প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষক নিয়োগের দাবিতে দুই জেলায় অনশন

· Prothom Alo

সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক পদে নিয়োগের দাবিতে আজ বুধবার ময়মনসিংহ ও জামালপুরে অনশন কর্মসূচি পালন করা হয়েছে।

Visit sportbet.rodeo for more information.

নিয়োগের তালিকায় না থাকা ১১ জন প্রার্থী ময়মনসিংহ জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অনশন শুরু করেন। নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত তাঁরা কর্মসূচি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন।

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলে ময়মনসিংহ জেলায় ২৫৯ জন প্রার্থী চূড়ান্ত নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েছিলেন। জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের তথ্য অনুযায়ী, তাঁদের ১৮ জন প্রয়োজনীয় কাগজপত্র জমা দেননি। বাকি ২৪১ জনের মধ্যে ২১৯ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। এখনো ২২ জনের নিয়োগ স্থগিত রয়েছে।

ওই ২২ জনের মধ্যে ১১ জন আজ বেলা ১১টা থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের সামনে অনশনে বসেন। ওই প্রার্থীরা বলছেন, তাঁরা কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন। তাঁদের বিরুদ্ধে কোনো ফৌজদারি মামলা বা রাষ্ট্রবিরোধী কর্মকাণ্ডে যুক্ত থাকার তথ্যও তাঁদের জানা নেই। তারপরও গোয়েন্দা প্রতিবেদনের কথা বলে নিয়োগপত্র আটকে রাখা হয়েছে। তাঁদের দাবি, প্রতিবেদনে কোনো ভুল বা অসংগতি থাকলে তা পুনরায় যাচাই করে তাঁদের নিয়োগের ব্যবস্থা করা হোক।

ফুলপুর উপজেলার কাজী অনিক বললেন, সহকারী শিক্ষক পদে সুপারিশপ্রাপ্ত হওয়ার সময় তাঁর গণপূর্ত অধিদপ্তরে নকশাকার পদেও নিয়োগ হয়েছিল। প্রাথমিকের চাকরিতে যোগ দেবেন, এই আশায় সেখানে যোগ দেননি। তিনি বলেন, ‘আমাকে কী কারণে বাদ দেওয়া হয়েছে, তা আমি জানি না। শুধু বলা হয়েছে, ভেরিফিকেশনে রিপোর্ট নেগেটিভ। আমি কখনো কোনো রাজনৈতিক দলের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলাম না। আমাদের দাবি, আজকের মধ্যে নিয়োগপত্র দেওয়া হোক।’

২২ জনের নিয়োগ কেন স্থগিত, তা জানতে চাইলে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মো. শফিকুল ইসলাম প্রথম আলোকে বলেন, গোয়েন্দা প্রতিবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই তাঁদের নিয়োগ স্থগিত আছে। তবে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তাঁরা এ নিয়ে কাজ করছেন।

জামালপুরে প্রাথমিক শিক্ষক নিয়োগের প্রার্থীদের দ্বিতীয় দিনের মতো অনশনে বাদ পড়া প্রার্থীরা। আজ দুপুরে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে

জামালপুরে দ্বিতীয় দিনের মতো অনশন

নিয়োগের জন্য সুপারিশ পেয়েও নিয়োগপত্র না পাওয়া জামালপুরের ৫১ প্রার্থী দ্বিতীয় দিনের মতো আজ অনশন করছেন। আজ সকাল থেকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ের বারান্দায় অবস্থান নিয়ে তাঁরা এ কর্মসূচি শুরু করেন। নিয়োগপত্র না পাওয়া পর্যন্ত অনশন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছেন তাঁরা।

দুপুর ১২টার দিকে জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয়ে গিয়ে দেখা যায়, বারান্দার সামনে সারি করে বসে আছেন ২৫ থেকে ৩০ প্রার্থী। কারও হাতে নিয়োগসংক্রান্ত কাগজপত্র, কারও হাতে প্ল্যাকার্ড। আবার একজনের গায়ে কাফনের কাপড়। কারও কারও মাথায় জাতীয় পতাকা বাঁধা।

জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কার্যালয় ও প্রার্থীদের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, জামালপুর জেলায় সহকারী শিক্ষক পদে ১৩৬ জন চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য সুপারিশপ্রাপ্ত হন। তাঁদের মধ্যে প্রথম ধাপে ৮৪ জনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়। পরে দ্বিতীয় ধাপে গত সোমবার আরও একজনকে নিয়োগপত্র দেওয়া হয়েছে। এখনো ৫১ প্রার্থী নিয়োগপত্র পাননি।

সরকারের ভাষ্য

সহকারী শিক্ষক নিয়োগ পরীক্ষা ২০২৫-এর ফলাফলের ভিত্তিতে ৬১ জেলায় ১৪ হাজার ৩৮৪ জনকে চূড়ান্তভাবে নিয়োগের জন্য গত ৮ ফেব্রুয়ারি সুপারিশ করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের ওয়েবসাইটে ফল প্রকাশ করা হয়। নিয়মানুযায়ী, এরপর যাচাই (ভেরিফিকেশন) করে চূড়ান্ত নিয়োগ দেওয়া হয়। ২৪ সেপ্টেম্বর নিয়োগপ্রাপ্ত ব্যক্তিদের তালিকা প্রকাশ করে প্রতিটি জেলা প্রাথমিক শিক্ষা অফিস। তাঁদের ১ অক্টোবরের মধ্যে যোগ দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। কিন্তু দেখা যায়, আগে সুপারিশ পাওয়া অনেকের নাম নিয়োগের তালিকায় নেই। এর পর থেকে প্রতিক্রিয়ার সৃষ্টি হয়। নিয়োগের তালিকায় নাম না থাকায় প্রার্থীরা নিয়োগের দাবিতে ঢাকার শাহবাগে আন্দোলনেও নামেন। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক সমালোচনা শুরু হয়। পরে আবার প্রথমে বাদ পড়া প্রার্থীদের অনেকে নিয়োগের তালিকায় যুক্ত হতে শুরু করেছেন।

এ বিষয়ে সোমবার সচিবালয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে শিক্ষা এবং প্রাথমিক ও গণশিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহছানুল হক মিলন বলেছেন, প্রাথমিক বিদ্যালয়ে সহকারী শিক্ষক নিয়োগে চূড়ান্ত সুপারিশপ্রাপ্ত প্রার্থীদের পর্যায়ক্রমে নিয়োগপত্র দেওয়া হচ্ছে। ১ অক্টোবর পর্যন্ত এ প্রক্রিয়া চলবে। তখন চূড়ান্তভাবে জানা যাবে কতজন বাদ গেল। এরপর সেগুলোর বিষয়ে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হবে।

Read full story at source