বেহাল সড়কে ঝরা ধান থেকে চারা, ফলনও এসেছে
· Prothom Alo

সড়কটি পাকা ছিল, ভেঙে গেছে। ভাঙা সড়কের মাটি বের হয়ে আছে। ধানের বীজ পড়ে চারা হয়েছে। পরে সেই গাছের ধান পেকে গেছে; কিন্তু সড়কটি মেরামত বা পাকা হয়নি এখনো। এখন সড়কে পাকা ধানের শিষ বাতাসে দোল খাচ্ছে। এই চিত্র রাজশাহীর পবা-তানোর সড়কের। সড়কের ওই ধান পথচারী ও যাত্রীদের হাসি–তামাশার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
পবা উপজেলার বায়া মোড় থেকে তানোর উপজেলার কাশিমবাজার পর্যন্ত ৯ কিলোমিটার ভেঙে গেছে। গত এক বছর সেটি কাঁচা রাস্তায় পরিণত হয়েছে। সড়কে চলাচল করা মানুষের দুর্ভোগ চরমে উঠেছে। বায়ার মোড়ের দুটি স্থানে বড় দুটি গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। যানবাহন পার হতে গেলেই দেবে যায়। এলাকার লোকজন ওই দুটি স্থানে কাঠি পুঁতে তাতে চিপসের দুটি প্যাকেট রেখে দিয়েছেন, যাতে চালকদের চোখে পড়ে।
Visit newsbetting.bond for more information.
সড়কের বায়া মোড় থেকে কাশিমবাজারের দিকে যেতে প্রথম ৫০০ মিটার সড়কের মাটি বের হয়ে আছে। স্থানীয় লোকজন জানান, রাস্তার পাশে গত বৈশাখ মাসে ট্রাকে ধান বোঝাই করার সময় কিছু ধান ঝরে পড়েছিল। সেই ধান থেকে চারা বের হয়। ধীরে ধীরে সেই চারা বড় হয়। ধানের শিষ বের হয়। সেই ধান এখন পেকেছে। তবে যত ধান পেকেছে, তার চেয়ে আরও বেশি ধান এখনো শিষ বের হওয়ার অপেক্ষায় আছে।
হাসমত আলী, দোকানি গত বৈশাখ মাসে ধানের গাড়ি বোঝাই করার সময় কিছু ধান ঝরে পড়েছিল। তারপর সেই ধানের চারা হয়েছে। পাকা সড়কে ধানগাছের চারা গজানো দেখে তাঁরা রেখে দিয়েছেন।গত রোববার ওই সড়কে গিয়ে দেখা যায়, দোকানি হাসমত আলীর দোকানের সামনে ধান মোটামুটি পেকেছে। তিনি বলেন, গত বৈশাখ মাসে ধানের গাড়ি বোঝাই করার সময় কিছু ধান ঝরে পড়েছিল। তারপর সেই ধানের চারা হয়েছে। পাকা সড়কে ধানগাছের চারা গজানো দেখে তাঁরা রেখে দিয়েছেন। যত্ন করেছেন; কাউকে নষ্ট করতে দেননি। এখন সেই ধান পেকে গেছে।
এটা ‘প্রকৃতির প্রতিবাদ’ উল্লেখ করে হাসমত আলী বলেন, টানা এক বছর ধরে এই সড়কের যাত্রীদের দুর্ভোগ হচ্ছে। একটু বৃষ্টি হলে পথচারীদের কাদা মেখে বাড়ি যেতে হয়। রাস্তা দিয়ে একটি গাড়ি পার হতে গেলে পথচারীর গায়ে কাদা লাগবেই।
বৃহস্পতিবার খোঁজ নিয়ে জানা যায়, হাসমত আলী তাঁর দোকানের সামনে কয়েক ঝাড় ধান কেটে দোকানে রেখেছেন। মুঠোফোনে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, ধান পেকে ঝরে পড়ে যাচ্ছিল। তাই কেটে দোকানে রেখেছেন। এক ঝাড়েই এক কেজি ধান হয়েছে।
পাশের আরেক দোকানি আনোয়ার হোসেন বলেন, ‘রাস্তা খারাপ বলেই সুন্দর ধান হয়েছে। এটা একটি সৌন্দর্য। এই সৌন্দর্যই একটা প্রতিবাদ।’
বেসরকারি সংস্থার এক কর্মকর্তা রসিকতা করে বলেন, এবার বৃষ্টি বেশি হলে মানুষ রাস্তার গর্তে মাছ ছাড়বে।
ধানের ছবি তুলে নিয়ে পবা উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা আবদুল মান্নানকে দেখালে তিনি বলেন, এটা ব্রি-৮৭ অথবা ১০৩ জাতের হতে পারে। তবে ব্রি-৮৭ জাতের ধান হওয়ার সম্ভাবনাই বেশি। কারণ, ব্রি–১০৩ জাত এর চেয়ে একটু বেশি লম্বা হয়ে থাকে।
দুর্ঘটনা এড়াতে বেহাল সড়কে কাঠি পুঁতে তাতে চিপসের দুটি প্যাকেট ঝুলিয়ে রাখা হয়েছেজনদুর্ভোগের বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী মোহাম্মদ আলীর সঙ্গে বুধবার যোগাযোগ করা হলে তিনি মুঠোফোনে কোনো বক্তব্য দিতে চাননি। তাঁর কার্যালয়ে দেখা করতে বলেন। বৃহস্পতিবার নির্ধারিত সময়ে কার্যালয়ে গিয়ে তাঁকে পাওয়া যায়নি। মুঠোফোনে যোগাযোগ করলে তিনি বলেন, সাইটে আছেন। কতক্ষণ পরে আসবেন জানতে চাইলে বলেন, সাইটে এলেই সময় বেশি লেগে যায়। তিনি এসে কথা বলবেন। ঘণ্টাখানেক বসতে হবে। তবে তিনি আর আসেননি।
ঘণ্টাখানেক পর উপসহকারী প্রকৌশলী মসিউর রহমান সড়ক সংস্কারের বিষয়ে তথ্য দেন। তিনি বলেন, এই রাস্তা সংস্কারের জন্য ১৪ কোটি টাকার কিছু বেশি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। মে মাস থেকে কাজ শুরু হয়েছে। বৃষ্টির কারণে কাজ বন্ধ রয়েছে। তবে এজিংয়ের (সড়কের দুই পাশের মেরামত) কাজ চলছে। কাজের মেয়াদ রয়েছে এক বছর। আগামী মে মাসে কাজ শেষ হবে।
সড়কের বায়া মোড়ে মানুষের সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগ। সেখান থেকে কেন শুরু করা হয়নি, জানতে চাইলে মসিউর রহমান বলেন, এই জায়গায় ‘সয়েল কন্ডিশন’ খারাপ। তাই এখানে আরসিসি কনস্ট্রাকশন হবে। পরে কাজ শুরু হবে।