এখন পর্যন্ত মাত্র একজন রোগী অপটোজেনেটিকস থেকে সরাসরি উপকৃত হয়েছেন—গেওর্গ নাগেল, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী

· Prothom Alo

২০২৬ সালে চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেল পাওয়া তিন বিজ্ঞানীর একজন জার্মান বিজ্ঞানী গেওর্গ নাগেল। পিটার হেগেম্যান এবং কার্ল ডাইসারোথের সঙ্গে যৌথভাবে তিনি অপটোজেনেটিকস নিয়ে যুগান্তকারী কাজের জন্য এই পুরস্কার জিতেছেন। সবুজ শৈবাল থেকে চ্যানেলরোডপসিন নামে বিশেষ প্রোটিন আলাদা করে স্নায়ুবিজ্ঞানে আলোড়ন তুলেছিলেন তিনি। নোবেল কমিটির থমাস পার্লম্যানের কাছ থেকে যখন নোবেল জয়ের ফোনটি আসে, নাগেল তখন ইতালির এক পাহাড়ি এলাকায় জলপাই ও লেবুগাছের ঘেরাটোপে রোদ পোহাচ্ছিলেন! চলুন, নোবেল প্রাইজের ওয়েবসাইটের অ্যাডাম স্মিথের সঙ্গে তাঁর ফোনালাপটি পড়ে নিই। সাক্ষাৎকারটি বাংলায় রুপান্তর করেছেন শিউলী সুলতানা।

Visit somethingsdifferent.biz for more information.

অ্যাডাম স্মিথ: হ্যালো। আমি অ্যাডাম স্মিথ বলছি। আমি কি গেওর্গ নাগেলের সঙ্গে কথা বলছি?

গেওর্গ নাগেল: হ্যাঁ।

অ্যাডাম স্মিথ: নোবেল পুরস্কার জেতার জন্য আপনাকে অনেক অনেক অভিনন্দন। থমাস পার্লম্যানের কাছ থেকে খবরটা শোনার পর আপনার প্রথম প্রতিক্রিয়া কী ছিল?

গেওর্গ নাগেল: আমি ভীষণ অবাক হয়েছিলাম! ঠিক যেমনটা অবাক হয়েছিলাম ৬ বছর আগে শ প্রাইজ পাওয়ার খবর শুনে। আমি ভাবতেই পারিনি যে সামনে আরও কোনো পুরস্কার আসতে পারে। আমি ধরে নিয়েছিলাম এসব পাট চুকে গেছে। তাই সত্যি বলতে আমি একদমই আশা করিনি। আমার কিছু বন্ধু আছে, যারা প্রতি বছর অক্টোবরের এই সময়টায় নোবেল ঘোষণার দিকে তীক্ষ্ণ নজর রাখে। আমি সবসময় তাদের বলতাম, ‘আরে, শান্ত থাকো!’

বিজ্ঞানী গেওর্গ নাগেল

কারণ, আমার জানামতে এখন পর্যন্ত মাত্র একজন রোগী অপটোজেনেটিকস থেকে সরাসরি উপকৃত হয়েছেন। ম্যালেরিয়ার ওষুধ বা ক্যানসারের চেকপয়েন্ট ইনহিবিটরের মতো তো হাজার হাজার মানুষ এর সুফল পায়নি। তাই আমার মনে হয়েছিল, চিকিৎসাবিজ্ঞানে অপটোজেনেটিকসের জন্য নোবেল পাওয়াটা বোধ হয় একটু বেশিই তাড়াতাড়ি হয়ে যাচ্ছে!

অ্যাডাম স্মিথ: কিন্তু এটি তো আমাদের ভেতরের যোগাযোগ ব্যবস্থা বোঝার ধারণাই পুরোপুরি বদলে দিয়েছে...

গেওর্গ নাগেল: হ্যাঁ, মস্তিষ্কের ভেতরের যোগাযোগ। সেটা তো বটেই।

অনেক জায়গায় কাজ করে ও শিখে নিজের মস্তিষ্ককে প্রস্তুত করেছি—রসায়নে নোবেলজয়ী সুসুমু কিতাগাওয়া
আমি ভীষণ অবাক হয়েছিলাম! ঠিক যেমনটা অবাক হয়েছিলাম ৬ বছর আগে শ প্রাইজ পাওয়ার খবর শুনে। আমি ভাবতেই পারিনি যে সামনে আরও কোনো পুরস্কার আসতে পারে।

অ্যাডাম স্মিথ: খবরটা আপনি কোথায় বসে পেলেন? আপনি এখন কোথায় আছেন?

