লোকালয়ে দেখা সেই কুমিরের এখনো হদিস পাওয়া যায়নি, আতঙ্কে এলাকাবাসী

· Prothom Alo

নারায়ণগঞ্জের বন্দরে লোকালয়ে দেখা কুমিরটির এখনো কোনো খোঁজ পাওয়া যায়নি। তিন দিন আগে যে পুকুরে কুমিরটিকে নামতে দেখা গিয়েছিল, সেখানে কচুরিপানায় ভরা। পানির ওপর সবুজ কচুরিপানার আস্তরণ, কোথাও কিছুটা ফাঁকা। সেই পানিতে কুমিরটি লুকিয়ে আছে কি না, তা নিশ্চিত করে বলতে পারছেন না কেউ। কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত করতে ব্যর্থ হয়েছে উদ্ধারকারী দলও। এদিকে আশপাশের মানুষের মধ্যে কুমির নিয়ে আতঙ্ক বিরাজ করছে।

এ বিষয়ে বন্দর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শিবানী সরকার আজ মঙ্গলবার প্রথম আলোকে বলেন, কুমিরটির অবস্থান এখনো শনাক্ত করা যায়নি। বন বিভাগের কর্মকর্তারা কুমিরটির অবস্থান শনাক্তের চেষ্টা করছে।

Visit moryak.biz for more information.

ইউএনও বলেন, পুকুরে কুমিরটির অবস্থান শনাক্ত করা গেলে প্রয়োজনে পুকুরের পানি সেচে হলেও সেটিকে উদ্ধার করা হবে।

গত শনিবার রাতে নারায়ণগঞ্জের বন্দরের তিনগাঁও এলাকায় প্রথম কুমিরটি দেখা যায়। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওতে কুমিরটিকে লোকালয়ে চলাচল করতে দেখা গেছে। পরে লোকজন ধাওয়া দিয়ে কুমিরটিকে পুকুরের পানিতে নিয়ে যান।

স্থানীয় লোকজনের ভাষ্য, কুমিরটি পুকুরের পানিতে নেমে যায়। পরে সেটি কোথায় গেছে, তা আর দেখা যায়নি। কুমিরটি ধরতে রোববার বন বিভাগ, প্রাণিসম্পদ ও বন্য প্রাণী সংরক্ষণ অধিদপ্তরের উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা পুকুরে জাল ফেলেও সফল হননি।

বন্দর উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা আল মাহমুদ হাছান প্রথম আলোকে বলেন, কুমিরটি পুকুরে নামার পর কোথায় গেছে, তা শনাক্ত করা যায়নি। সেটি এখনো সেখানে আছে কি না, সেটিও তাঁরা জানেন না। স্থানীয় লোকজন পুকুরে মুরগি রেখে দিয়েছেন, যাতে কুমিরটি খাবারের জন্য ওপরে উঠলে সেটির অবস্থান শনাক্ত করা যায়। তাঁরা ও বন বিভাগের লোকজন কুমিরটি উদ্ধারের জন্য প্রস্তুত রয়েছেন। নিয়মিত খোঁজখবর রাখা হচ্ছে।

নারায়ণগঞ্জের বন্দরের তিনগাঁও এলাকার এই পুকুরে কুমিরটিকে নামতে দেখেছিল এলাকাবাসী। এখনো সেটির অবস্থান জানা যায়নি

আল মাহমুদ হাছান আরও বলেন, কুমিরটি আক্রমাত্মক স্বভাবের নয়। তবে মানুষের যাতে কোনো ক্ষতি না হয়, সে বিষয়টি তাঁরা দেখছেন। স্থানীয় লোকজনকে সতর্ক করা হয়েছে।

কুমিরটি উদ্ধারের বন্য প্রাণী উদ্ধারকারী দল প্রস্তুত রয়েছে বলে জানিয়েছেন বন্দর উপজেলা বন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, এ পর্যন্ত কুমিরের অবস্থান শনাক্ত করা যায়নি। স্থানীয় লোকজনকে বলা হয়েছে, কুমিরটি দেখামাত্র বন বিভাগকে খবর দিতে। খবর পেলেই বন্য প্রাণী উদ্ধারকারী দলের সদস্যরা এসে কুমিরটি উদ্ধার করে নিয়ে যাবেন।

কুমিরটি কোথা থেকে এসেছে, সেটিও এখনো পরিস্কার নয়। বন কর্মকর্তা কামরুল ইসলাম বলেন, আশপাশে কোনো নদী নেই। নিকটবর্তী নদীও বেশ দূরে। ফলে কুমিরটি কীভাবে তিনগাঁওয়ের ওই এলাকায় এসেছে, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে লোকালয়ে কুমির দেখার পর থেকে ওই এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে আতঙ্ক বিরাজ করছে। ওই এলাকার বাসিন্দা আনোয়ার হোসেন বলেন, কুমিরটি উদ্ধার না হওয়া পর্যন্ত আমরা সবাই আতঙ্কে আছি। মানুষের ক্ষতি হওয়ার আগেই কুমিরটি উদ্ধার হোক, সেটিই আমরা চাই।

কুমিরটি দেখার পর স্থানীয় বাসিন্দাদের সতর্ক করতে এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। সোমবার উপজেলা প্রশাসনের পক্ষ থেকেও গণবিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। এতে পুকুর বা পুকুরের পাড়ে না যেতে, কুমিরের কাছে গিয়ে ছবি ও ভিডিও না করতে বলা হয়েছে। শিশু ও গবাদিপশুকে পুকুরের কাছে না নেওয়ার জন্যও সতর্ক করা হয়েছে।

নারায়ণগঞ্জে লোকালয়ে ঘুরছিল কুমির, কীভাবে এল জানে না কেউ

Read full story at source