আঁচিল কেন হয়, কীভাবে ছড়ায়, চিকিৎসা কেন দরকার
· Prothom Alo

ত্বকের একটি পরিচিত সমস্যা হলো ভাইরাল ওয়ার্ট, যা আমাদের দেশে সাধারণভাবে আঁচিল নামে পরিচিত। এটি আসলে হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস বা এইচপিভির সংক্রমণের কারণে সৃষ্ট ত্বকের ওপর ছোট, শক্ত, খসখসে বা মাংসল গুটির মতো জিনিস।
Visit asg-reflektory.pl for more information.
বেশির ভাগ ক্ষেত্রে আঁচিল ক্ষতিকর নয় এবং ক্যানসারে রূপ নেয় না। তবে এটি দেখতে অস্বস্তিকর হতে পারে, শরীরের অন্য অংশে ছড়িয়ে পড়তে পারে এবং বিশেষ করে পায়ের তলায় হলে হাঁটার সময় চাপ পড়ে ব্যথার অনুভূতি হতে পারে, অনেক সময় গলায় ঘাড়ে কাপড়ের ঘষা লেগেও ব্যথা করে।
কেন হয়, কীভাবে ছড়ায়
হিউম্যান প্যাপিলোমা ভাইরাস ত্বকের ওপরের স্তরে প্রবেশ করে কোষের সংখ্যা বৃদ্ধি হলে আঁচিল তৈরি হয়। ত্বকে ছোটখাটো কাটা, ফাটল বা ক্ষত থাকলে ভাইরাস সহজে প্রবেশ করতে পারে। অনেকেই জানেন না, আঁচিল কিন্তু সংক্রামক, মানে একজন থেকে আরেকজনে ছড়ায়।
আক্রান্ত ব্যক্তির আঁচিল সরাসরি স্পর্শের মাধ্যমে সংক্রমণ হতে পারে। এ ছাড়া তোয়ালে, রেজার বা অন্যান্য ব্যক্তিগত সামগ্রী ভাগাভাগি করলেও সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে। নিজের আঁচিল খোঁচানো, কামড়ানো বা ঘষার মাধ্যমে শরীরের অন্য স্থানেও এটি ছড়িয়ে যেতে পারে।
আঁচিলের ধরন
শরীরের অবস্থান ও আকৃতির ওপর ভিত্তি করে ভাইরাল ওয়ার্ট বিভিন্ন ধরনের হয়।
কমন ওয়ার্ট: সাধারণত হাত, আঙুল, নখের আশপাশ ও কনুইতে হয়। এগুলো শক্ত ও খসখসে হয়।
প্ল্যান্টার ওয়ার্ট: পায়ের তলায় হয়। হাঁটার সময় চাপ পড়ায় এগুলো ত্বকের ভেতরের দিকে বাড়তে পারে এবং ব্যথা হতে পারে। ছোট কালো বিন্দুও দেখা যেতে পারে।
ফ্ল্যাট ওয়ার্ট: ছোট, মসৃণ ও চ্যাপটা ধরনের আঁচিল। মুখ, হাত বা পায়ে একসঙ্গে অনেকগুলো হতে পারে।
ফিলিফর্ম ওয়ার্ট: সরু ও সুতার মতো লম্বাটে হয় এবং সাধারণত মুখমণ্ডলের আশপাশে দেখা যায়।
জেনিটাল ওয়ার্ট: যৌনাঙ্গ বা তার আশপাশে হয়। নির্দিষ্ট ধরনের এইচপিভির কারণে এটি হয় এবং সাধারণত যৌন সংস্পর্শের মাধ্যমে ছড়ায়। তাই এটি একটি যৌনবাহিত সংক্রমণ হিসেবে বিবেচিত।
কীভাবে বুঝবেন
ত্বকের ওপর শক্ত বা মাংসল গুটি, খসখসে উপরিভাগ এবং কখনো ছোট কালো বিন্দু—আঁচিলের সাধারণ বৈশিষ্ট্য। তবে সব ধরনের ত্বকের গুটি আঁচিল নয়। দ্রুত বৃদ্ধি, রক্তপাত বা অস্বাভাবিক পরিবর্তন দেখা দিলে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়া প্রয়োজন।
চিকিৎসা কী
অনেক আঁচিল কোনো চিকিৎসা ছাড়াই কয়েক মাস থেকে কয়েক বছরের মধ্যে নিজে থেকেই সেরে যায়। তবে ব্যথা, দ্রুত ছড়িয়ে পড়া বা সৌন্দর্যগত কারণে চিকিৎসার প্রয়োজন হতে পারে।
কী করবেন, কী করবেন না
আঁচিল খোঁচানো, কামড়ানো বা ঘষা থেকে বিরত থাকা উচিত।
ব্যক্তিগত সামগ্রী অন্যের সঙ্গে ভাগাভাগি না করাই ভালো।
বাড়িতে ব্লেড দিয়ে কেটে ফেলা, সুতা দিয়ে বাঁধা, কিংবা চুন-সুপারি বা কোনো ক্ষতিকর রাসায়নিক ব্যবহার করা উচিত নয়।
এতে রক্তপাত, সংক্রমণ, পোড়া ও স্থায়ী দাগ হতে পারে।
আঁচিল দ্রুত বাড়লে, অনেকগুলো নতুন আঁচিল হলে, ব্যথা বা রক্তপাত হলে কিংবা গুটিটি আঁচিল কি না, তা নিয়ে সন্দেহ থাকলে চর্মরোগ বিশেষজ্ঞের পরামর্শ নেওয়া উচিত।
ডা. পীযুষ পাল, সহকারী অধ্যাপক, চর্ম ও যৌনরোগ বিভাগ, গ্রিন লাইফ মেডিকেল কলেজ, ঢাকা