গেওর্গ নাগেল: আমি এখন ইতালিতে আছি। ইতালির একটা পাহাড়ি অঞ্চলে। একদম খুব উঁচু পাহাড় নয়, নেপলস ও রোমের মাঝামাঝি একটা প্রাক-পাহাড়ি এলাকায়। আমার স্ত্রীর বাড়ি ইতালির নেপলসে, আর আমি থাকি জার্মানির উর্জবার্গে। যেহেতু আমরা এখন অবসর নিয়েছি, তাই শীতকালটা সাধারণত নেপলস বা এর আশপাশেই কাটাই। উর্জবার্গের চেয়ে এখানে গড়ে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস বেশি গরম থাকে। এখানে জার্মানির মতো কুয়াশা বা মেঘলা আবহাওয়াও থাকে না।

অ্যাডাম স্মিথ: শুনে তো মনে হচ্ছে খবরটা পাওয়ার জন্য আপনি চমৎকার এবং বেশ সুরক্ষিত একটা জায়গায় আছেন। আপনাকে খুঁজতে মানুষের বেশ বেগ পেতে হবে!

গেওর্গ নাগেল: ঠিক বলেছেন। আমি এখন খোলা ছাদে রোদের মধ্যে বসে আছি। নিচে জলপাইয়ের বাগান, আর আমার ঠিক পাশেই একটা লেবুগাছ। পরিবেশটা দারুণ। আমার কোনো অভিযোগ নেই!

এখন জীবন্ত প্রাণীর ভেতরটাও আমরা নিখুঁতভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে পারি— কার্ল ডাইসারোথ, চিকিৎসাবিজ্ঞানে নোবেলজয়ী
ইতালির একটা পাহাড়ি অঞ্চলে। একদম খুব উঁচু পাহাড় নয়, নেপলস ও রোমের মাঝামাঝি একটা প্রাক-পাহাড়ি এলাকায়। আমার স্ত্রীর বাড়ি ইতালির নেপলসে, আর আমি থাকি জার্মানির উর্জবার্গে।

অ্যাডাম স্মিথ: আমার মনে হয়, নোবেল পাওয়ার খবর শোনার জন্য এর চেয়ে সুন্দর জায়গা আর হতে পারে না! অসাধারণ। আচ্ছা, আপনাদের এই অবিশ্বাস্য চ্যানেলরোডপসিন আবিষ্কারের কথায় আসি। এটা যে সত্যিই আলো দিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়, তা প্রমাণ করতে তো আপনাদের বেশ কাঠখড় পোড়াতে হয়েছিল।

গেওর্গ নাগেল: হ্যাঁ, শুরুর দিকটা বেশ কঠিন ছিল। তবে আমি একটু ভাগ্যবানও ছিলাম। শুরুতে পিএইচ লেভেল কম থাকা কিছু ভুল দ্রবণ নিয়ে কাজ করছিলাম। কিন্তু হঠাৎ আমি খুব পরিষ্কার একটা সংকেত পেয়ে যাই। তখনই আমি বুঝতে পারি আসল ব্যাপারটা কী। এরপর যখন চ্যানেলরোডপসিন-২ নিয়ে কাজ শুরু করলাম, তখন সবকিছু অনেক সহজ হয়ে গেল। এ কারণেই কার্ল ডাইসারোথ যখন তাঁর রিভিউতে লিখেছিলেন, এটা খুব ঝুঁকিপূর্ণ একটা প্রজেক্ট ছিল, তখন আমি একটু অবাকই হয়েছিলাম।

জার্মান বিজ্ঞানী গেওর্গ নাগেল

কারণ, এই প্রোটিনটা যখন ল্যাবের সাধারণ কোষেই এত সুন্দরভাবে কাজ করছিল, তখন সেটা নিউরন বা স্নায়ুকোষে কাজ করবে না কেন? সে যাই হোক, ডাইসারোথ কিন্তু এটাকে সবার কাছে পৌঁছে দিতে, এর জনপ্রিয়তা বাড়াতে এবং খুব সুন্দর করে সবার সামনে ব্যাখ্যা করতে দারুণ মুন্সিয়ানা দেখিয়েছেন। স্নায়ুবিজ্ঞানে এই আবিষ্কারের সাফল্যের পেছনে তাঁর অবদান আসলেই অনেক গুরুত্বপূর্ণ।

অ্যাডাম স্মিথ: বাহ, ব্যাপারটা খুব মজার। মানুষ কীভাবে ঝুঁকিকে দেখে, কেউ ভাবেন এটা কাজ করবে আর কেউ ভাবেন করবে না। এই আত্মবিশ্বাসের পার্থক্যটা বেশ ইন্টারেস্টিং। আপাতত আপনাকে আর বিরক্ত করছি না। আপনার এই আনন্দের মুহূর্তটা উপভোগ করুন, উদ্‌যাপন করুন। আপনার সঙ্গে কথা বলে ভীষণ আনন্দ পেলাম। ধন্যবাদ।

গেওর্গ নাগেল: আপনাকেও ধন্যবাদ। অনেক অনেক ধন্যবাদ। আমারও খুব ভালো লেগেছে। বিদায়।

‘আমাদের ডজনখানেক সদস্যকে পোষা পশুর সঙ্গে একটি ছোট্ট ঘরে থাকতে হতো’—রসায়নে নোবেলজয়ী ওমর ইয়াঘি

Read full story at source