জালিয়াতি করে বাড়ি লিখে নিয়ে বৃদ্ধা মাকে ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ
· Prothom Alo

ময়মনসিংহ নগরের ভাটিকাশর এলাকায় প্রতারণার মাধ্যমে পাঁচতলা বাড়ি নিজের নামে লিখে নেওয়ার পর বৃদ্ধা মাকে ভরণপোষণ না দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে এক মেয়ের বিরুদ্ধে। বাড়িভাড়া থেকেও তাঁকে বঞ্চিত করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেন ৮০ বছর বয়সী রহিমা খাতুন।
Visit aportal.club for more information.
আজ রোববার দুপুরে ময়মনসিংহ প্রেসক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে রহিমা খাতুন এ অভিযোগ করেন। তিনি অবসরপ্রাপ্ত শিক্ষক। স্বামী মারা গেছেন। তাঁর দুই মেয়ে।
সংবাদ সম্মেলনে রহিমা খাতুন বলেন, প্রায় ২৫ বছর আগে তাঁর মেয়ে ফারজানা সুলতানা ও তাঁর স্বামী মিলে প্রতারণার মাধ্যমে বাড়িটি নিজেদের নামে লিখে নেন। এরপর মেয়ের আচরণে পরিবর্তন আসে। বর্তমানে বাড়ির একটি অংশে তিনি থাকেন। অন্য ফ্ল্যাটগুলো ভাড়া দেওয়া হয়েছে। কিন্তু ভাড়ার টাকার বেশির ভাগই মেয়ে নিয়ে যান। বয়সজনিত নানা রোগে আক্রান্ত হলেও অর্থাভাবে তিনি নিয়মিত ওষুধ কিনতে পারছেন না।
মেয়ের কাছে ভরণপোষণ চাইলে খারাপ আচরণ করা হয় এবং তাঁর (রহিমা) পক্ষে কথা বললে অন্যদের হয়রানি করা হয় বলে অভিযোগ করেন রহিমা খাতুন। ফারজানার স্বামী সরকারের একজন অতিরিক্ত সচিব, তাঁর প্রভাব খাটিয়ে বাড়িতে পুলিশ পাঠিয়ে তাঁকে হুমকিও দেওয়া হয়েছে বলে তিনি অভিযোগ করেন। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বাড়িটি ফেরত পাওয়ার পাশাপাশি ভরণপোষণ আইনে মেয়ে ও মেয়ের স্বামীর বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানান।
তবে মায়ের এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন ফারজানা সুলতানা। তিনি মুঠোফোনে প্রথম আলোকে বলেন, ‘আমার মায়ের অভিযোগগুলো ভিত্তিহীন। বাড়িটি আমার বোনকে ২০০৫ সালে এবং আমাকে ২০০৯ সালে দেওয়া হয়েছে। তাহলে আমি কীভাবে প্রতারণা করে বাড়িটি নিয়েছি?’ তিনি বলেন, তাঁর মা যে বাড়িতে থাকেন, সেটি নিয়ে বিরোধ তৈরি হয়েছে তাঁর মায়ের বোনসহ কয়েকজন আত্মীয়ের কারণে। তাঁরা বাড়িটি ডেভেলপারের কাছে দেওয়ার জন্য মাকে প্রভাবিত করছেন।
ভরণপোষণ না দেওয়ার বিষয়ে ফারজানা বলেন, বাড়ির দুটি ফ্ল্যাট থেকে ভাড়া বাবদ পাওয়া অর্থের ২৭ হাজার টাকা প্রতি মাসে মাকে দেওয়া হয়। তিনি বলেন, তিনি নিয়মিত মাকে দেখতে যান। তবে মায়ের করা মামলার কারণে সেখানে যেতে ভয় পান। তিনি বলেন, ‘আমার মা অত্যন্ত ভদ্র মানুষ। তিনি একা দুই মেয়েকে মানুষ করেছেন। তাঁর প্রতি আমার কোনো অভিযোগ নেই।’