এক বছরের মধ্যেই বিয়ের আশ্বাস, ১৮ লাখ মানুষ মাত্র ৩ ঘন্টায় হাতে লাগিয়ে শেষ করল ৩৫০০ কেজি মেহেদি

· Prothom Alo

বিয়ের জন্য মানুষ কত কিছুই না করে! সাম্প্রতিক এক ভাইরাল ঘটনায় এক বছরের মধ্যে বিয়ের আশ্বাসে ১৮ লাখ মানুষ মাত্র ৩ ঘন্টায় হাতে লাগিয়ে শেষ করল ৩৫০০ কেজি মেহেদি।

Visit esporist.com for more information.

বিয়ে হবে—এমন বিশ্বাসে মেহেদি নিতে ছুটে এসেছেন লাখো মানুষ। কারও হাতে বিয়ের মেহেদি ওঠেনি। অনেকেরই আবার দীর্ঘদিনের অপেক্ষা।

View this post on Instagram

A post shared by HINDUSTAN (@hindustan)

বিয়ে হবে—এমন বিশ্বাসে মেহেদি নিতে ছুটে এসেছেন লাখো মানুষ

সেই অপেক্ষার অবসান ঘটবে পবিত্র মেহেদিতে-সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া এমন বিশ্বাসেই ভারতের রাজস্থানের জয়পুরের একটি মন্দিরে তৈরি হয়েছিল নজিরবিহীন ভিড়। মাত্র তিন ঘণ্টায় বিতরণ হয়ে গেছে প্রায় সাড়ে তিন হাজার কেজি মেহেদি। ঘটনাটি ঘটেছে জয়পুরের মোতি ডুংরি গণেশ মন্দিরে।

সেপ্টেম্বর ২০২৬-এ সিনজারা উৎসব উপলক্ষে সেখানে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয় এই মেহেদি। রাজস্থানের সোজাত থেকে আনা হয়েছিল প্রায় ৩ হাজার ৫০০ কেজি বা সাড়ে তিন টন মেহেদি। বিপুলসংখ্যক মানুষের চাহিদায় মাত্র তিন ঘণ্টার মধ্যেই পুরো মেহেদি শেষ হয়ে যায়।

এ সময় মন্দিরে ভিড় করেছিলেন প্রায় ১৮ লাখ ভক্ত ও দর্শনার্থী

বিভিন্ন প্রতিবেদন ও হিসাব অনুযায়ী, এ সময় মন্দিরে ভিড় করেছিলেন প্রায় ১৮ লাখ ভক্ত ও দর্শনার্থী। শুধু জয়পুর বা আশপাশের এলাকা থেকেই নয়, দিল্লি, চণ্ডীগড়, গুজরাট, মহারাষ্ট্র, পুনে, ইন্দোর, ভোপাল ও আগ্রাসহ ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে মানুষ সেখানে ছুটে আসেন।

এই আয়োজনের সঙ্গে জড়িয়ে আছে একটি বিশেষ ধর্মীয় বিশ্বাস। এই মেহেদি প্রসাদ হিসেবে ভক্তদের মধ্যে বিতরণ করা হয়। তবে এই মেহেদিকে ঘিরে মানুষের আগ্রহের পেছনে ধর্মীয় বিশ্বাসের পাশাপাশি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমেরও বড় ভূমিকা ছিল।

View this post on Instagram

A post shared by Aapnu Jaipur (@aapnu.jaipur)

বিভিন্ন রিলস ও ভিডিওতে ছড়িয়ে পড়ে, এই মেহেদি হাতে লাগালে বিয়ের বাধা দূর হতে পারে। এমনকি ছয় থেকে বারো মাসের মধ্যে বিয়ে হয়ে যাবে, এমন বিশ্বাসও ছড়িয়ে পড়ে। এরপর অবিবাহিত নারী-পুরুষের পাশাপাশি তাঁদের পরিবারের সদস্যরাও মেহেদি সংগ্রহের আশায় মন্দিরে আসতে শুরু করেন।

কেউ হয়তো নিজের বিয়ের অপেক্ষায়, কেউ আবার সন্তানের বিয়ের আশায়—এই বিশ্বাসকে কেন্দ্র করেই তৈরি হয় বিশাল জনসমাগম। মানুষের ঢলে মন্দিরসংলগ্ন এলাকায় তীব্র যানজট দেখা দেয়।

বিকেল হওয়ার আগেই মেহেদির মজুত শেষ হয়ে যায়

এমডি রোড ও জিএলএন রোডসহ স্থানীয় সড়কগুলোতে যান চলাচল ব্যাহত হয়। চাহিদা এতটাই বেশি ছিল যে বিকেল হওয়ার আগেই মেহেদির মজুত শেষ হয়ে যায়। ফলে অনেক মানুষ দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে মন্দিরে এসেও শেষ পর্যন্ত খালি হাতে ফিরে যান।

মেহেদি ভারতীয় উপমহাদেশের বিয়ে ও নানা উৎসবের সঙ্গে দীর্ঘদিন ধরেই জড়িয়ে আছে। বিয়ের আগে হাতে মেহেদি পরার রীতি শুধু সাজসজ্জার বিষয় নয়, এর সঙ্গে জড়িয়ে আছে নানা সামাজিক ও সাংস্কৃতিক বিশ্বাস।

এই আয়োজন সেই পরিচিত মেহেদিকেই নতুন করে আলোচনায় এনেছে

জয়পুরের এই আয়োজন সেই পরিচিত মেহেদিকেই নতুন করে আলোচনায় এনেছে—যেখানে বিয়ের আকাঙ্ক্ষা, ধর্মীয় বিশ্বাস আর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের প্রচার মিলেমিশে তৈরি করেছে লাখো মানুষের এক ব্যতিক্রমী সমাগম।

সূত্র: দ্য নিউ ইন্ডিয়ান এক্সপ্রেস

ছবি: ইন্সটাগ্রাম

Read full story at source