধান পরিকল্পনাকারী। কোম্পানির এআই মডেল কীভাবে তৈরি ও প্রশিক্ষিত হবে, সেটা দেখভাল করেন তিনি।

৭. ভ্লাদ টেনেভ, ৩৯; সম্পদের পরিমাণ: ৭১০ কোটি ডলার; সম্পদের উৎস: রবিনহুড

বুলগেরিয়ায় জন্ম নেওয়া ভ্লাদ টেনেভের মা–বাবা দুজনই বিশ্বব্যাংকের কর্মকর্তা ছিলেন। স্ট্যানফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ার সময় ফোর্বস ৪০০-এর আরেক সদস্য বাইজু ভাটের সঙ্গে তাঁর পরিচয় হয়। ভাটের বয়স ৪১ বছর। ২০১৩ সালে তাঁরা রবিনহুড চালু করেন। অ্যাপটি শেয়ার লেনদেনের ক্ষেত্রে কমিশন তুলে দেয়। পরবর্তী সময়ে অন্য ব্রোকারেজ প্রতিষ্ঠানগুলোও কমিশন কমাতে বা তুলে দিতে বাধ্য হয়। ২০২১ সালে রবিনহুড শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হয়। প্রতিষ্ঠানটির প্রায় ৬ শতাংশ শেয়ার টেনেভের মালিকানায় রয়েছে। টেনেভ ২০২৩ সালে প্রতিষ্ঠিত কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তাভিত্তিক স্টার্টআপ হারমোনিকেরও চেয়ারম্যান। প্রতিষ্ঠানটি গাণিতিক যুক্তি প্রয়োগে সক্ষম এআই নিয়ে কাজ করছে।

৮. পামার লাকি, ৩৩; সম্পদের পরিমাণ: ৫৯০ কোটি ডলার; উৎস: অ্যান্ডুরিল

কিশোর বয়সেই ভার্চ্যুয়াল রিয়েলিটি হেডসেট তৈরি করেন পামার লাকি। তাঁর নিজের প্রতিষ্ঠান ছিল অকুলাস। ২১ বছর বয়সে ২০০ কোটি ডলারের নগদ ও শেয়ারের বিনিময়ে ফেসবুকের কাছে অকুলাস বিক্রি করেন তিনি। ২০১৭ সালে ডোনাল্ড ট্রাম্পকে সমর্থন করে সমালোচিত হন। এরপর তিনি মেটা ছেড়ে চলে যান। সেবারই অ্যান্ডুরিল প্রতিষ্ঠা করেন লাকি। প্রতিষ্ঠানটি স্বয়ংক্রিয় ড্রোন, সেন্সর ও তা পরিচালনার জন্য এআইভিত্তিক সফটওয়্যার তৈরি করে। মার্চে মার্কিন সেনাবাহিনী সফটওয়্যার, হার্ডওয়্যার ও সংশ্লিষ্ট সেবার জন্য অ্যান্ডুরিলের সঙ্গে ১০ বছরের চুক্তি করে।

৯. স্টিভেন হাও, ৩০; সম্পদের পরিমাণ: ৫৮০ কোটি ডলার; উৎস: কগনিশন

কগনিশনের দুই সহপ্রতিষ্ঠাতার সঙ্গে স্টিভেন হাও আন্তর্জাতিক ইনফরমেটিকস অলিম্পিয়াডে স্বর্ণপদক পেয়েছেন। এরপর তিনি তথ্য লেবেলিং–বিষয়ক স্টার্টআপ স্কেল এআইয়ে প্রকৌশলী হিসেবে কাজ করেন। প্রতিষ্ঠানটির সহপ্রতিষ্ঠাতা ২৯ বছর বয়সী বিলিয়নিয়ার অ্যালেক্স ওয়াং। ২০২৫ সাল থেকে স্কেল এআইয়ের ৪৯ শতাংশ মালিকানা মেটার হাতে। ২০২৩ সালে স্কেল এআই ছেড়ে কগনিশন প্রতিষ্ঠা করেন হাও। প্রতিষ্ঠানটির প্রধান পণ্য ডেভিন একধরনের এআই এজেন্ট, যার কাজ হলো কোড লেখা ও সংস্কার করা। সেপ্টেম্বরে কগনিশন ২০০ কোটি ডলারের বিনিয়োগ সংগ্রহ করে। ফলে প্রতিষ্ঠানের তিন সহপ্রতিষ্ঠাতাই বিলিয়নিয়ার হন।

১০. লুকাস ওয়ালটন, ৩৯; সম্পদের পরিমাণ: ৪৪৪ কোটি ডলার; সম্পদের উৎস: ওয়ালমার্ট

ওয়ালমার্টের প্রতিষ্ঠাতা স্যাম ওয়ালটনের (মৃত্যু ১৯৯২) নাতি লুকাস ওয়ালটন। বাবার রেখে যাওয়া সম্পদের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছেন তিনি। এর বড় অংশই ওয়ালমার্টের শেয়ার। শিকাগোভিত্তিক বিনিয়োগ ও জনহিতকর প্রতিষ্ঠান বিল্ডার্স ভিশন পরিচালনা করেন ওয়ালটন। পরিবেশবান্ধব জ্বালানি, টেকসই খাদ্য ও সমুদ্র সংরক্ষণ খাতে প্রতিষ্ঠানটি ১ হাজার ৫০০ কোটি ডলারের বেশি সম্পদ ব্যবস্থাপনা করে। জুনে এনবিএর শিকাগো বুলসের কিছু শেয়ার কিনেছেন তিনি।

Read full story at source